প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার ইতিহাসে ঘটে গেল এক অভূতপূর্ব ও নজিরবিহীন ঘটনা। বিধানসভা অধিবেশন বা প্রশাসনিক কাজকর্মের অন্যতম প্রধান স্তম্ভ, প্রধান মার্শাল দেবব্রত মুখোপাধ্যায়কে সাসপেন্ড করা হলো। রাজ্য বিধানসভার দীর্ঘ ইতিহাসে এই প্রথম কোনো কর্মরত মার্শালকে এভাবে পদচ্যুত বা সাসপেন্ড করার মতো চরম পদক্ষেপ নেওয়া হলো। মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) সন্ধ্যায় বিধানসভা সচিবালয়ের পক্ষ থেকে এই সাসপেনশনের লিখিত নির্দেশিকা জারি করা হয়, যা বুধবার (৫ আগস্ট) দুপুরে প্রকাশ্যে আসে।
বিধানসভা এবং প্রশাসনিক সূত্রের খবর অনুযায়ী, মার্শাল দেবব্রত মুখোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে একাধিক নিয়ম-রীতি বিরোধী আচরণ, দায়িত্ব পালনে গুরুতর গাফিলতি এবং ঔদ্ধত্যের অভিযোগ উঠেছে। একাধিক বর্তমান ও প্রাক্তন বিধায়ক তাঁর বিরুদ্ধে আচরণগত এবং দায়িত্ব পালনে অনীহার লিখিত অভিযোগ জানান। অভিযোগ ছিল, নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি তথা বিধায়কদের সঙ্গে তিনি প্রয়োজনীয় ও শালীন আচরণ করছিলেন না। জুলাই মাসের প্রথম সপ্তাহে লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার উপস্থিতিতে নবনির্বাচিত বিধায়কদের জন্য একটি বিশেষ দুই দিনের ওরিয়েন্টেশন বা প্রশিক্ষণ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছিল। অভিযোগ উঠেছে, সেই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচিতেও মার্শাল হিসেবে দেবব্রত মুখোপাধ্যায়ের ভূমিকা মোটেও প্রত্যাশিত মানের ছিল না এবং সেখানে তাঁর দায়িত্ব পালনে একাধিক মারাত্মক অসঙ্গতি ধরা পড়ে।
বিধানসভা বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, এর আগে বিধানসভার ভেতর বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করায় বহু বিধায়ককে মার্শাল দিয়ে বের করে দেওয়ার বা সাসপেন্ড করার ঘটনা ঘটলেও, স্বয়ং মার্শালকে সাসপেন্ড করার ঘটনা এই প্রথম। শুধুমাত্র সাসপেন্ড করাই নয়, বিধানসভা সচিবালয় তাঁর বিরুদ্ধে একটি উচ্চপর্যায়ের বিভাগীয় তদন্তের (Departmental Inquiry) নির্দেশ দিয়েছে। তদন্ত প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত এই সাসপেনশন বহাল থাকবে এবং তদন্তের রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করেই তাঁর বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনি বা প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এই চাঞ্চল্যকর প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে বিধানসভার সচিব সৌমেন্দ্র নাথ দাস বা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ এখনো বিস্তারিত কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করতে চাননি। তবে এই ঘটনার জেরে বিধানসভার অলিন্দে এবং রাজনৈতিক মহলে তীব্র শোরগোল পড়ে গিয়েছে।