প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে এক অভাবনীয় ও নজিরবিহীন ঘটনার সাক্ষী থাকল নদীয়া জেলা। রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর পূর্ব মেদিনীপুরের পথ ধরে এবার নদীয়া জেলা পরিষদও চলে এল ভারতীয় জনতা পার্টির (BJP) দখলে। বুধবার (৫ আগস্ট ২০২৬) নাটকীয় ভোটাভুটি ও চরম উত্তেজনার পর জেলা পরিষদের নতুন সভাধিপতি নির্বাচিত হয়েছেন বিজেপির প্রণতি বিশ্বাস।সবচেয়ে চমকপ্রদ বিষয় হলো, ৫২ আসন বিশিষ্ট এই নদীয়া জেলা পরিষদে বিজেপির জয়ী সদস্য সংখ্যা ছিল মাত্র ৬ জন। বাকি বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা ছিল তৃণমূল কংগ্রেসের (TMC) হাতে। কিন্তু তৃণমূল সদস্যদের এক বিরাট অংশের ‘বিবেক ভোট’ এবং সরাসরি সমর্থনের জেরে কার্যত বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নদীয়া জেলা পরিষদ দখল করে নিল পদ্ম শিবির।

জেলা পরিষদটি আগে সম্পূর্ণ তৃণমূলের দখলেই ছিল। তবে রাজ্যে বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর থেকেই ঘাসফুল শিবিরের অভ্যন্তরীণ কোন্দল প্রকাশ্যে চলে আসে। তৃণমূলেরই বিদায়ী সভাধিপতি তারান্নুম সুলতানা মীরের বিরুদ্ধে তাঁরই দলের সদস্যরা একজোট হয়ে অনাস্থা প্রস্তাব আনেন। অনাস্থা ভোটে ৩১-০ ব্যবধানে অপসারিত হন তিনি। বুধবার সভাধিপতি নির্বাচনের দিন বিজেপির ৬ সদস্যের পাশাপাশি তৃণমূলের ১৫ জন বিদ্রোহী সদস্য সভাস্থলে উপস্থিত হন। তৃণমূলের তরফে পাল্টা কোনও সভাধিপতি পদপ্রার্থী দাঁড় করানো হয়নি। ফলে ওই ১৫ জন তৃণমূল সদস্য সরাসরি বিজেপির প্রার্থী প্রণতি বিশ্বাসকে সমর্থন জানান এবং তিনি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী হন।

নির্বাচন ঘিরে সকাল থেকেই কৃষ্ণনগরে টানটান উত্তেজনা ছিল। ভোটাভুটি শুরু হওয়ার ঠিক আগেই বিদায়ী বোর্ডের সহ-সভাধিপতি সজল বিশ্বাস জেলা পরিষদের বাইরে ব্যাপক বিক্ষোভের মুখে পড়েন। ক্ষুব্ধ বিরোধী কর্মী-সমর্থকদের পক্ষ থেকে তাঁকে লক্ষ্য করে উপর্যুপরি ডিম ছোঁড়া হয় (যা এলাকায় ‘ডিম থেরাপি’ নামে শোরগোল ফেলেছে), এবং চরম বিশৃঙ্খলার জেরে তিনি ঘটনাস্থল ছেড়ে ফিরে যেতে বাধ্য হন।

ঐতিহাসিক এই জয়ের পর রানাঘাটের বিজেপি সাংসদ জগন্নাথ সরকার এবং জেলা উত্তর সাংগঠনিক সভাপতি অর্জুন বিশ্বাস সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হন। জগন্নাথ সরকার স্পষ্ট ভাষায় জানান, “বিজেপি মানেই উন্নয়ন এবং দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন। রাজ্যে বিজেপি সরকার আসার পর ভীতিমুক্ত পরিবেশ তৈরি হয়েছে। সেই কারণেই শুধু জনগণ নয়, তৃণমূলের জনপ্রতিনিধিদেরও বিজেপির প্রতি আস্থা বেড়েছে। দুর্নীতিমুক্ত জেলা পরিষদ গড়তেই প্রতিপক্ষ দলের সদস্যরা আজ অন্তরাত্মার ডাকে আমাদের প্রার্থীকে ভোট দিয়েছেন।” নতুন সভাধিপতি প্রণতি বিশ্বাসও দায়িত্বভার গ্রহণের পর প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন যে, নদীয়া জেলা জুড়ে কাটমানি ও সিন্ডিকেট রাজের অবসান ঘটিয়ে সম্পূর্ণ স্বচ্ছ ও জনমুখী প্রশাসন চালানো হবে।