প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-পুরাতন মালদার কোটি কোটি টাকা উদ্ধারের ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই, ফের একবার বিপুল পরিমাণ নগদ ও মাদক উদ্ধারের ঘটনায় তোলপাড় ছড়াল জেলা জুড়ে। এবার ঘটনাস্থল মালদার গাজোল থানা এলাকা। বৃহস্পতিবার সকালে গাজোলের ১২ নম্বর জাতীয় সড়কে একটি রুটিন নাকা চেকিং চলাকালীন পুলিশের জালে ধরা পড়ল দুই সন্দেহভাজন বাইক আরোহী, যাদের ব্যাগ থেকে উদ্ধার হয়েছে লক্ষ লক্ষ টাকা এবং খাঁটি ব্রাউন সুগার! হাইওয়ের ধারেই প্রকাশ্য দিবালোকে মেশিন এনে শুরু হয় নোট গোনার কাজ। পুলিশ সূত্রে খবর, উদ্ধার হওয়া নগদের পরিমাণ ৪০ লক্ষ ৬৯ হাজার ৭০০ টাকা (প্রায় ৪১ লক্ষ টাকা)। একই সঙ্গে উদ্ধার হয়েছে ৩০৬ গ্রাম নিষিদ্ধ ব্রাউন সুগার (মাদক)।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বৃহস্পতিবার সকালে গাজোলের রাঙাভিটা এলাকায় ১২ নম্বর জাতীয় সড়কের উপর নাকা চেকিং চালাচ্ছিল গাজোল থানার পুলিশ। সেই সময় গাজোল থেকে মালদা শহরের অভিমুখে অত্যন্ত দ্রুত গতিতে আসছিল দুটি সন্দেহভাজন মোটরবাইক। পুলিশ তাদের থামতে বললে তারা গতি বাড়িয়ে পালানোর চেষ্টা করে। তবে তৎপর পুলিশ বাহিনী ধাওয়া করে রাস্তা আটকে তাদের পাকড়াও করে।
আটক করার পর ওই দুই যুবকের সঙ্গে থাকা দুটি ব্যাগে তল্লাশি চালাতেই চক্ষু চড়কগাছ হয়ে যায় পুলিশ আধিকারিকদের। ব্যাগের ভেতর থরে থরে সাজানো ছিল ৫০০ টাকার নোটের বান্ডিল এবং বিপুল পরিমাণ মাদক। খবর দেওয়া হয় থানায় এবং জাতীয় সড়কের ধারেই তড়িঘড়ি আনা হয় নোট গোনার স্বয়ংক্রিয় যন্ত্র। বেশ কিছুক্ষণের পরিশ্রমে জানা যায় টাকার আসল অঙ্ক। এই ঘটনায় পুলিশ ওই দুই যুবককে গ্রেফতার করেছে। ধৃতদের নাম: সিদ্ধার্থ মণ্ডল (বাড়ি বৈষ্ণবনগরের বীরনগর সরকার টোলা) এবং কিশোর মণ্ডল (বাড়ি কালিয়াচকের শাহবাজপুর)।
গত ৩ আগস্ট মালদার মঙ্গলবাড়ির একটি ফ্ল্যাট থেকে প্রায় ২ কোটি ৪১ লক্ষ টাকা ও নিষিদ্ধ কাফ সিরাপ উদ্ধার করেছিল পুলিশ। সেই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই গাজোলের এই বিপুল নগদ ও ব্রাউন সুগার উদ্ধার হওয়ায় জেলা পুলিশ অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে তদন্ত শুরু করেছে। প্রাথমিক তদন্তে অনুমান, এই বিশাল পরিমাণ টাকা কোনো বড় মাদক পাচার বা আন্তঃসীমান্ত চোরাচালান চক্রের অগ্রিম পেমেন্ট হিসেবে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। ধৃতদের কোনো রাজনৈতিক যোগ আছে কিনা, কিংবা এই চক্রের আসল চাঁই কারা, তা জানার চেষ্টা করছে পুলিশ।