প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-পশ্চিমবঙ্গে বড়সড় আর্থিক জালিয়াতি ও তছরুপের কারবার রুখতে এক নজিরবিহীন যৌথ রণকৌশল নিল কেন্দ্রীয় ও রাজ্য তদন্তকারী সংস্থা। অতি সম্প্রতি এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED)-এর জয়েন্ট ডিরেক্টর কলকাতা পুলিশের কমিশনার এবং সমস্ত ডিসি (DC)-দের সঙ্গে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করেন। ওই বৈঠকেই কলকাতা পুলিশের হাতে ৭টি বড় আর্থিক দুর্নীতি ও তছরুপ মামলার সুনির্দিষ্ট তথ্য তুলে দিয়েছে ইডি। তদন্তকারী সংস্থা সূত্রে খবর, হস্তান্তর করা এই ৭টি মামলার অধিকাংশ অপরাধই সংঘটিত হয়েছে সাম্প্রতিক ২০২৪ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে।

বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এই আর্থিক কেলেঙ্কারির মামলাগুলির কোনোটিই ফেলে রাখা হবে না, বরং সবকটিরই নতুন করে পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত শুরু করবে কলকাতা পুলিশ। সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হলো, হস্তান্তরিত এই ৭টি অপরাধের নথির মধ্যে যেগুলির ক্ষেত্রে এখনও পর্যন্ত কোনো প্রথাগত এফআইআর (FIR) দায়ের করা হয়নি, সেগুলিতে অবিলম্বে নতুন করে এফআইআর রুজু করে তদন্ত প্রক্রিয়া এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সূত্রের খবর, ইডি-র জয়েন্ট ডিরেক্টরের সঙ্গে কলকাতা পুলিশের শীর্ষ কর্তাদের এই বৈঠকে মূলত ‘শিডিউল অফেন্স’ (Scheduled Offence) বা মূল অপরাধের বিষয়গুলি নিয়ে বিস্তারিত আইনি ও কৌশলগত আলোচনা হয়। মানি লন্ডারিং বা অর্থ পাচারের মামলা সাজাতে গেলে তার নেপথ্যে থাকা মূল অপরাধের (যেমন জালিয়াতি, প্রতারণা বা জালিয়াতি চুক্তি) তদন্ত রাজ্য পুলিশের তরফে সমানভাবে সক্রিয় থাকা জরুরি। সেই আইনি বাধ্যবাধকতাকে তরান্বিত করতেই এই সমন্বয়।তথ্য আদান-প্রদানে ঐতিহাসিক প্রাতিষ্ঠানিক সম্মতিদুই সংস্থার এক্তিয়ার সম্পূর্ণ আলাদা হলেও, অপরাধ দমনে এবার ইডি এবং কলকাতা পুলিশ একযোগে কাজ করতে চলেছে। বৈঠকে দুই পক্ষই এই বিষয়ে সম্পূর্ণ একমত হয়েছে যে, তারা পৃথকভাবে নিজেদের আইনি পরিধিতে থেকে তদন্ত চালালেও মামলার প্রয়োজনীয় তথ্য ও নথিপত্র আদান-প্রদান (Information Sharing) করবে। কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সংস্থার এই পারস্পরিক বোঝাপড়া মহানগরের বড় বড় আর্থিক প্রতারক চক্রের ভিত নাড়িয়ে দেবে বলেই মনে করছে আইনি ও প্রশাসনিক মহল।