প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-রাজ্য রাজনীতি এবং পুর প্রশাসনের ইতিহাসে এক চরম ঐতিহাসিক ও নজিরবিহীন সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করল নবান্ন। কলকাতা এবং হাওড়া—এই দুই মেগা শহরের চেনা ভৌগোলিক মানচিত্র এবার সম্পূর্ণ বদলে যেতে চলেছে। গতকাল, ৬ আগস্ট ২০২৬ (বৃহস্পতিবার) নবান্নে রাজ্য মন্ত্রিসভার (Cabinet Meeting) একটি জরুরি বৈঠক শেষে স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরের মন্ত্রী এই বিস্ফোরক প্রশাসনিক রদবদলের কথা স্পষ্ট করতেই রাজ্যজুড়ে তীব্র চাঞ্চল্য এবং শোরগোল পড়ে গিয়েছে।আসলে, কলকাতা পুরসভা (KMC) এবং হাওড়া পুরসভার (HMC) ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাস বা ডিলিমিটেশনের (Delimitation) মাধ্যমে এক ধাক্কায় বিপুল সংখ্যক ওয়ার্ড বাড়িয়ে দেওয়ার চূড়ান্ত রূপরেখা অনুমোদন করেছে রাজ্য মন্ত্রিসভা।
জনসংখ্যা বৃদ্ধি এবং পুর পরিষেবা সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় আরও নিখুঁতভাবে পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে ওয়ার্ডের এই পুনর্বিন্যাস করা হচ্ছে। মন্ত্রীর দেওয়া অফিশিয়াল তথ্য অনুযায়ী, ডিলিমিটেশনের পর দুই পুরসভার রূপরেখা যেভাবে বদলাচ্ছে, কলকাতায় বর্তমানে থাকা ১৪৪টি ওয়ার্ড এক ধাক্কায় ৬৫টি বেড়ে গিয়ে মোট ২০৯টি ওয়ার্ড হতে চলেছে। হাওড়াতেও বর্তমানে থাকা ৫০টি ওয়ার্ড ১৮টি বাড়িয়ে দিয়ে মোট ৬৮টি ওয়ার্ড করা হচ্ছে।
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়েছেন, কলকাতা এবং হাওড়া পুরসভার এই ঐতিহাসিক ওয়ার্ড বৃদ্ধি ও সীমানা পুনর্নির্ধারণের প্রক্রিয়াকে আইনি মান্যতা দিতে কোনো তড়িঘড়ি না করে নিয়ম মেনে পথ চলা হচ্ছে। এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করতে আগামী ১২ আগস্ট ২০২৬ তারিখে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার একদিনের একটি বিশেষ অধিবেশন ডাকা হয়েছে। সেখানেই সরকারিভাবে ‘কলকাতা মিউনিসিপ্যাল অ্যামেন্ডমেন্ট বিল’ এবং ‘হাওড়া মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশন অ্যামেন্ডমেন্ট বিল’ পেশ করা হবে। বিধানসভায় এই সংশোধনী বিল পাস হওয়ার পরেই সীমানা পুনর্বিন্যাসের চূড়ান্ত কাজ আইনিভাবে কার্যকর হবে। আসন্ন পুরভোটের আগেই এই নতুন সীমানা অনুযায়ী ভোট নেওয়ার প্রস্তুতি শুরু করছে প্রশাসন।