প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-দিল্লির রাজনৈতিক অলিন্দে পারদ চরম মাত্রায় চড়িয়ে অবশেষে সম্পন্ন হলো ৭, লোক কল্যাণ মার্গে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকারি বাসভবনের সেই হাই-ভোল্টেজ ব্রেকফাস্ট বৈঠক। নবগঠিত ‘ন্যাশনলিস্ট সিটিজেনস পার্টি অব ইন্ডিয়া’ (NCPI)-র সাংসদদের সঙ্গে দেশের প্রধানমন্ত্রীর এই বৈঠককে ঘিরে সকাল থেকেই তীব্র জল্পনা তৈরি হয়েছিল। সমস্ত ধোঁয়াশা, রাজনৈতিক টানাপোড়েন এবং ‘কালীঘাট তৃণমূল’ শিবিরের প্রবল মনস্তাত্ত্বিক চাপকে উড়িয়ে দিয়ে শেষ পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রীর এই প্রাতরাশ বৈঠকে যোগ দিলেন মুর্শিদাবাদের তিন হেভিওয়েট সংখ্যালঘু সাংসদ।

বিগত কয়েকদিন ধরেই দিল্লির রাজনীতিতে জল্পনা তুঙ্গে ছিল যে মুর্শিদাবাদ জেলার তিন সংখ্যালঘু সাংসদ— বহরমপুরের ইউসুফ পাঠান, জঙ্গিপুরের খলিলুর রহমান এবং মুর্শিদাবাদের আবু তাহের খান— এনডিএ জোটের এই বৈঠকে যোগ দেবেন না। সংখ্যালঘু ভোটারদের ভাবাবেগ এবং নির্বাচনী সমীকরণের কারণে তাঁরা এর আগে হওয়া দুটি এনডিএ বৈঠক থেকে দূরত্ব বজায় রেখেছিলেন। কিন্তু সমস্ত ধোঁয়াশা ও অনিশ্চয়তা কাটিয়ে শুক্রবার সকালে সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় এবং শতাব্দী রায়ের নেতৃত্বাধীন বাকি ১৭ জন NCPI সাংসদ এবং শিবসেনা সাংসদদের সাথেই প্রধানমন্ত্রীর ৭ নম্বর লোক কল্যাণ মার্গের বাসভবনে পৌঁছে যান তাঁরা। এর আগের দিন রাতেই কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গেও এই তিন সাংসদ বৈঠক করেছিলেন।

বৈঠক শেষে সংসদের লবিতে দাঁড়িয়ে NCPI সাংসদ শতাব্দী রায় জানান, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তাঁদের এনডিএ পরিবারের অংশ হিসেবে স্বাগত জানিয়েছেন। দেশের গঠনমূলক উন্নয়নে এবং সংসদীয় প্রক্রিয়ায় নতুন সাংসদরা কীভাবে আরও বেশি অবদান রাখতে পারেন, সেই বিষয়ে দীর্ঘ আলোচনা হয়েছে। সংসদে বারবার হইহাট্টা ও অধিবেশন ব্যাহত হওয়া নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী সাংসদদের নিজেদের নির্বাচনী এলাকার কাজ এবং উন্নয়নমূলক আইনের দিকে মন দিতে পরামর্শ দেন। পাশাপাশি তিনি সাংসদদের শান্তভাবে নিজেদের বক্তব্য তুলে ধরতে এবং সোশ্যাল মিডিয়ার সঠিক ব্যবহারের বার্তা দেন।

তৃণমূল কংগ্রেস ভেঙে ২০ জন লোকসভা সাংসদ নিয়ে তৈরি হওয়া এই নতুন NCPI দলটির সঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মূল সংগঠন অর্থাৎ ‘কালীঘাট তৃণমূল’-এর দড়ি-টানাটানি এখন চরম আকার নিয়েছে। কালীঘাট শিবিরের প্রবীণ সাংসদ সৌগত রায় কড়া বার্তা দিয়ে জানিয়েছেন, এনডিএ বা বিজেপির জোটে থেকে কোনো সাংসদ সংখ্যালঘু স্বার্থরক্ষা ও দ্বিচারিতা একসাথে করতে পারেন না। অন্যদিকে, আজকের এই সফল ব্রেকফাস্ট বৈঠকের পর দিল্লির দরবারে এনডিএ শিবিরের শক্তি বাড়ল এবং নতুন দল হিসেবে NCPI যে লোকসভায় নিজেদের অস্তিত্ব আরও জোরালো করল, তা বলাই বাহুল্য।