প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-রাজ্যের প্রশাসনিক সদর দফতর নবান্নে সম্পন্ন হলো এক অত্যন্ত সংবেদনশীল ও দূরগামী কৌশলগত গুরুত্বসম্পন্ন হাইপ্রোফাইল বৈঠক। গতকাল, ৭ আগস্ট ২০২৬ (শুক্রবার) নবান্নে পৌঁছে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে সরাসরি এক রুদ্ধদ্বার বৈঠকে মিলিত হন ন্যাশনাল সিকিউরিটি গার্ড (NSG)-এর ডিরেক্টর জেনারেল (DG) শ্রী ভৃগু শ্রীনিবাসন। এই দুই শীর্ষ ব্যক্তিত্বের মুখোমুখি বৈঠককে কেন্দ্র করে জাতীয় ও রাজ্য স্তরের প্রশাসনিক অলিন্দে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে।

প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে, এনএসজি (NSG) প্রধান ভৃগু শ্রীনিবাসন একা নন, তাঁর সাথে এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন দেশের এলিট ব্ল্যাক ক্যাট কমান্ডো বাহিনীর এক উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল। প্রতিনিধি দলে ছিলেন এনএসজি-র সিনিয়র অফিশিয়াল মেজর জেনারেল বিকাশ চৌধুরী (IG, NSG) এবং কর্নেল পি.ভি. শুক্লা (Group Commander)। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর দফতরে এই মেগা বৈঠকটি অত্যন্ত সৌহার্দ্যপূর্ণ আবহে সম্পন্ন হয় এবং পরস্পরের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট একাধিক বিষয়ে দীর্ঘক্ষণ আলোচনা চলে।

কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের (MHA) বিশেষ গাইডলাইন “ডিউটি টু শেয়ার” (Duty to Share) উদ্যোগের ওপর ভিত্তি করেই এই হাইপ্রোফাইল স্ট্র্যাটেজিক বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠকে মূলত পশ্চিমবঙ্গের সন্ত্রাসবিরোধী প্রস্তুতি (Counter-Terrorism Preparedness) আরও কয়েক গুণ শক্তিশালী করার বিষয়ে রূপরেখা তৈরি হয়েছে। প্রশাসনিক ও গোয়েন্দা সূত্র মারফত এই বৈঠকের পর বেশ কয়েকটি বড় সিদ্ধান্ত সামনে আসছে। রাজ্য পুলিশের স্পেশাল কমান্ডোদের আরও অত্যাধুনিক ও আন্তর্জাতিক মানের করে গড়ে তুলতে এনএসজি (NSG) নিজে বিশেষায়িত প্রশিক্ষণ (Specialised Training) এবং ক্যাপাসিটি বিল্ডিংয়ের সম্পূর্ণ দায়িত্ব নেবে। কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা ও নিরাপত্তা সংস্থাগুলির সাথে রাজ্য পুলিশের সমন্বয় রক্ষা ও তথ্য আদান-প্রদান আরও মজবুত করতে এক নতুন রূপরেখা তৈরি করা হয়েছে। কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সীমান্ত এলাকা এবং সামগ্রিক অভ্যন্তরীণ সুরক্ষার কথা মাথায় রেখে পশ্চিমবঙ্গে এনএসজি-র পরিকাঠামো ও ক্যাম্পাসের পরিধি আরও বড় করার জোরালো ইঙ্গিত মিলেছে।

মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা ও অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বারবার কড়া বার্তা দিচ্ছেন। সেই আবহেই দেশের এই শীর্ষ কমান্ডো বাহিনীর প্রধানের সাথে মুখ্যমন্ত্রীর এই সরাসরি সাক্ষাৎ ও দীর্ঘ মেয়াদি নিরাপত্তা পরিকল্পনা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক মহল।