প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-পাহাড়ের রাজনীতিতে ফের এক বিশাল তোলপাড়। গোর্খাল্যান্ড টেরিটোরিয়াল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (GTA)-এর অধীনে চলা কেন্দ্রীয় ফ্ল্যাগশিপ প্রকল্প ‘জল জীবন মিশন’ (JJM)-এ নজিরবিহীন ও ব্যাপক আর্থিক ও প্রশাসনিক অনিয়মের অভিযোগ তুলে সরাসরি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে চিঠি দিলেন গোর্খা জনমুক্তি মোর্চা (GJM) সভাপতি বিমল গুরুং। আজ, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ (মঙ্গলবার) পাঠানো এই বিস্ফোরক চিঠিতে জিটিএ এলাকার প্রায় ২৮০টি জল প্রকল্পের কাজ নিয়ে তীব্র প্রশ্ন তুলে একটি সম্পূর্ণ স্বাধীন তদন্ত এবং অডিটের দাবি জানানো হয়েছে। এই যৌথ অভিযোগপত্রে বিমল গুরুং ছাড়াও স্বাক্ষর করেছেন মোর্চার সাধারণ সম্পাদক রোশন গিরি এবং দার্জিলিংয়ের বিজেপি বিধায়ক নমন রাই।
মোর্চা নেতৃত্বের স্পষ্ট নিশানা বর্তমান অনীত থাপা নেতৃত্বাধীন জিটিএ প্রশাসনের দিকে। সম্প্রতি একটি ৬ সদস্যের স্বাধীন সমীক্ষক দল পাহাড়ের বিভিন্ন প্রকল্প এলাকা সরজমিনে পরিদর্শন করে যে রিপোর্ট দিয়েছে, তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। চিঠিতে নির্দিষ্ট কিছু প্রকল্পের উদাহরণ টেনে বলা হয়েছে: ছোঁটা পুবুং (Chotta Pubung – ১৯.৩৪ কোটি টাকা), ধোত্রিয়া (Dhotria – ৬০.৫১ কোটি টাকা), গোক (Goke – ৯.১২ কোটি টাকা), এবংরেলিং (Relling – ২১.৩০ কোটি টাকা)-এর কোটি কোটি টাকার প্রোজেক্টে ব্যাপক কারচুপি হয়েছে। বহু গ্রামে পাইপলাইন ও পরিকাঠামো তৈরি হলেও বাস্তবে মানুষের ঘরে কোনও নিয়মিত জল পৌঁছাচ্ছে না।জল সরবরাহের জন্য নির্মিত একাধিক বিশাল জলাধার ও রিজার্ভার সম্পূর্ণ জলশূন্য ও শুকনো অবস্থায় পড়ে রয়েছে। প্রকল্পের টেন্ডার ডাকার আগে আদৌ কোনও টেকসই জলের উৎস (Sustainable Source) সঠিকভাবে চিহ্নিত করা হয়েছিল কি না, তা নিয়ে বড়সড় সন্দেহ প্রকাশ করেছে মোর্চা।
মুখ্যমন্ত্রীকে দেওয়া চিঠিতে বিমল গুরুং স্পষ্ট দাবি জানিয়েছেন যে, সরকারের পক্ষ থেকে একটি নিরপেক্ষ উচ্চপর্যায়ের দল গঠন করে প্রতিটি প্রকল্পের ডিপিআর (DPR), স্যাংশন এস্টিমেট এবং টেন্ডার ডকুমেন্টের সাথে বাস্তব কাজের পুঙ্খানুপুঙ্খ মিল দেখা হোক। এর পাশাপাশি ঠিকাদারদের দেওয়া বিল, মেজারমেন্ট বুক এবং কাজের কমপ্লিশন সার্টিফিকেট যেন কঠোরভাবে স্ক্রুটিনি করা হয়। রাজ্য প্রশাসনের কাছে মোর্চার আবেদন, যতক্ষণ না এই ২৮০টি প্রকল্পের বাস্তব ও আর্থিক অবস্থার সম্পূর্ণ স্বাধীন অডিট শেষ হচ্ছে, ততক্ষণ যেন সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার বা এজেন্সির কোনও বকেয়া টাকা বা চূড়ান্ত পেমেন্ট রিলিজ না করা হয়। একই সঙ্গে দুর্নীতি বা গাফিলতি প্রমাণিত হলে অভিযুক্ত আধিকারিক ও ঠিকাদারদের চিহ্নিত করে সরকারি অর্থ পুনরুদ্ধারের দাবিও জানিয়েছেন তাঁরা।
রাজ্যের নতুন বিজেপি সরকারের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী কিছুদিন আগেই পাহাড় সফরে গিয়ে জিটিএ এবং ডেভেলপমেন্ট বোর্ডের দুর্নীতির বিরুদ্ধে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন এবং দুর্নীতিগ্রস্তদের কড়া শাস্তির বার্তা দিয়েছিলেন। এই আবহে বিমল গুরুংয়ের এই সরাসরি চিঠি বর্তমান রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক চাপ বহুগুণ বাড়িয়ে দিল, তা বলাই বাহুল্য। পাহাড়ে পানীয় জলের মতো একটি স্পর্শকাতর ও জরুরি প্রকল্প নিয়ে এই বিপুল দুর্নীতির অভিযোগকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে চরম শোরগোল শুরু হয়েছে।