প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-ভারতের স্বাধীনতা মাসের উদযাপনকে কেন্দ্র করে এক বিপুল দেশাত্মবোধক জাগরণের সাক্ষী থাকল কলকাতা। কেন্দ্রীয় সরকারের ‘হর ঘর তিরঙ্গা’ কর্মসূচিতে এই প্রথম প্রাতিষ্ঠানিক স্তরে শামিল হয়ে এক যুগান্তকারী ইতিহাস তৈরি করল পশ্চিমবঙ্গের নতুন সরকার। গতকাল, ৭ অগাস্ট ২০২৬ (শুক্রবার) বিকেলে, দক্ষিণ কলকাতার ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্র জুড়ে আয়োজিত হয় এক ঐতিহাসিক এবং মেগা ‘তিরঙ্গা যাত্রা’। এই বিশাল ও নজিরবিহীন জনজোয়ারের একেবারে সম্মুখভাগে থেকে মিছিলের মূল নেতৃত্ব দেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। ঠিক বিকেল ৩টেয় আলিপুরের সার্ভে বিল্ডিংয়ের সামনে (গোপালনগর মোড়) থেকে এই বর্ণাঢ্য পদযাত্রাটি শুরু হয়। জাতীয় পতাকার তিন রঙে মোড়া এই বিশাল মিছিলে কয়েক হাজার সাধারণ মানুষ, স্কুল-কলেজের পড়ুয়া এবং যুব সমাজের প্রতিনিধিরা জাতীয় পতাকা হাতে পা মেলান। ‘বন্দেমাতরম’ ও ‘ভারতমাতা কি জয়’ ধ্বনিতে মুখরিত হয়ে গোটা রাজপথ রূপ নেয় এক গেরুয়া-সাদা-সবুজের মহাসমুদ্রে। আলিপুর থেকে শুরু হয়ে মিছিলটি অত্যন্ত সুশৃঙ্খলভাবে এগিয়ে চলে এবং দক্ষিণ কলকাতার অন্যতম ব্যস্ত ক্রসিং হাজরা মোড়ে এসে সমাপ্ত হয়।

মুখ্যমন্ত্রীর এই প্রথম রাজপথের তিরঙ্গা কর্মসূচিতে রাজ্য প্রশাসনের শীর্ষস্তরের মেগা উপস্থিতি লক্ষ্য করা গিয়েছে। মিছিলের প্রথম সারিতে মুখ্যমন্ত্রীর পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের শিল্প ও বাণিজ্য মন্ত্রী তাপস রায়, স্কুল শিক্ষা মন্ত্রী দীপক বর্মনসহ রাজ্য মন্ত্রিসভার একাধিক শীর্ষ সদস্য এবং স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃত্ব।হাজরা মোড়ে পদযাত্রা শেষে সাধারণ মানুষের উদ্দেশ্যে এক অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বার্তা দেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি পূর্বতন জমানার সমালোচনা করে বলেন, “বিগত সরকার কেন কেন্দ্রের এই মহান জাতীয় কর্মসূচিতে অংশ নেয়নি বা একে বর্জন করেছিল, তা আমার জানা নেই। কিন্তু আমাদের সরকার ‘নেশন ফার্স্ট’ বা রাষ্ট্র সবার আগে—এই আদর্শে বিশ্বাসী। বাংলায় এবার এক নতুন জাতীয়তাবাদী জাগরণ তৈরি হচ্ছে।”

৭ অগাস্ট ভবানীপুরের এই কর্মসূচিটি ছিল মূলত রাজ্যব্যাপী উৎসবের আনুষ্ঠানিক শুভ সূচনা। মুখ্যমন্ত্রী সুনির্দিষ্টভাবে ঘোষণা করেছেন যে, আগামী ১০ অগাস্ট ২০২৬ (সোমবার) বিকেল ৩টেয় কলকাতায় রাজ্য স্তরের মূল এবং সর্ববৃহৎ ‘তিরঙ্গা যাত্রা’টি অনুষ্ঠিত হতে চলেছে। কলকাতার বিখ্যাত নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর মূর্তির পাদদেশ (মেয়ো রোড) থেকে এই মূল মেগা মিছিলটি শুরু হবে এবং সেটি শেষ হবে বিড়লা প্ল্যানেটোরিয়ামের ৭ নম্বর গেটের সামনে। এই কেন্দ্রীয় মিছিলে স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী এবং তাঁর সমগ্র মন্ত্রিসভা উপস্থিত থাকবেন। রাজ্য সরকারের লক্ষ্য, এই মিছিলে অন্তত ৫০ হাজারেরও বেশি মানুষের সমাগম ঘটানো, যার মধ্যে ইতিমধ্যে ৩০ হাজারেরও বেশি মানুষ অংশ নেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।

দেশাত্মবোধক এই কর্মসূচিকে সফল করতে রাজ্য জুড়ে এক ঐতিহাসিক উদ্যোগ নিয়েছে তথ্য ও সংস্কৃতি দফতর। গত ৫ অগাস্ট থেকেই রাজ্যের প্রতিটি জেলা, মহকুমা, ব্লক, পুরসভা ও পঞ্চায়েত স্তরে প্রশাসনের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের ঘরে ঘরে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে ৭০ লক্ষ জাতীয় পতাকা বিতরণের মেগা ড্রাইভ শুরু হয়ে গিয়েছে। সরকারি নির্দেশিকায় জানানো হয়েছে, আগামী ৯ থেকে ১৭ অগাস্ট পর্যন্ত রাজ্যের সমস্ত সরকারি দফতর, স্কুল ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এই স্বাধীনতা দিবস উদযাপন সপ্তাহ সাড়ম্বরে পালন করতে হবে।