প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-বারবার সিআইডি-র তলব এড়ানো এবং নিজের বাড়িতে হাইপ্রোফাইল তল্লাশির পর অবশেষে প্রকাশ্য দিবালোকে দেখা মিলল সুমিত রায়ের। শনিবার (০৮ আগস্ট ২০২৬) সকাল ঠিক ৯টা ৫৪ মিনিটে রাজ্য পুলিশের গোয়েন্দা সদর দফতর ভবানী ভবনে হাজিরা দিলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তথা সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আপ্ত সহায়ক (PA) সুমিত রায়। পশ্চিম মেদিনীপুরের শালবনির বহুচর্চিত জমি দুর্নীতি মামলায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য এদিন তাঁকে ডেকে পাঠিয়েছিল সিআইডি।এর আগে সিআইডি-র একের পর এক সমন এড়ানো এবং সুমিতের নিউ আলিপুরের ক্যানেল রোডের বাড়িতে গোয়েন্দাদের তল্লাশির জেরে তাঁর বিরুদ্ধে লুকআউট নোটিসও জারি করা হয়েছিল। তবে তদন্তকারীদের এই কঠোর ঘেরাটোপের মাঝেই দেশের সর্বোচ্চ আদালত অর্থাৎ সুপ্রিম কোর্ট থেকে বড়সড় আইনি স্বস্তি পান সুমিত।

শালবনি জমি দুর্নীতি মামলায় কলকাতা হাইকোর্টে সুমিত রায়ের আগাম জামিনের আবেদন খারিজ হয়ে গিয়েছিল। এর পরেই তিনি সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হন। সুপ্রিম কোর্ট সুমিত রায়কে গ্রেপ্তারির ওপর অন্তর্বর্তীকালীন সুরক্ষা বা রক্ষাকবচ প্রদান করে। তবে শীর্ষ আদালত স্পষ্ট নির্দেশ দেয় যে, সুমিতকে তদন্তে সম্পূর্ণ সহযোগিতা করতে হবে এবং তদন্তকারী সংস্থার মুখোমুখি হতে হবে। সর্বোচ্চ আদালতের এই নির্দেশের পরেই আর আইনি ঝুঁকি নেননি তিনি। শনিবার নির্ধারিত সময়ের সামান্য আগেই ভবানী ভবনে পৌঁছে যান এই হাইপ্রোফাইল আপ্ত সহায়ক।

পশ্চিম মেদিনীপুরের শালবনিতে সরকারি জমি কেনাবেচায় কোটি কোটি টাকার জালিয়াতি এবং আর্থিক বেনিয়মের অভিযোগ ওঠে। এই মামলায় ইতিমধ্যেই তৃণমূলের স্থানীয় নেতা সুজয় হাজরাকে গ্রেপ্তার করেছে সিআইডি। ধৃত নেতাকে জেরা করেই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পিএ সুমিত রায়ের নাম সামনে আসে বলে তদন্তকারীদের দাবি। এই জালিয়াতির লভ্যাংশের কোনো অংশ সুমিতের মাধ্যমে অন্য কোথাও গিয়েছে কি না, কিংবা এই দুর্নীতির পেছনে অন্য কোন প্রভাবশালী যোগ রয়েছে, তা জানতেই এদিন ভবানী ভবনে গোয়েন্দারা ম্যারাথন জেরা শুরু করেছেন।

রাজনৈতিক মহলের মতে, বিধানসভা নির্বাচনের পর থেকেই পূর্বতন শাসক দলের একাধিক নেতার আপ্ত সহায়কদের কেন্দ্রীয় ও রাজ্য স্তরের তদন্তকারী সংস্থাগুলি টার্গেট করছে। সুমিত রায়ের এই হাজিরা নিয়ে রাজনৈতিক টানাপোড়েন শুরু হয়েছে। তবে আইনি বিশেষজ্ঞদের মতে, যেহেতু সুপ্রিম কোর্টের সুনির্দিষ্ট রক্ষাকবচ রয়েছে, তাই সুমিত রায়কে এখনই গ্রেপ্তার করার আইনি এক্তিয়ার সিআইডি-র নেই। তবে তদন্তে অসহযোগিতা করলে সিআইডি পুনরায় শীর্ষ আদালতের দ্বারস্থ হতে পারে।আজ সকাল ৯টা ৫৪ মিনিটে সুমিত রায় ভবানী ভবনে ঢোকার পর থেকেই কড়া নিরাপত্তা বলয়ে মুড়ে ফেলা হয়েছে সিআইডি সদর দফতর। এখনও পর্যন্ত তাঁর জিজ্ঞাসাবাদ পর্ব জারি রয়েছে বলেই খবর।