প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-আরজি কর হাসপাতালে ২০২৪ সালে ঘটে যাওয়া ন্যাক্কারজনক চিকিৎসক ধর্ষণ ও খুনের ঘটনার সুদীর্ঘ দুই বছর পর নজিরবিহীন অ্যাকশনে নেমেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার সকালে ওড়িশা থেকে পানিহাটির প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক নির্মল ঘোষ গ্রেফতার হওয়ার পর, এবার গভীর রাতে পুলিশের জালে ধরা পড়লেন এই মামলার অন্যতম প্রধান অভিযুক্ত তথা নির্যাতিতার প্রতিবেশী হিসেবে পরিচিত প্রাক্তন কাউন্সিলর সঞ্জীব মুখোপাধ্যায় (সঞ্জু)।বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট ২০২৬) গভীর রাতে খড়দহ থানার পুলিশ পানিহাটির অম্বিকা মুখার্জি রোড সংলগ্ন সিআর পার্ক এলাকায় অবস্থিত তাঁর নিজস্ব বাসভবন থেকে তাঁকে গ্রেফতার করে।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, আরজি করের নির্যাতিতা চিকিৎসকের মৃত্যুর পর পানিহাটি শ্মশানঘাটে যেভাবে তাড়াহুড়ো করে মূল তথ্যপ্রমাণ নষ্টের উদ্দেশ্যে দেহ সৎকার করা হয়েছিল, সেই ঘটনায় সঞ্জীব মুখোপাধ্যায়ের সরাসরি ভূমিকা ছিল। অভিযোগপত্রে দাবি করা হয়েছে, শ্মশানের নথিতে মৃতার পরিবারের বা কোনো রক্তসম্পর্কীয় আত্মীয়ের সই না নিয়ে, নিজেকে নির্যাতিতার ‘প্রতিবেশী কাকু’ পরিচয় দিয়ে সৎকার কন্সেন্ট ফর্মে সই করেছিলেন এই প্রাক্তন কাউন্সিলর। তদন্তকারীদের দাবি, লাইনে থাকা অন্য দুটি মৃতদেহকে জোরপূর্বক টপকে এক নম্বর সিরিয়ালে এনে তিলোত্তমার দেহ পুড়িয়ে দেওয়ার পেছনেও তাঁর সক্রিয় ভূমিকা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

গত রবিবার আরজি কর কাণ্ডের দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে পানিহাটিতে আয়োজিত স্মরণসভায় যোগ দিয়ে খোদ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছিলেন যে, শ্মশানঘাটে ঘটা অনিয়মগুলির আলাদা তদন্ত করতে হবে ব্যারাকপুর পুলিশ কমিশনারেটকে। মুখ্যমন্ত্রীর সেই কড়া নির্দেশের পর সোমবার খড়দহ থানায় নির্যাতিতার বাবা ৩ জনের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট লিখিত এফআইআর (FIR) দায়ের করেন। এই এফআইআর-এ নাম ছিল পানিহাটির তৎকালীন বিধায়ক নির্মল ঘোষ, পানিহাটি পুরসভার কাউন্সিলর সোমনাথ দে এবং স্থানীয় বাসিন্দা সঞ্জীব মুখোপাধ্যায়ের। তাঁদের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS)-এর অধীনে তথ্যপ্রমাণ নষ্ট করা, অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র ও মৃতদেহের প্রতি চরম অসম্মান প্রদর্শনের মতো একাধিক অ-জামিনযোগ্য ধারা লাগানো হয়েছে।

মামলা রুজু হওয়ার পর থেকেই বেশ কয়েকদিন ধরে খোঁজ মিলছিল না সঞ্জীব মুখোপাধ্যায়ের। অবশেষে বৃহস্পতিবার রাতে খড়দহ থানার পুলিশ গোপন সূত্রে খবর পেয়ে তাঁর নিজস্ব বাসভবনে হানা দেয় এবং তাঁকে হাতেনাতে গ্রেফতার করে। পুলিশ প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, আজ শুক্রবার (১৪ আগস্ট ২০২৬) ধৃত প্রাক্তন বিধায়ক নির্মল ঘোষের পাশাপাশি এই ধৃত প্রাক্তন কাউন্সিলর সঞ্জীব মুখোপাধ্যায়কেও ব্যারাকপুর মহকুমা আদালতে পেশ করা হবে। মামলার পরবর্তী তদন্তের স্বার্থে ধৃতদের নিজেদের হেফাজতে নেওয়ার আবেদন জানাবে পুলিশ। এই জোড়া গ্রেফতারির জেরে উত্তর ২৪ পরগনার রাজনৈতিক মহলে চরম উত্তেজনা ও শোরগোল তৈরি হয়েছে।