প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-দেশের স্বাধীনতা দিবসের প্রাক্কালে দেশভাগের রক্তাক্ত ইতিহাসকে হাতিয়ার করে প্রাক্তন শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের (TMC) বিরুদ্ধে এক নজিরবিহীন ও তীব্র রাজনৈতিক আক্রমণ শানালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শুক্রবার (১৪ আগস্ট ২০২৬) কলকাতার মৌলালি যুবকেন্দ্রে আয়োজিত ‘বিভাজন বিভীষিকা স্মরণ দিবস’ (Partition Horrors Remembrance Day) মঞ্চ থেকে নাম না করে তৃণমূলের বিগত জমানাকে সরাসরি কাঠগড়ায় তোলেন তিনি।১৯৪৬ সালের ‘দ্য গ্রেট ক্যালকাটা কিলিং’ ও দাঙ্গার খলনায়ক হোসেন শহীদ সুহরাওয়ার্দীর (সুরাবর্দি) প্রসঙ্গ টেনে এনে এ রাজ্যের প্রাক্তন শাসকদের চরম কটাক্ষ করেন মুখ্যমন্ত্রী।
মৌলালি যুবকেন্দ্রের অনুষ্ঠান মঞ্চ থেকে তীব্র ক্ষোভ উগরে দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন:”বিগত ১৫ বছর ধরে যাঁরা এ রাজ্যে ক্ষমতায় ছিলেন, এরা সবাই সুরাবর্দির নাতি-নাতনি, পুতি-গুষ্টি! এদের মধ্যে বিন্দুমাত্র জাতীয়তাবাদের চেতনা ছিল না।” তৃণমূলের পাশাপাশি বিগত ৩৪ বছরের বাম আমলকেও একসারিতে বসিয়ে আক্রমণ করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি দাবি করেন, “বিগত দিনে ৩৪ বছরের কমিউনিস্ট এবং পরবর্তী ১৫ বছরের শাসকরা এমন এক পরিবেশ তৈরি করেছিল, যাদের বাড়িতে কেউ নেতাজী সুভাষচন্দ্র বসু, স্বামী বিবেকানন্দ কিংবা ক্ষুদিরাম বসুর ছবি রাখে না। এদের সব কাকা-জ্যাঠা, বাবা-দাদু, নানা সব বিদেশী।”
ইতিহাসের পাতা থেকে ১৯৪৬ সালের ১৬ আগস্টের ভয়ঙ্কর অধ্যায় স্মরণ করিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, সেদিনের কুখ্যাত ডাইরেক্ট অ্যাকশন ডে বা কলকাতার দাঙ্গার জন্য সুহরাওয়ার্দী নিজে সরকারি ছুটি ঘোষণা করে গণহত্যা সংগঠিত করেছিলেন।মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানান, এই কারণেই বিগত তৃণমূল সরকারের সাধের ‘খেলা হবে দিবস’ (১৬ আগস্ট) এই নতুন জমানায় সম্পূর্ণ বাতিল করা হয়েছে। কারণ ১৬ আগস্ট বাংলার বুকে ঘটে যাওয়া এক নারকীয় হত্যাকাণ্ডের কালো দিন। এই দিনটিকে আনন্দ বা খেলার উৎসব হিসেবে পালন করা বাঙালি জাতির জন্য চরম অপমানের। তার পরিবর্তে আগামী ১৬ আগস্ট থেকে সমগ্র রাজ্য জুড়ে মানুষের কল্যাণে ‘আয়ুষ্মান দিবস’ পালন করবে নতুন বিজেপি সরকার। স্বাধীনতা দিবসের প্রাক্কালে মুখ্যমন্ত্রীর এই কড়া ঐতিহাসিক ও তীব্র রাজনৈতিক আক্রমণ রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে তোলপাড সৃষ্টি করেছে।