প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-রাজ্যে কাটমানি, তোলাবাজি এবং সরকারি দুর্নীতির বিরুদ্ধে এবার চরম ও নজিরবিহীন ‘জিরো টলারেন্স’ বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সোমবার পুরুলিয়ার এক জনসভা থেকে সরকারি প্রকল্পের টাকা নয়ছয় এবং আমলাতান্ত্রিক দুর্নীতির বিরুদ্ধে সুর চড়িয়েছেন তিনি। সম্প্রতি ঝাড়গ্রামের জামবনি বিডিও অফিসে ঘুষ নিতে গিয়ে এক সরকারি ইঞ্জিনিয়ার যেভাবে হাতেনাতে ধরা পড়েছেন, সেই প্রসঙ্গ টেনেই দুর্নীতিবাজদের পিলে চমকে দেওয়ার মতো হুঁশিয়ারি দিয়েছেন রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান। জনগণের উদ্দেশ্যে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “তোলাবাজি হবে না। সিন্ডিকেট চলবে না। কাটমানি বন্ধ। এবারে যে ঘর দেব আমরা, প্রায় ৩ লাখ বাড়ি, ১ টাকা যদি কেউ চায়, একটি খবর আমাকে দেবেন। জামবনির সাব অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার ঠিকাদারের কাছ থেকে টাকা নিচ্ছিল, খপ করে ধরে জেলে ঢুকিয়েছি।”

ঘটনার সূত্রপাত গত ৬ আগস্ট ২০২৬ (বৃহস্পতিবার)। ঝাড়গ্রাম জেলার জামবনি ব্লকের গিধনি বিডিও অফিসে কর্মরত সাব-অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার বিমল সাহা একটি সাব-হেলথ সেন্টার নির্মাণের বিল পাস করিয়ে দেওয়ার জন্য স্থানীয় এক সাব-কন্ট্রাক্টরের কাছ থেকে ২ লক্ষ টাকা ঘুষ দাবি করেন। কিন্তু ওই ঠিকাদার পিণ্টু মল্লিক ঘুষ না দিয়ে সরাসরি পশ্চিমবঙ্গ সরকারের রাজ্য দুর্নীতি দমন শাখা (Anti-Corruption Branch – ACB)-র সদ্য চালু হওয়া টোল-ফ্রি হেল্পলাইন নম্বরে অভিযোগ দায়ের করেন।

অভিযোগ পাওয়ার পরপরই দুর্নীতি দমন শাখার গোয়েন্দারা বিডিও অফিসে বিশেষ ফাঁদ পাতেন। পুলিশের পরামর্শ অনুযায়ী, ঠিকাদার যখন বিশেষ রাসায়নিক (কেমিক্যাল) মাখানো নোটের বান্ডিল ইঞ্জিনিয়ার বিমল সাহার হাতে তুলে দেন, ঠিক তখনই ছদ্মবেশে থাকা এসিবি (ACB) অফিসাররা তাকে হাতেনাতে ধরে ফেলেন। এরপর বিশেষ পরীক্ষা করতেই ওই ইঞ্জিনিয়ারের হাত লাল হয়ে যায়, যা প্রমাণ করে যে তিনি ওই চিহ্নিত নোটগুলি ছুঁয়েছিলেন। তাকে অনস্পট গ্রেফতার করে টাকা বাজেয়াপ্ত করা হয়।

মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী আজ পুরুলিয়ার সভা থেকে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে, সরকারি আবাস যোজনা বা অন্য কোনো উন্নয়নমূলক প্রকল্পে গরীব মানুষের থেকে ১ টাকাও কাটমানি নেওয়া বরদাস্ত করা হবে না। জামবনি বিডিও অফিসের এই সফল অপারেশনটি প্রমাণ করেছে যে হেল্পলাইনের মাধ্যমে সাধারণ মানুষ অভিযোগ জানালে প্রশাসন কতখানি দ্রুত অ্যাকশন নিচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রীর এই প্রকাশ্য হুঁশিয়ারির পর সমস্ত জেলা ও ব্লক স্তরের সরকারি দফতরগুলিতে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে।