প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-পশ্চিমবঙ্গের বর্তমান রাজনৈতিক পালাবদলের আবহেই রাজ্য রাজনীতিতে ফের এক চরম বিস্ফোরক মোড়! ইন্ডিয়ান সেকুলার ফ্রন্ট (ISF) ছাড়ার মাত্র তিনদিনের মাথায় আজ, সোমবার দুপুরে সরাসরি বিধানসভায় হাজির হলেন ভাঙড়ের প্রাক্তন বিধায়ক তথা প্রভাবশালী নেতা আরাবুল ইসলাম। তবে তিনি তৃণমূলের মূল কেন্দ্র ‘কালীঘাট’-এর শিবিরে যাননি, বরং বিধানসভার অলিন্দে দীর্ঘ রুদ্ধদ্বার বৈঠক করলেন বর্তমানে ক্ষমতাসীন বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে। তৃণমূল জমানার একসময়ের দাপুটে ও ‘তাজা নেতা’ হিসেবে পরিচিত আরাবুলের এই পদক্ষেপকে ঘিরে বিধানসভা চত্বরে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
বৈঠক শেষে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে কালীঘাট অর্থাৎ তৃণমূলের মূল শিবিরের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দেন আরাবুল ইসলাম। তিনি চাঁছাছোলা ভাষায় প্রশ্ন তোলেন, “আমার জন্য কী করেছে কালীঘাট-তৃণমূল? দলের জন্য এত রক্ত-ঘাম ঝড়ালাম, অথচ আমার বিপদের দিনে কালীঘাট তো আমার পাশে দাঁড়ায়নি!” বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে এই হাইপ্রোফাইল বৈঠক প্রসঙ্গে অবশ্য কিছুটা কৌশলী ভাঙড়ের প্রাক্তন বিধায়ক। নিজের রাজনৈতিক অবস্থান স্পষ্ট না করলেও আরাবুল দাবি করেন, “বিরোধী দলনেতার সঙ্গে এই সাক্ষাৎকার নিছকই সৌজন্যমূলক ছিল।”
বর্তমানে রাজ্য রাজনীতিতে তৃণমূল কংগ্রেস স্পষ্টতই দুই ভাগে বিভক্ত এবং অধিকাংশ বিধায়ক-সাংসদই ‘ঋত-তৃণমূল’ শিবিরের দিকে ঝুঁকছেন। সোমবার আরাবুল ইসলামের সঙ্গে দীর্ঘক্ষণ একান্তে কথোপকথনের পর তাঁকে দরাজ সার্টিফিকেট দেন স্বয়ং ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। আরাবুল ইসলামকে আগলে রেখে ঋতব্রত সাংবাদিকদের বলেন, “আরাবুল তো ভাল ছেলে! ওর সঙ্গে আমার সম্পর্ক দীর্ঘদিনের।”
২০২৬ সালের হাইভোল্টেজ বিধানসভা নির্বাচনের ঠিক আগেই তৃণমূলের মূল দল ছেড়ে পীরজাদা নওশাদ সিদ্দিকীর দল ইন্ডিয়ান সেকুলার ফ্রন্ট (ISF)-এ নাম লিখিয়েছিলেন আরাবুল। কিন্তু নির্বাচনের কয়েক মাসের মধ্যেই আইএসএফ-এর ভেতরে “একনায়কতন্ত্র ও অবহেলার” অভিযোগ তুলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দল ছাড়ার ঘোষণা দেন তিনি। এবার তড়িঘড়ি বিধানসভায় এসে ঋতব্রতর ঘরে তাঁর এই বৈঠক রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। রাজনৈতিক ওয়াকিবহাল মহলের মতে, ভাঙড়ে নিজের রাজনৈতিক অস্তিত্ব ও আধিপত্য টিকিয়ে রাখতেই আইএসএফ ত্যাগের পর এবার সরাসরি ‘ঋত-তৃণমূল’ শিবিরের দিকে পা বাড়িয়ে দিলেন ভাঙড়ের এই ‘তাজা নেতা’।