প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় চাকরিহারা প্রার্থীদের তালিকায় থাকা ‘অ-দুর্নীতিগ্রস্ত’ তথা যোগ্য শিক্ষকদের জন্য সুপ্রিম কোর্ট থেকে এল অত্যন্ত স্বস্তির খবর। যোগ্য শিক্ষকদের চাকরির মেয়াদ বৃদ্ধির আর্জি শুনতে অবশেষে রাজি হয়েছে দেশের সর্বোচ্চ আদালত। আজ, ২৫ আগস্ট (মঙ্গলবার) সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিদের ডিভিশন বেঞ্চ স্পষ্ট জানিয়েছে, আগামী ৩১ আগস্টের নির্দিষ্ট সময়সীমা পার হওয়ার আগেই এই জরুরি আবেদনটির শুনানি গ্রহণ করা হবে। রাজ্য স্কুল সার্ভিস কমিশন (SSC), মধ্যশিক্ষা পর্ষদ এবং যোগ্য শিক্ষকদের তরফ থেকে দাখিল করা এই যৌথ আবেদনের ওপর সুপ্রিম কোর্টের এই সিদ্ধান্ত অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে আইনি মহল।

২০১৬ সালের এসএসসি (SSC) নিয়োগ প্যানেল বাতিলের মামলার পরিপ্রেক্ষিতে সুপ্রিম কোর্ট এর আগে নির্দেশ দিয়েছিল যে, অযোগ্য বা দুর্নীতিগ্রস্তদের বাদ দিয়ে বাকি ১৭,০০০ যোগ্য শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী আগামী ৩১ আগস্ট ২০২৬ পর্যন্ত স্কুলে কাজ চালিয়ে যেতে পারবেন। আদালতের নির্দেশ ছিল, এই ৩১ আগস্টের মধ্যে সম্পূর্ণ স্বচ্ছ উপায়ে নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে।কিন্তু নির্ধারিত সময়সীমা দোরগোড়ায় চলে এলেও আইনি ও প্রশাসনিক জটিলতার কারণে নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়া পুরোপুরি শেষ করা সম্ভব হয়নি। এই পরিস্থিতিতে যদি ৩১ আগস্টের পর নতুন করে মেয়াদ বাড়ানো না হয়, তবে এই ১৭,০০০ যোগ্য শিক্ষকের স্কুলে যাওয়া বন্ধ হয়ে যাবে এবং তাঁরা বেতন পাবেন না।

আদালতে এসএসসি (SSC) এবং রাজ্য সরকারের আইনজীবীরা যুক্তি দেন, যদি ৩১ আগস্টের পর এই ১৭,০০০ যোগ্য শিক্ষককে কাজ থেকে বিরত করা হয়, তবে রাজ্যের হাজার হাজার সরকারি ও সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত স্কুল এক লহমায় শিক্ষকহীন হয়ে পড়বে। এই তীব্র শিক্ষক সংকটের সরাসরি প্রভাব পড়বে পড়ুয়াদের পঠনপাঠন ও ভবিষ্যতের ওপর। এই মানবিক এবং প্রশাসনিক সংকটের কথা মাথায় রেখেই স্কুল সার্ভিস কমিশন আদালতের কাছে আরও ৮ মাসের বাড়তি সময় এবং অন্তর্বর্তীকালীন মেয়াদ বৃদ্ধির আর্জি জানিয়েছে।

মঙ্গলবার যোগ্য শিক্ষকদের আইনজীবীরা আদালতের দৃষ্টি আকর্ষণ করে জানান, ৩১ আগস্টের পর তাঁদের ভবিষ্যৎ সম্পূর্ণ অনিশ্চিত হয়ে পড়বে। তাই এই আবেদনের অতি দ্রুত শুনানি প্রয়োজন। অন্যদিকে, রাজ্য সরকারের শিক্ষা দফতর ও এসএসসি-র তরফ থেকেও একই আবেদন করা হয়।উভয় পক্ষের সওয়াল শুনে সুপ্রিম কোর্ট এই আবেদনটি নথিভুক্ত করেছে এবং আশ্বস্ত করেছে যে, ৩১ আগস্টের ডেডলাইন শেষ হওয়ার আগেই আদালত এই অন্তর্বর্তীকালীন মেয়াদ বৃদ্ধির বিষয়ে শুনানি করবে এবং প্রয়োজনীয় নির্দেশ দেবে। এই সিদ্ধান্তের ফলে চাকরিহারা প্যানেলের হাজার হাজার যোগ্য শিক্ষক আপাতত আইনি লড়াইয়ে বড় স্বস্তি পেলেন।