প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-শিক্ষক দিবসের পুণ্যলগ্নে দাঁড়িয়ে রাজ্যের লক্ষ লক্ষ চাকরিপ্রার্থীর জন্য এক যুগান্তকারী ও নজিরবিহীন প্রশাসনিক সংস্কারের কথা ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শনিবার কলকাতার নিউটাউন কনভেনশন সেন্টারে বিদ্যালয় শিক্ষা ও উচ্চশিক্ষা দফতরের উদ্যোগে আয়োজিত বিশেষ অনুষ্ঠানে যোগ দেন তিনি। সেখান থেকেই স্কুল সার্ভিস কমিশনের (SSC) স্বচ্ছতা ফেরাতে এবং দ্রুত শিক্ষক নিয়োগ করতে এক ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত সামনে এনেছেন মুখ্যমন্ত্রী। বিগত বছরগুলোর নিয়োগ সংক্রান্ত জটিলতা এবং চাকরিপ্রার্থীদের দীর্ঘ আন্দোলনের আবহের কথা সরাসরি স্বীকার করে নিয়ে শুভেন্দু অধিকারী অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “বহু জটিলতা, বহু বন্ধুর পথ পেরিয়ে চলতে হচ্ছে আমাদের”। তবে সেই অচলাবস্থা কাটিয়ে এবার মেধার ভিত্তিতে প্রকৃত নিয়োগ সুনিশ্চিত করতে বড়সড় প্রশাসনিক রদবদল করেছে নতুন সরকার।

নিয়োগের ক্ষেত্রে মানুষের হারিয়ে যাওয়া ভরসা ও নিরপেক্ষতা পুনরুদ্ধার করতে স্কুল সার্ভিস কমিশনের বোর্ডে দেশের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ ব্যক্তিত্বদের অন্তর্ভুক্ত করার ঘোষণা দেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, “ভুল থেকেই মানুষ শিক্ষা নেয়, SSC-তে ৩ জন রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশনের শিক্ষক রয়েছেন”।শিক্ষাক্ষেত্রের আধুনিক মূল্যায়ন এবং চূড়ান্ত স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে শুধু রামকৃষ্ণ মিশনই নয়, দেশের শীর্ষস্থানীয় ম্যানেজমেন্ট প্রতিষ্ঠান আইআইএম-কেও যুক্ত করা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী আরও জানান, “IIM থেকেও এক জনকে নেওয়া হয়েছে, আমরা শিক্ষক নিয়োগ করে দেব”। অর্থাৎ, নিয়োগ প্রক্রিয়াকে সম্পূর্ণ রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত করাই সরকারের প্রধান উদ্দেশ্য।

এদিন শিক্ষকতা পেশার গরিমা মনে করিয়ে দিতে ডক্টর সর্বপল্লি রাধাকৃষ্ণন এবং ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের আদর্শের কথা উল্লেখ করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, “প্রকৃত শিক্ষক কেমন হওয়া উচিত, উদাহরণ ডক্টর সর্বপল্লি রাধাকৃষ্ণন”। বিদ্যাসাগরের সংস্কারের প্রশংসা করে তিনি বলেন, “শিক্ষাক্ষেত্রে এক নতুন দিশা দিয়ে গিয়েছেন ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর। ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর সবচেয়ে বেশি কাজ করেছেন নারীশিক্ষার প্রসারে এবং তাঁর করা সব সংস্কার আজও প্রাসঙ্গিক”। রামকৃষ্ণ মিশন ও আইআইএম-এর মতো জাতীয় স্তরের প্রতিষ্ঠানের বিশেষজ্ঞদের নিয়োগ প্রক্রিয়ায় সামিল করার এই সিদ্ধান্ত বাংলার শিক্ষাক্ষেত্রের ইতিহাসে এক বিরাট মাইলফলক হতে চলেছে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।