প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-বিশ্ব রাজনীতি ও অর্থনীতির সবচেয়ে শক্তিশালী মঞ্চে দাঁড়িয়ে আজ এমন এক নজিরবিহীন ঘটনার সাক্ষী থাকল গোটা দুনিয়া, যা আন্তর্জাতিক মহলে তীব্র তোলপাড় সৃষ্টি করেছে। আজ, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ (শনিবার) নতুন দিল্লির প্রগতি ময়দানের ভারত মণ্ডপমে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হলো ১৮তম ব্রিকস (BRICS) শীর্ষ সম্মেলন। চিনের রাষ্ট্রপতি শি জিনপিং এবং রাশিয়ার রাষ্ট্রপতি ভ্লাদিমির পুতিনের মতো বিশ্বের তাবড় ও হেভিওয়েট রাষ্ট্রনেতাদের সামনে বসিয়ে উদ্বোধনী বক্তব্যেই এক অবিশ্বাস্য কূটনৈতিক মোড় এনে দিলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। বর্তমান বিশ্বজুড়ে চলা চরম যুদ্ধ পরিস্থিতি ও তীব্র ভূ-রাজনৈতিক টানাপোড়েনের মাঝেই বিশ্বমঞ্চে দাঁড়িয়ে প্রধানমন্ত্রী মোদী দ্ব্যর্থহীন ভাষায় এক জোরালো বন্ধুত্বের বার্তা দিয়ে ঘোষণা করেন, “ভারত সকলকে নিয়ে চলার পক্ষে। আমরা কারও বিরোধ নই।”

কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষমতাধর রাষ্ট্রনেতাদের চোখের সামনে দাঁড়িয়ে প্রধানমন্ত্রীর এই এক লাইনের ঘোষণার পেছনে এক গভীর বিশ্ব-কূটনীতি লুকিয়ে রয়েছে। ব্রিকস জোটকে অনেকে পাশ্চাত্য বা আমেরিকা-বিরোধী মঞ্চ হিসেবে দেখাতে চাইলেও মোদী তা সরাসরি নস্যাৎ করে দিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট বুঝিয়ে দিয়েছেন, ভারত কারও পুতুল নয় এবং কোনও নির্দিষ্ট সামরিক বা রাজনৈতিক ব্লকের অন্ধ অনুগামীও নয়।এক রাষ্ট্র অন্য রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব ও ভাবাবেগকে সম্মান জানানোর আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন:”আমরা একে অন্যের মতকে সমর্থন করি।”

ভাষণে প্রধানমন্ত্রী মোদী কেবল বড় বড় কথা বলেননি, বরং গ্লোবাল সাউথ (উন্নয়নশীল বিশ্ব)-এর দেশগুলির অর্থনৈতিক সক্ষমতা বাড়াতে এবং বিশ্ব পরিচালনায় সমতা আনতে সুনির্দিষ্ট প্রস্তাবের মেগা রোডম্যাপ পেশ করেছেন। তিনি সাফ জানান, বাণিজ্যিক বা সামরিক ক্ষমতার আস্ফালনের চেয়েও মানবকেন্দ্রীক উন্নয়নই ভারতের মূল লক্ষ্য। এর পাশাপাশি বিশ্বমঞ্চে দাঁড়িয়ে রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ (UNSC)-র আমূল সংস্কারের দাবি তুলে ধরে তিনি জানান, বর্তমান বৈশ্বিক বাস্তবতার নিরিখে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলির পরিবর্তন না হলে তার প্রাসঙ্গিকতা হারিয়ে যাবে। সীমান্ত জট এবং আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে বিভিন্ন দেশের রেষারেষি সামলে কীভাবে ভারত ব্রিকস মঞ্চে সব শক্তিশালী রাষ্ট্রকে এক সুতোয় বাঁধছে, তা দেখে রীতিমতো স্তম্ভিত আন্তর্জাতিক মহল। দিল্লির এই মেগা ব্রিকস সম্মেলন থেকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর দেওয়া এই ভারসাম্যপূর্ণ এবং মানবিক বার্তা আন্তর্জাতিক স্তরে ভারতের কূটনৈতিক শ্রেষ্ঠত্বকে আরও একবার বিশ্বের দরবারে তুলে ধরল।