প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-রাজ্যে দুর্নীতি রুখতে দিকে দিকে কড়া অভিযান চালাচ্ছে রাজ্য সরকারের দুর্নীতি দমন শাখা (Anti Corruption Bureau)। এবার সরাসরি পুলিশের নাকের ডগা থেকে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগে হাতেনাতে গ্রেফতার করা হলো এক সিভিক ভলান্টিয়ারকে। সাধারণ মানুষের থেকে অন্যায়ভাবে টাকা হাতানোর অপরাধে ওত পেতে বসে থাকা দুর্নীতি দমন শাখার আধিকারিকরা জাল পেতে ওই সিভিক ভলান্টিয়ারকে পাকড়াও করেছেন। আজ শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬) পূর্ব মেদিনীপুর জেলায় ঘটা এই চাঞ্চল্যকর ঘটনায় ব্যাপক হুলস্থুল পড়ে গিয়েছে গোটা পুলিশ মহলে।

দুর্নীতি দমন শাখা সূত্রে খবর, সাধারণ মানুষের চাকরির ভেরিফিকেশন বা পাসপোর্টের মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজের জন্য পুলিশি ছাড়পত্র (Police Clearance) পাইয়ে দেওয়ার নাম করে দীর্ঘদিন ধরে একটি চক্র সক্রিয় ছিল। ধৃত ওই সিভিক ভলান্টিয়ার সাধারণ মানুষের অসহায়তার সুযোগ নিয়ে প্রতিটি ফাইলের জন্য মোটা টাকা দাবি করতেন। সম্প্রতি এক ব্যক্তি দুর্নীতি দমন শাখার কাছে অভিযোগ করেন যে, সামান্য একটি সরকারি ছাড়পত্র বা ভেরিফিকেশনের জন্য তাঁর কাছে ১ হাজার টাকা ঘুষ দাবি করেছেন ওই সিভিক ভলান্টিয়ার।

অভিযোগ পাওয়ার পরই নজিরবিহীন ফাঁদ পাতেন রাজ্যের দুর্নীতি দমন শাখার গোয়েন্দারা। পূর্ব মেদিনীপুরের একটি নির্দিষ্ট এলাকায় সাধারণ মানুষের ছদ্মবেশে ওত পেতে ছিলেন এসিবি (ACB)-র দুঁদে আধিকারিকরা। পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী, অভিযোগকারী ব্যক্তি যখনই ওই সিভিক ভলান্টিয়ারের হাতে ঘুষের ১ হাজার টাকা তুলে দিচ্ছিলেন, ঠিক তখনই বাজপাখির মতো ঝাঁপিয়ে পড়েন গোয়েন্দারা। ঘুষের টাকা হাতবদলের মুহূর্তেই হাতেনাতে পাকড়াও করা হয় ওই সিভিক ভলান্টিয়ারকে। তাঁর কাছ থেকে ঘুষের সেই চিহ্নিত টাকাও হাতে-নাতে বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।

মাত্র ১ হাজার টাকার জন্য একজন সিভিক ভলান্টিয়ারের এই দুঃসাহস এবং হাতেনাতে ধরা পড়ার ঘটনাটি সামনে আসতেই পূর্ব মেদিনীপুর জেলা পুলিশের অন্দরে তোলপাড় শুরু হয়েছে। প্রশ্ন উঠছে, একজন সিভিক ভলান্টিয়ার কি নিজের একার ক্ষমতায় এত বড় সাহস দেখাতে পারেন? নাকি এই ১ হাজার টাকার ভাগ থানার অন্য কোনও বড় বাবুর পকেটেও যেত? দুর্নীতি দমন শাখার আধিকারিকরা ধৃতকে হেফাজতে নিয়ে জেরা শুরু করেছেন এবং এই ভেরিফিকেশন দুর্নীতির পেছনে আর কোনও বড় চক্র বা পুলিশ অফিসার জড়িত আছেন কিনা, তা কড়াভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।