প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-আসন্ন উপনির্বাচনের ঠিক মুখে চরম রাজনৈতিক সংকটে রাজ্য রাজনীতি। গতকাল (১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬) ভারতের নির্বাচন কমিশন (ECI) এক অভূতপূর্ব অন্তর্বর্তী নির্দেশ জারি করে অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেসের নাম এবং তাদের সংরক্ষিত ‘জোড়া ঘাসফুল’ প্রতীক সাময়িকভাবে ফ্রিজ (স্থগিত) করে দিয়েছে। কমিশনের এই কড়া সিদ্ধান্তের সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়তে চলেছে আগামী ৬ অক্টোবর ২০২৬-এর নন্দীগ্রাম এবং রেজিনগর বিধানসভা কেন্দ্রের হাইভোল্টেজ উপনির্বাচনে। নির্বাচনী ময়দানে ঘাসফুল প্রতীক না থাকায়, গ্রামবাংলার চিরাচরিত ভোটব্যাঙ্কে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন শিবিরের জন্য এই লড়াই এখন এক বিশাল রাজনৈতিক অগ্নিপরীক্ষায় পরিণত হয়েছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, গ্রামবাংলার রাজনীতিতে প্রতীকের পরিচিতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বিশেষ করে নিচুতলার বহু প্রবীণ ও সাধারণ ভোটার প্রার্থীর নামের চেয়েও দলের ‘জোড়া ঘাসফুল’ চিহ্নের ওপর ভরসা করে ভোট দিয়ে এসেছেন।কিন্তু নির্বাচন কমিশনের স্পষ্ট নির্দেশের পর, ৬ অক্টোবরের উপনির্বাচনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের গোষ্ঠী কিংবা বিদ্রোহী ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের গোষ্ঠী—কোনও পক্ষই এই মূল নাম ও প্রতীক ব্যবহার করতে পারবে না। আজ, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ (শুক্রবার) সকাল ১১টার ডেডলাইনের মধ্যে দুই শিবিরকেই তিনটি বিকল্প নাম এবং তিনটি মুক্ত প্রতীক (Free Symbols) জমা দিতে বলা হয়েছিল। ফলে ইভিএম-এ সম্পূর্ণ এক নতুন এবং অপরিচিত প্রতীকে লড়াই করতে হবে মমতা শিবিরের প্রার্থীদের। গ্রামীণ ভোটারদের মধ্যে এই স্বল্প সময়ে নতুন চিহ্নের পরিচিতি ঘটানো অত্যন্ত বড় চ্যালেঞ্জ।

২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে নন্দীগ্রাম আসন থেকে জিতেছিলেন বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী তথা বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী। তবে তিনি ভবানীপুর আসনটিও জেতায় নন্দীগ্রাম আসনটি ছেড়ে দেন, যার ফলে এখানে উপনির্বাচন অনিবার্য হয়ে পড়ে। এবার এখানে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হতে চলেছে অত্যন্ত জটিল।শুভেন্দু অধিকারীর অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ এবং সদ্য প্রয়াত বিজেপি কর্মীর মা হাসিরানি রথ-কে প্রার্থী করে ইতিমধ্যেই বড় রাজনৈতিক চাল চেলেছে পদ্ম শিবির। বিতর্ক উপেক্ষা করে টেট (TET) দুর্নীতি মামলায় নাম জড়ানো বিতর্কিত নেত্রী সঞ্চিতা প্রধান দে-কে প্রার্থী করেছে মমতা শিবির, যা নিয়ে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক তরজা তুঙ্গে। অরূপ রায় ও ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন দলত্যাগী গোষ্ঠীও এই উপনির্বাচনে পৃথক প্রার্থী দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছে। তবে প্রতীক ফ্রিজ হওয়ায় দুই তৃণমূল বন্ধনীতেই এখন নতুন নাম ও চিহ্নের লড়াই।

মুর্শিদাবাদের রেজিনগর বিধানসভা কেন্দ্রটিতেও একই দিনে উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। আম জনতা উন্নয়ন পার্টির (AJUP) প্রতিষ্ঠাতা হুমায়ুন কবির পদত্যাগ করায় এই আসনটি শূন্য হয়েছিল। এই কেন্দ্রে সংখ্যালঘু ভোটব্যাঙ্ক একটি বড় ফ্যাক্টর এবং বিজেপি ইতিমধ্যেই এখানে তাদের রাজ্য সম্পাদক শাখারভ সরকার-কে প্রার্থী হিসেবে দাঁড় করিয়েছে। বিজেপি এই দুটি উপনির্বাচনকে সংখ্যালঘু ভোটারদের জন্য “সরকারের পাশে দাঁড়ানোর পরীক্ষা” হিসেবে তুলে ধরছে। এই পরিস্থিতিতে মূল ঘাসফুল প্রতীক না থাকায় সংখ্যালঘু ও ধর্মনিরপেক্ষ ভোটব্যাঙ্ক বিভাজিত হয়ে কংগ্রেস-বাম জোট কিংবা বিজেপির দিকে চলে যায় কিনা, তা নিয়ে নবান্নের অন্দরেও চুলচেরা বিশ্লেষণ শুরু হয়েছে। স্বল্প সময়ের মধ্যে নতুন প্রতীকের প্রচার করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর দুর্গ ধরে রাখতে পারেন, নাকি এই দলীয় কোন্দল ও প্রতীক হারানোর সুবিধা নিয়ে বিজেপি ও বিদ্রোহী শিবির বাজিমাত করে, তা জানা যাবে আগামী ৯ অক্টোবর ২০২৬ ভোট গণনার দিন।