প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-মে ২০২৬-এর ঐতিহাসিক রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নিয়ে শুভেন্দু অধিকারী বারবার জোর দিয়েছেন স্বচ্ছ প্রশাসন ও সুশাসনের (Good Governance) ওপর। তবে ক্ষমতা পাওয়ার মাত্র চার মাসের মধ্যেই রাজ্য রাজনীতিতে এক নতুন আশঙ্কার মেঘ দানা বাঁধছে। নির্বাচন কমিশনের কোপে তৃণমূলের প্রতীক ফ্রিজ হওয়া এবং একের পর এক আইনি গেরোয় বিরোধী শিবির যখন কার্যত দিশেহারা, তখন প্রশাসনিক অলিন্দে এক বড় প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে—মাঠ সম্পূর্ণ বিরোধী-শূন্য হয়ে গেলে কি শেষ পর্যন্ত আমলাতন্ত্রের (Bureaucracy) রাশ আলগা হয়ে যাবে? রাষ্ট্রবিজ্ঞানের বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, শক্তিশালী বিরোধী দল না থাকলে সরকারের অন্দরে এক মারাত্মক আত্মতুষ্টি জন্ম নেয়, যার সুযোগ নিয়ে একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করে আমলাতন্ত্র।

একটি শক্তিশালী বিরোধী দল কেবল বিধানসভাতেই সোচ্চার থাকে না, তারা সরকারকে প্রতিনিয়ত সতর্ক রাখে এবং সুশাসনের পাহারাদার হিসেবে কাজ করে। সরকারের যেকোনো ভুল নীতি, আমলাদের খামখেয়ালিপনা বা দুর্নীতির খবরকে রাজপথে টেনে আনে বিরোধীরাই। কিন্তু বর্তমান পশ্চিমবঙ্গে যেভাবে বিরোধী স্পেস ক্রমশ সংকুচিত হয়ে পড়ছে, তাতে প্রশাসনের অন্দরে এক মারাত্মক আত্মতুষ্টি এবং অহংকার গ্রাস করার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে। কোনো ভুল সিদ্ধান্ত বা ফাইলের লাল ফিতের ফাঁশকে চ্যালেঞ্জ করার মতো শক্তিশালী প্রতিপক্ষ যখন সামনে থাকবে না, তখন আমলারা স্বৈরাচারী হয়ে উঠতে পারেন।

ইতিহাস সাক্ষী, অতীতে যখনই কোনো শক্তিশালী বা একচ্ছত্র শাসক দল দীর্ঘ সময় রাজত্ব করেছে এবং বিরোধীরা দুর্বল থেকেছে, তখনই প্রশাসনের মূল রাশ রাজনৈতিক নেতৃত্বের হাত থেকে চলে গিয়েছে একচ্ছত্র আমলাতন্ত্রের হাতে। আমলারা যখন বুঝতে পারেন যে তাদের নেওয়া সিদ্ধান্তের ওপর কড়া নজরদারি রাখার মতো কোনো শক্তিশালী বিরোধী দল মাঠে নেই, তখন তারা সাধারণ মানুষ এবং নিচুতলার দলীয় কর্মীদের আকাঙ্ক্ষাকে গুরুত্ব দেওয়া কমিয়ে দেন। আমলাদের এই অতি-সক্রিয়তা এবং দাপট বাড়লে শেষ পর্যন্ত সাধারণ মানুষের ক্ষোভ বাড়ে, যার খেসারত দিতে হয় নির্বাচিত সরকারকে।

মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী নিজে প্রশাসনের খুঁটিনাটি খুব ভালো বোঝেন। তিনি খুব ভালো করেই জানেন যে, সুশাসন বজায় রাখতে গেলে যেমন কড়া অনুশাসন দরকার, তেমনই দরকার মাঠের বাস্তব ফিডব্যাক। শক্তিশালী বিরোধী দল না থাকলে সরকার অনেক সময়ই বাস্তব চিত্রটি দেখতে পায় না এবং আমলাদের সাজানো ফাইলের ওপর নির্ভর করতে বাধ্য হয়। শুভেন্দু জমানার দীর্ঘমেয়াদি সাফল্যের স্বার্থেই বর্তমান প্রশাসনের উচিত বিরোধীদের নিজস্ব গণতান্ত্রিক স্পেস দেওয়া এবং আমলাতন্ত্রের ওপর রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ সুনিশ্চিত করা। মাঠ সম্পূর্ণ ফাঁকা হয়ে গেলে সরকার যে ক্রমশ আমলা-নির্ভর ও জনবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়তে পারে, সেই সতর্কবার্তা কিন্তু এখনই দিতে শুরু করেছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।