প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-পশ্চিমবঙ্গের মৎস্যশিল্পের আধুনিকীকরণ এবং মৎস্যজীবীদের অর্থনৈতিক মানোন্নয়নে এক বিরাট ঐতিহাসিক পদক্ষেপ নিল কেন্দ্র ও রাজ্যের নতুন ডবল ইঞ্জিন সরকার। সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬) নিউটাউনের প্রাণিসম্পদ বিকাশ দফতরে কেন্দ্রীয় মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী রাজীব রঞ্জন সিংয়ের সঙ্গে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর এক উচ্চপর্যায়ের পর্যালোচনা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। প্রায় দেড় ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে চলা এই মেগা বৈঠক শেষে মুখ্যমন্ত্রী জানান, রাজ্যে মৎস্যক্ষেত্রের পরিকাঠামোকে ঢেলে সাজাতে কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে ৯ কোটি টাকা বরাদ্দ ও হস্তান্তর করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় এই অনুদান সরাসরি ‘প্রধানমন্ত্রী মৎস্য সম্পদ যোজনা’ (PMMSY) এবং রাজ্যের মৎস্যজীবীদের বৈজ্ঞানিক পরিকাঠামো উন্নয়নে ব্যবহার করা হবে। বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রীর পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের মৎস্য প্রতিমন্ত্রী এবং মুখ্যসচিব মনোজ আগরওয়াল।
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, কেন্দ্রীয় এই ঐতিহাসিক প্রকল্পের সুবিধা থেকে এ রাজ্যের কোনও মৎস্যজীবী আর বঞ্চিত হবেন না। রাজ্যের সমস্ত মৎস্যজীবীরাই এই যোজনার সরাসরি আওতায় আসবেন। বিগত সরকারের অসহযোগিতার কারণে যে কাজ ৫ বছর ধরে আটকে ছিল, বর্তমান নতুন সরকার মাত্র ৪ মাসের তৎপরতায় তা বাস্তবায়িত করেছে। ইতিমধ্যেই এই প্রকল্পের পোর্টালে প্রায় ২ লক্ষ ৮০ হাজার মৎস্যজীবী আবেদন করেছেন, যার মধ্যে ১ লক্ষ ২০ হাজার জনের নাম নথিভুক্তকরণ সম্পন্ন হয়েছে। বাকিদেরও দ্রুত এই পোর্টালের আওতাভুক্ত করা হবে। প্রকল্পের মূল লক্ষ্য হলো কিসান ক্রেডিট কার্ডের (KCC) মাধ্যমে মৎস্যজীবীদের ঋণ প্রদান নিশ্চিত করা এবং তাঁদের সামাজিক নিরাপত্তা দেওয়া হবে।
মাছের উৎপাদন বাড়াতে এবং মৎস্যজীবীদের আয় দ্বিগুণ করার লক্ষ্যে রাজ্যজুড়ে বিশেষ আধুনিক ও বৈজ্ঞানিক প্রশিক্ষণের রূপরেখা তৈরি করা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী মন্তব্য করেন, “রাজ্যে মৎস্য উন্নয়নের ক্ষেত্রে এটি একটি অনেক বড় সুযোগ।” আগামী মাসে চালু হতে চলা ‘প্রধানমন্ত্রী মৎস্য সম্পদ যোজনা ২’-এর অধীনে মাছের প্রসেসিং প্ল্যান্ট, প্যাকেজিং, বিশ্বমানের ব্র্যান্ডিং এবং আধুনিক কোল্ড চেন তৈরিতে কেন্দ্র সম্পূর্ণ প্রযুক্তিগত ও আর্থিক সহায়তা দেবে। শুষ্ক জেলা হিসেবে পরিচিত পুরুলিয়া ও বাঁকুড়ায় মাছ চাষের সমস্যা দূর করতে এবং জল সংরক্ষণের জন্য ৬টি বিশেষ ‘অমৃত সরোবর’ প্রকল্প তৈরির বড় অনুমোদন দিয়েছে কেন্দ্র।মৎস্যজীবীদের সুরক্ষায় এবং দুর্যোগের আগাম সতর্কবার্তা পেতে বোট ও ভেসেলে অত্যাধুনিক উপগ্রহ-সংযুক্ত ‘ট্রান্সপন্ডার’ প্রযুক্তি বসানো হচ্ছে। সমুদ্রে আরও এক হাজার ট্রান্সপন্ডার দেওয়া হবে। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী রাজীব রঞ্জন সিং জানান, মাছ উৎপাদনে পশ্চিমবঙ্গ বর্তমানে দেশের মধ্যে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে। নতুন সরকারের সহযোগিতায় এবার সুন্দরবন অঞ্চলকে ‘ব্ল্যাক টাইগার শ্রিম্প’ (Black Tiger Shrimp) এবং ‘মাড ক্র্যাব’ (Mud Crab) উৎপাদনের বিশ্বমানের মেগা হাব হিসেবে গড়ে তোলা হবে। এর পাশাপাশি পূর্ব মেদিনীপুর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনার উপকূলবর্তী এলাকায় অ্যাকোয়াকালচার সম্প্রসারণের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক বাজারে মাছের রফতানি বিপুল পরিমাণে বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।