প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-কলকাতার রাজপথের ইতিহাস এবার আমূল বদলে যাওয়ার মুখে! দীর্ঘ বাম আমলের বামপন্থী প্রতীক এবং পূর্বতন জমানার স্মৃতি মুছে শহরের একাধিক অতি পরিচিত ও ব্যস্ততম রাস্তার নাম পরিবর্তনের তোড়জোড় শুরু করল রাজ্য সরকার। সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬) কলকাতা পুরসভায় (KMC) নবগঠিত ১০ সদস্যের ‘রোড রি-নেমিং কমিটি’ বা নতুন করে নামকরণ মূল্যায়ন কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে প্রথমবার নিজের বরাদ্দ দফতরে এসে বসেন ভারত সেবাশ্রম সঙ্ঘের প্রখ্যাত সন্ন্যাসী কার্তিক মহারাজ (স্বামী প্রদীপ্তানন্দ)। আর দায়িত্ব গ্রহণের প্রথম দিনেই কলকাতার বেশ কিছু ঐতিহাসিক রাস্তার নাম পরিবর্তনের মেগা প্রস্তাবের কথা সংবাদমাধ্যমের সামনে এনে তীব্র জল্পনা বাড়িয়ে দিয়েছেন তিনি। কলকাতা পুরসভা ভবন বা কেএমসি সদর দফতরের ভিআইপি করিডোরে কার্তিক মহারাজের জন্য একটি বিশেষ স্থায়ী অফিস ঘর বরাদ্দ করা হয়েছে। প্রথমবার নিজের অফিসে বসেই তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন, আগামী দিনে কলকাতার রাস্তা, সেতু এবং জনবহুল এলাকার নামকরণের ক্ষেত্রে ভারতের সনাতনী সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও জাতীয় চেতনাকে সবচেয়ে বেশি অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।
কার্তিক মহারাজ জানান, দায়িত্ব নেওয়ার পর ইতিমধ্যেই তাঁর কমিটির দফতরে ১০০টিরও বেশি রাস্তা ও জনপরিসরের নাম সংশোধনের প্রাথমিক প্রস্তাব এসে পৌঁছেছে। যার মধ্যে সবচেয়ে চর্চিত নামগুলি হলো:লেনিন সরণি। বাম জমানার অন্যতম প্রতীক এই মার্ক্সবাদী ও বিদেশি কমিউনিস্ট নেতাদের নামের রাস্তা বদলের জোরালো আর্জি জমা পড়েছে। কার্তিক মহারাজ সরাসরি প্রশ্ন তুলে বলেন, “যে নামগুলির সঙ্গে ভারতের মাটির বা সংস্কৃতির কোনও টান নেই, সেই বোঝা কেন আমরা generations (প্রজন্মের পর প্রজন্ম) বয়ে বেড়াব?” পূর্বতন তৃণমূল সরকারের অন্যতম বড় ব্র্যান্ড ‘বিশ্ব বাংলা’-র নামে তৈরি এই সরণিটির নামও বদলে ফেলার প্রস্তাব এসেছে। বিভিন্ন মঠ ও আশ্রমের পক্ষ থেকে এই রাস্তাটির নাম মহাপ্রভু শ্রী চৈতন্য দেবের নামে করার জোরদার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। পার্ক সার্কাস সেভেন পয়েন্ট: তালিকায় রয়েছে কলকাতার এই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ক্রসিং ও রাস্তাগুলিও। মারওয়াড়ি সমাজসহ বিভিন্ন মহল থেকে স্ট্র্যান্ড রোডের নাম পরিবর্তনের আবেদন জমা পড়েছে।
ভারতীয় মণীষীদের সম্মান কমিটির চেয়ারম্যান আরও জানান যে, ১৯৮৪ সালে খিদিরপুর ডক অঞ্চলে কর্তব্যরত অবস্থায় নৃশংসভাবে নিহত আইপিএস অফিসার বিনোদ মেহতার স্মৃতি রক্ষার্থে শহরের একটি গুরুত্বপূর্ণ রাস্তার নামকরণের প্রস্তাব এসেছে, যা খতিয়ে দেখছে কমিটি। তিনি সাফ জানিয়েছেন, আগামী দিনে কলকাতার বিতর্কিত ও পুরনো রাস্তাগুলির নাম বদলে ভারতের মহান মণীষী, ঋষি ও বিপ্লবীদের (যেমন রাসবিহারী বসু, ক্ষুদিরাম বসু, প্রফুল্ল চাকী, উল্লাসকর দত্ত) নামে করার বিষয়েই কমিটি চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে। রাজ্য সরকার কর্তৃক গঠিত এই ১০ সদস্যের উচ্চপর্যায়ের পর্যালোচনা কমিটিতে কার্তিক মহারাজ ছাড়াও রয়েছেন প্রাক্তন রাজ্যপাল তথা বর্ষীয়ান নেতা তথাগত রায়, মুখ্যমন্ত্রীর প্রধান উপদেষ্টা সুব্রত গুপ্ত এবং কলকাতা পুরসভার কমিশনার স্মিতা পাণ্ডে-সহ একাধিক দফতরের উচ্চপদস্থ সচিবেরা। কার্তিক মহারাজ জানিয়েছেন, আসন্ন দুর্গোৎসব তথা পুজো শেষ হওয়ার পরেই পুরসভার এই প্রধান কার্যালয়ে কমিটির প্রথম আনুষ্ঠানিক মেগা বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হতে পারে, যেখানে এই সমস্ত বিতর্কিত প্রস্তাবগুলির ওপর স্ক্রুটিনি করে চূড়ান্ত সিলমোহর দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হবে।