প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-বীরভূমের বিতর্কিত ও প্রভাবশালী পাথর ব্যবসায়ী তথা ‘বালি ও পাথর মাফিয়া’ হিসেবে পরিচিত মোঃ নাজিবুদ্দিন মণ্ডল ওরফে টুলু মণ্ডলের আইনি লড়াইয়ে বড়সড় বিপর্যয় নামল। গ্রেফতারি এড়াতে এবং পুলিশের দায়ের করা এফআইআর (FIR) বাতিলের দাবিতে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন এই পাথরসম্রাটের আইনজীবী। তবে আজ, মঙ্গলবার, তাঁর সেই রক্ষাকবচের আবেদন সম্পূর্ণ খারিজ করে দিয়েছে হাইকোর্টের বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের একক বেঞ্চ। মামলার শুনানির সময় এজলাসেই টুলুর আইনজীবীকে উদ্দেশ্য করে বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য অত্যন্ত কড়া ভাষায় এক নজিরবিহীন মন্তব্য করেন, “আপনার কবর, আপনিই খুঁড়েছেন।”

টুলু মণ্ডলের আইনজীবী আদালতে সওয়াল করেন যে, মহম্মদবাজার থানায় এফআইআর দায়েরের দিনই অভিযুক্তের বিরুদ্ধে নিম্ন আদালত জামিন অযোগ্য গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছে, যা নিয়মবহির্ভূত। তবে রাজ্য সরকারের পক্ষে অতিরিক্ত অ্যাডভোকেট জেনারেল বিল্বদল ভট্টাচার্য এবং রাজ্যের আইনজীবীরা এর তীব্র বিরোধিতা করেন।পুলিশের পেশ করা মুখবন্ধ খামের স্ট্যাটাস রিপোর্ট খতিয়ে দেখে আদালত জানতে পারে, ‘ন্যাশনাল ইন্টেলিজেন্স গ্রিড’ (NATGRID)-এর তথ্য অনুযায়ী, গত ২৩ মে-ই দেশ ছেড়ে বিদেশে পালিয়ে গিয়েছেন টুলু মণ্ডল। তদন্তকারী সংস্থা জানায়, অভিযুক্ত দেশ পলাতক বলেই তদন্তের স্বার্থে নিম্ন আদালত তাঁর বিরুদ্ধে সঠিকভাবেই গ্রেফতারি পরোয়ানা ও হুলিয়া জারি করেছে। এরপরই বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য স্পষ্ট জানিয়ে দেন, এটি একটি অত্যন্ত বড় অপরাধের মামলা এবং পুলিশি তদন্তে কোনোভাবেই হস্তক্ষেপ করবে না হাইকোর্ট।

গত ২৮ জুলাই গভীর রাতে বীরভূমের মহম্মদবাজার থানার ডেউচা গ্রামে টুলু মণ্ডলের এক আত্মীয়ের বাড়িতে ম্যারাথন হানা দেয় পুলিশ। সেই তল্লাশিতে বাড়িটি থেকে নগদ ২৮ কোটি ৫৩ লক্ষ টাকা এবং ৫ কেজি সোনার বার (যার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৫০ কোটি টাকা) উদ্ধার করা হয়। এর পরেই হদিস মেলে টুলুর বিপুল সম্পত্তি, বিলাসবহুল প্রাসাদ ও একাধিক ব্যাংক অ্যাকাউন্টের। ঘটনার পর থেকেই তিনি বেপাত্তা ছিলেন এবং বর্তমানে তাঁর বিরুদ্ধে নিম্ন আদালতের নির্দেশমতো হাজির হওয়ার চরম নির্দেশ বহাল রাখল কলকাতা হাইকোর্ট।