প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-মহান বিপ্লবী শহীদ ভগৎ সিংয়ের জন্মবার্ষিকী পালনকে কেন্দ্র করে সোমবার সকালে চরম উত্তেজনার সাক্ষী থাকল কলকাতার মিন্টো পার্ক (শহীদ ভগৎ সিং উদ্যান)। বামপন্থীদের পূর্বনির্ধারিত শ্রদ্ধাঞ্জলি কর্মসূচির ঠিক পরপরই কলকাতা পুরসভার (KMC) কর্মীদের অতিসক্রিয়তা এবং বামেদের দলীয় পতাকা জোরপূর্বক খুলে ফেলার অভিযোগকে কেন্দ্র করে পরিস্থিতি কার্যত রণক্ষেত্রের চেহারা নেয়।আজ, ২৮ সেপ্টেম্বর সকালে, মিন্টো পার্কে শহীদ ভগৎ সিংয়ের মূর্তির পাদদেশে মাল্যদান ও শ্রদ্ধা জ্ঞাপনের জন্য এক বিশেষ সমাবেশের আয়োজন করেছিল বামফ্রন্ট। এই কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন বামফ্রন্ট চেয়ারম্যান বিমান বসু, সিপিআই(এম) রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিমসহ শীর্ষস্তরের একাধিক বাম নেতা।

প্রত্যক্ষদর্শী ও দলীয় সূত্রের খবর, সোমবার সকাল থেকে বামেদের কর্মসূচিটি অত্যন্ত শান্তিপূর্ণভাবেই চলছিল। বিমান বসু, মহম্মদ সেলিমরা মূর্তিতে শ্রদ্ধা জানিয়ে বক্তব্য পেশ করেন। কিন্তু বিতর্ক দানা বাঁধে ঠিক তার পরেই। সকাল ১০টা নাগাদ একই স্থানে কলকাতা পুরসভার (KMC) একটি সরকারি অনুষ্ঠান নির্ধারিত ছিল। বাম নেতাদের অভিযোগ, তাদের মূল কর্মসূচি শেষ হওয়ার ঠিক পরেই যখন কর্মীরা মাঠ ছাড়ছিলেন, তখন কলকাতা পুরসভার কর্মীরা সেখানে এসে অতিসক্রিয়তা দেখাতে শুরু করেন। পুরসভার অনুষ্ঠানের অজুহাত দিয়ে পার্কের চারপাশে লাগানো বামেদের দলীয় লাল পতাকা, ব্যানার এবং ফেস্টুনগুলি ছিঁড়ে এবং জোরপূর্বক খুলে সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।

বামেদের শ্রদ্ধাঞ্জলি শেষ হতে না হতেই এভাবে দলীয় প্রতীক ও পতাকা খুলে নেওয়ার ঘটনায় ক্ষোভে ফেটে পড়েন উপস্থিত বাম কর্মী-সমর্থকেরা। পুরসভার কর্মীদের এই ভূমিকার তীব্র বিরোধিতা করে তারা ঘটনাস্থলেই বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। পুরসভার আধিকারিক ও কর্মীদের সঙ্গে বাম সমর্থকদের তুমুল ধাক্কাধাক্কি ও কথা কাটাকাটি শুরু হয়। বাম শিবিরের স্পষ্ট দাবি, শহীদ ভগৎ সিং কোনও নির্দিষ্ট দল বা পুরসভার একার সম্পত্তি নন। একটি গণতান্ত্রিক এবং ঐতিহাসিক কর্মসূচি শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই এভাবে জোর করে দলীয় পতাকা সরিয়ে দেওয়ার নির্দেশ অত্যন্ত অপমানজনক এবং রাজনৈতিক প্রতিহিংসামূলক। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে পার্কের ভেতর দীর্ঘক্ষণ উত্তেজনা বজায় থাকে। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে হস্তক্ষেপ করতে হয় পুলিশকে। বিপ্লবীর জন্মদিনের মতো একটি পবিত্র দিনে কলকাতার বুকে এই ধরণের প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক সংঘাতের ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই নিন্দার ঝড় উঠেছে ওয়াকিবহাল মহলে।