প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-পশ্চিমবঙ্গের শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়ায় ফের এক অভূতপূর্ব ও নাটকীয় মোড়। কলকাতা হাইকোর্টের ঐতিহাসিক নির্দেশ এবং সংশোধিত সংরক্ষণ নীতি কঠোরভাবে মেনে চলতে গিয়ে একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণীর (Class XI-XII) সহকারি শিক্ষক নিয়োগের পূর্ববর্তী প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ স্তব্ধ করে দিল স্কুল সার্ভিস কমিশন (WBSSC)। গত সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬) কমিশনের পক্ষ থেকে জারি করা এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে যে, পূর্বে প্রকাশিত ইন্টারভিউয়ের প্রাথমিক তালিকা, চূড়ান্ত প্যানেল এবং ওয়েটিং লিস্ট সম্পূর্ণরূপে বাতিল ও প্রত্যাহার করে নেওয়া হলো। শুধু প্যানেল বাতিলই নয়, এই পুরোনো তালিকার ওপর ভিত্তি করে চাকরিপ্রার্থীদের যে সমস্ত কাউন্সিলিং প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছিল, সেগুলিকেও অবৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। একই সাথে কাউন্সিলিংয়ের পর বিলি করা সমস্ত নিয়োগের সুপারিশপত্রও (Recommendation Letters) কমিশন প্রত্যাহার করে নিয়েছে। এই সিদ্ধান্তের জেরে হঠাৎ করেই রাজ্যে হাজার হাজার শিক্ষক পদপ্রার্থীর ভবিষ্যৎ নিয়ে তীব্র অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
কমিশন সূত্রে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, ওবিসি (OBC) সংরক্ষণ কাঠামো এবং রোস্টার সংক্রান্ত জটিলতা কাটানোর জন্যই এই বড় রদবদল। কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী, বিগত জমানার ১৭% ওবিসি সংরক্ষণ বাতিল করে এবার ৭% ওবিসি সংরক্ষণের নতুন নিয়ম কার্যকর করতে বাধ্য হয়েছে কমিশন। এছাড়া ১০% আসন মিশে গিয়েছে সাধারণ (General) পরীক্ষার্থীদের সঙ্গে এবং ইডব্লিউএস (EWS) সংরক্ষণও আদালতের গাইডলাইন মেনেই পুনর্গঠন করা হয়েছে। এই কোটা পরিবর্তনের ফলেই মূলত প্যানেলটি সম্পূর্ণ নতুন করে তৈরি বা ‘রিকাস্ট’ (Recast) করতে হয়েছে। আর এই সমীকরণের রদবদলে পুরোনো তালিকা থেকে অন্তত ১ হাজারেরও বেশি যোগ্য চাকরিপ্রার্থী নতুন সংশোধিত তালিকা থেকে সরাসরি বাদ পড়েছেন, যার কারণে ক্ষোভ ও চরম অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে আন্দোলনকারী চাকরি প্রার্থীদের মনে।
১২,৪৪৫ টি শূন্যপদের বিপরীতে পুরোনো প্যানেল ভেঙে কমিশন এবার মোট ২০,২৪৪ জন চাকরিপ্রার্থীর একটি নতুন সংশোধিত প্রাথমিক তালিকা প্রকাশ করেছে। কোটা পরিবর্তনের জেরে প্রায় ৩,০০০ পুরোনো প্রার্থীর নাম যেমন বাদ পড়েছে, ঠিক একইভাবে প্রায় ৩,০০০ নতুন যোগ্য চাকরিপ্রার্থীর নাম এই সংশোধিত তালিকায় নতুন করে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। কমিশন বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানিয়েছে: তালিকায় নতুন করে যুক্ত হওয়া পরীক্ষার্থীদের নথি যাচাই, ইন্টারভিউ ও ক্লাস নেওয়ার পরীক্ষার দিনক্ষণ খুব দ্রুতই কমিশনের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে জানিয়ে দেওয়া হবে। যে সমস্ত প্রার্থীরা পূর্ববর্তী প্রক্রিয়ায় ইতিমধ্যে ইন্টারভিউ এবং ক্লাস নেওয়ার পরীক্ষা দিয়ে ধুকছেন, তাদের নতুন করে আর কোনও ইন্টারভিউ বা পরীক্ষা দিতে হবে না। তাঁদের আগের নম্বর বহাল রেখেই চূড়ান্ত মেধাতালিকা তৈরি হবে। বিগত সরকারের আমলে হওয়া প্রাতিষ্ঠানিক স্তরের ব্যাপক নিয়োগ দুর্নীতির জেরে সুপ্রিম কোর্ট ও হাইকোর্টের একের পর এক নির্দেশে শিক্ষক নিয়োগের জট বেড়েই চলেছিল। নতুন বিজেপি সরকার গঠনের পর শিক্ষা ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ স্বচ্ছতা বজায় রাখতে এবং ভবিষ্যৎ আইনি জটিলতা রুখতে কমিশন এই কড়া সিদ্ধান্ত নিল। সুপ্রিম কোর্টের বর্তমান নির্দেশ অনুযায়ী, আগামী ৩১ মে ২০২৭ সালের মধ্যে এই সমগ্র সংশোধিত নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে।