প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-রাজ্যের আসন্ন হাইভোল্টেজ উপনির্বাচনের দিনক্ষণ যত এগিয়ে আসছে, ততই পারদ চড়ছে বাংলার রাজনীতিতে। আগামী ৬ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হতে চলা নন্দীগ্রাম বিধানসভা কেন্দ্রের মেগা উপনির্বাচনকে পাখির চোখ করে নিজের খাসতালুকে দাঁড়িয়ে এবার বিশাল রাজনৈতিক চাল চাললেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। গতকাল, ২৯ সেপ্টেম্বর (মঙ্গলবার) রাত আটটা নাগাদ, নন্দীগ্রামের রেয়াপাড়ায় অবস্থিত বিধায়ক কার্যালয়ে নির্বাচনী কোর কমিটির সদস্যদের নিয়ে এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ রুদ্ধদ্বার বৈঠকে বসেন মুখ্যমন্ত্রী।২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে নন্দীগ্রাম আসনটিতে জয়লাভ করলেও পরবর্তীতে ভবানীপুর আসনটি ধরে রাখতে শুভেন্দু অধিকারী নন্দীগ্রামের বিধায়ক পদ থেকে ইস্তফা দেন, যার জেরে এই উপনির্বাচন হচ্ছে। প্রশাসনিক প্রধান হওয়ার পর নিজের চেনা মাটিতে দাঁড়িয়ে প্রতিপক্ষকে এক ইঞ্চি জমিও যে তিনি ছাড়তে নারাজ, তা এই দেড় ঘণ্টার ম্যারাথন বৈঠক থেকেই স্পষ্ট।
বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনের বিজেপি প্রার্থী হাসিরানি রথ এবং উপনির্বাচনের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা তথা কাঁথির সাংসদ সৌমেন্দু অধিকারী। এ ছাড়াও তমলুক সাংগঠনিক জেলার শীর্ষ নেতৃত্ব ও একাধিক বিধায়ক এই বৈঠকে অংশ নেন। রুদ্ধদ্বার বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসী ভঙ্গিতে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট ভাষায় দাবি করেন, “এই বিধানসভা কেন্দ্রে যা ফলাফল হবে, তা সবার কল্পনার বাইরে। বিজেপি প্রার্থী এমন এক মার্জিনে জিতবেন যা ভাবা যায় না।” তিনি আরও যোগ করেন, “আমি নন্দীগ্রামের ভোটার, আমি নিজে নন্দনায়েকবাড়ের বুথে ভোট দেব। মুখ্যমন্ত্রী যাকে ভোট দেবে, তার সঙ্গেই থাকবেন সাধারণ মানুষ।”
বৈঠকে নন্দীগ্রামের মাটি থেকে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্বকে তীব্র আক্রমণ শানান শুভেন্দু অধিকারী। তিনি মনে করিয়ে দেন, ২০২১ সালের নির্বাচনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নন্দীগ্রামে এসে পরিবর্তনের কথা বললেও মানুষ তাঁদের প্রত্যাখ্যান করেছিল। বিরোধীদের কড়া ভাষায় চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়ে তিনি প্রশ্ন করেন, “আর কত পরীক্ষায় বসাবেন নন্দীগ্রামের মানুষকে?” দলীয় কর্মীদের স্পষ্ট নির্দেশ দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, বুথ স্তরে যেন জনসংযোগ আরও জোরদার করা হয়।নবান্নে ক্ষমতা বদলের পর নন্দীগ্রামে বিজেপির এই সাংগঠনিক শক্তিপ্রদর্শন বিরোধী শিবিরের ওপর যে বাড়তি চাপ তৈরি করল, তা নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই।