প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-জাতীয় নির্বাচন কমিশনের ভোটার তালিকা সংশোধনের বিশেষ প্রক্রিয়া তথা ‘স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন’ (SIR) নিয়ে দেশজুড়ে রাজনৈতিক চাপানউতোরের মধ্যে কংগ্রেসের নীতিকে তীব্র আক্রমণ করলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম এক্স (X)-এ একটি দীর্ঘ পোস্টের মাধ্যমে তিনি কংগ্রেসের রাজনীতিকে “সুবিধাবাদী” এবং “দ্বিমুখী আচরণ” বলে তোপ দেগেছেন। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী তাঁর পোস্টে স্পষ্ট ভাষায় লিখেছেন, “ভণ্ডামির চরম নিদর্শন, কংগ্রেস ও তাদের সুবিধাবাদী রাজনীতি। কংগ্রেস ও তাদের সুবিধাবাদী জোটসঙ্গীদের দ্বিমুখী আচরণ আবারও পুরোপুরি উন্মোচিত হয়ে পড়েছে।” কনস্টিটিউশনাল বডি এবং প্রতিষ্ঠিত নির্বাচনী প্রক্রিয়া যেমন ভোটার তালিকা সংশোধনের (SIR) ক্ষেত্রে কংগ্রেস একটিই নির্লজ্জ নীতি মেনে চলে—”জিতলে কৃতিত্ব তাদের, আর হারলে পুরো ব্যবস্থাকেই কারচুপিপূর্ণ বলে দাগিয়ে দেওয়া হয়”।
কংগ্রেসের এই দ্বিচারিতা প্রমাণ করতে কেরল বিধানসভা নির্বাচনের প্রসঙ্গ টেনে এনেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি উল্লেখ করেন, “কেরলে যেখানে ক্ষমতা দখলের লড়াইয়ে কংগ্রেস-নেতৃত্বাধীন জোট বামপন্থীদের মুখোমুখি হয়েছিল, সেখানে তাদের নেতারা SIR প্রক্রিয়ার ভূয়সী প্রশংসা করেছিলেন।” ভুয়ো ভোটার বাদ দেওয়া এবং স্বচ্ছ তালিকা তৈরির জন্য তখন তারা এই প্রাতিষ্ঠানিক সতর্কতার কৃতিত্ব দাবি করেছিল। মুখ্যমন্ত্রী আরও কটাক্ষ করে বলেন, “যখন তারা জেতে, SIR প্রক্রিয়াটি তখন নিরপেক্ষ, বলিষ্ঠ। আর যখন তারা হারে তখন হঠাৎ করেই কারচুপিপূর্ণ, ত্রুটিপূর্ণ ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে।” শুভেন্দু অধিকারীর মতে, এটি নিছকই সুবিধাবাদী ও সংকীর্ণ রাজনীতি।
পশ্চিমবঙ্গ এবং দেশের সাধারণ মানুষ এই ধরনের রাজনীতি ধরে ফেলেছে দাবি করে মুখ্যমন্ত্রী মনে করিয়ে দেন, “পশ্চিমবঙ্গ এবং দেশের মানুষ তাদের এই ভণ্ডামির মুখোশটি ভালোভাবেই চিনে গেছে।” তিনি আরও যোগ করেন, “যে রাজনৈতিক দলের জনগণের প্রত্যাখ্যান মেনে নেওয়ার সাহস নেই, তারা গণতান্ত্রিক রুটিন প্রক্রিয়ার ওপর ভিত্তিহীন আক্রমণ চালিয়ে নিজেদের ব্যর্থতা আড়াল করতে পারে না।” বিবৃতির একদম শেষে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী লেখেন, “ভণ্ডামিরও একটা সীমা থাকে, কংগ্রেস ও তাদের জোটসঙ্গীদের ক্ষেত্রে দ্বিমুখী আচরণই যেন একমাত্র স্থায়ী নীতি।” দিল্লিতে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের বিরুদ্ধে বিরোধী দলগুলির বৈঠকের ঠিক আগের মুহূর্তে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর এই আক্রমণাত্মক পোস্ট বর্তমান রাজ্য তথা জাতীয় রাজনীতিতে এক বিরাট আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।