প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-রাজ্যের শিক্ষা ও স্কলারশিপ ব্যবস্থা নিয়ে বিগত সরকারের নীতিকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬) হাওড়ার ব্যাঁটরা মধুসূদন পাল চৌধুরী উচ্চ বিদ্যালয়ে রাজ্য সরকারের নতুন সাইকেল বিতরণ কর্মসূচি ‘সারথি’ (Saarthi)-র সূচনা অনুষ্ঠানে এসে তিনি এই বিস্ফোরক বক্তব্য পেশ করেন। নাম না করে পূর্বতন সরকারকে নিশানা করে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানান যে, ধর্মের ভিত্তিতে বৈষম্যের দিন শেষ, তাঁর সরকার সবার জন্য কাজ করবে। স্কুলপড়ুয়াদের জন্য স্কলারশিপের বণ্টন নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “পঞ্চম থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত একটা বিশেষ শ্রেণিকে স্কলারশিপ দেওয়া হত। একটা বিশেষ সম্প্রদায় স্কলারশিপ পেত, আর সনাতনীরা বঞ্চিত হত। আমরা সেই বৈষম্য বন্ধ করেছি”।
ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সমস্ত পড়ুয়া এবং অভিভাবকদের আশ্বস্ত করে মুখ্যমন্ত্রী অত্যন্ত সংবেদনশীল বার্তা দেন। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “সব সম্প্রদায়, সব ধর্ম মানা লোকেরা থাকবে; সরকার তো সকলের। আপনারা আমাদের সন্তান। আমার কাছে সবাই সমান, দেব যখন সবাইকে দেব, কাউকে বঞ্চিত করব না”।
শিক্ষা সংস্কারের অংশ হিসেবে ট্যাব বা মোবাইল কেনার জন্য টাকা দেওয়ার সরকারি নীতির তীব্র বিরোধিতা করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি স্পষ্ট বলেন, “আমি একটা জিনিসের ঘোর বিরোধী, স্কুল ছাত্রছাত্রীদের মোবাইল ফোন ব্যবহার। এটায় অনেক ক্ষতি হয়ে যাচ্ছে। আমরা শিক্ষা সংক্রান্ত কাজে ব্যবহার করা যাবে এমন জিনিস দেবো, কিন্তু মোবাইল দেবো না”। এর পাশাপাশি নারীশিক্ষার প্রসারে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের অবদানের কথা স্মরণ করে তিনি ঘোষণা করেন যে, উচ্চমাধ্যমিকের পর মেয়েরা কলেজে স্নাতক স্তরে (অনার্স নিয়ে) ভর্তি হলে তিন বছরে মোট ৫০ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে।
এদিনের অনুষ্ঠান থেকে মুখ্যমন্ত্রী জানান, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জমানার ‘সবুজ সাথী’ প্রকল্পের নাম বদলে এখন থেকে ‘সারথি’ (Saarthi) কর্মসূচি চালু করা হলো। এখন থেকে আর নবম শ্রেণি নয়, অষ্টম শ্রেণিতে উঠলেই সরকারি স্কুলের পড়ুয়ারা বিনামূল্যে সাইকেল পাবে। এই সাইকেল যাতে বাংলাতেই তৈরি হয়, তার জন্য এ রাজ্যে সাইকেল কারখানাও গড়ে তোলা হবে। অনুষ্ঠান শেষে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীদের সঙ্গে একই সারিতে মেঝেতে বসে মিড-ডে মিলের মধ্যাহ্নভোজ (ভাত, ডাল, সয়াবিনের তরকারি ও চাটনি) সারেন। সরকারি মঞ্চে দাঁড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রীর এই তোষণবিরোধী কড়া বার্তা এবং একই সঙ্গে সাধারণ মানুষের মতো জনসংযোগ বর্তমান রাজ্যের রাজনৈতিক অলিন্দে এক বিরাট আলোচনার জন্ম দিয়েছে।