প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-দেশের নির্বাচনী ব্যবস্থা এবং ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে কেন্দ্রের শাসক দল ও বিরোধী শিবিরের মধ্যে সংঘাত এবার চরম আকার ধারণ করল। নির্বাচন কমিশনের বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন (SIR) ড্রাইভকে হাতিয়ার করে বিজেপি এবং নির্বাচন কমিশন যৌথভাবে “ভোট চুরি” করছে বলে নজিরবিহীন আক্রমণ শানিয়েছে কংগ্রেস-সহ সমগ্র ‘ইন্ডিয়া’ (INDIA) জোটের শরিকরা। এই ইস্যুতে ইতিমধ্যেই খোদ মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে অনড় অবস্থান নিয়েছেন রাহুল গান্ধী। এদিকে বিরোধীদের এই অলআউট আক্রমণের পাল্টা রাজনৈতিক ও আইনি জবাব দিতে এবং নিজেদের রণকৌশল স্থির করতে এবার তড়িঘড়ি আসরে নেমেছে পদ্ম শিবির। গতকাল গভীর রাতে বিজেপির জাতীয় সভাপতি নীতিন নবীনের বাসভবনে এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও হাইপ্রোফাইল বৈঠকে বসেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জেপি নাড্ডা।

লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী সরাসরি নির্বাচন কমিশন ও মোদী সরকারের বিরুদ্ধে তোপ দেগে অভিযোগ করেছেন যে, ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়া মানেই সাধারণ মানুষের রাজনৈতিক অধিকার কেড়ে নেওয়া এবং এটি একটি সুপরিকল্পিত ভোট চুরির কৌশল। রাহুল গান্ধী স্পষ্ট ভাষায় সামাজিক মাধ্যমে লিখেছেন, “ভোট চুরি ভারতের জনগণের বিরুদ্ধে ঘটা এক অপরাধ। এটা আমাদের সংবিধানের ওপরেও সরাসরি আক্রমণ। বিজেপি ও নির্বাচন কমিশন এই ভোট চুরি করেছে।” রাজস্থান, মহারাষ্ট্র থেকে শুরু করে পশ্চিমবঙ্গের শামসেরগঞ্জের মত এলাকায় ব্যাপক সংখ্যায় ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়ার ঘটনা সামনে এনে দেশজুড়ে আন্দোলনে নেমেছে বিরোধীরা।

বিরোধীদের এই লাগাতার আক্রমণ ও নির্বাচন কমিশনকে কাঠগড়ায় তোলার পাল্টা ব্লুপ্রিন্ট তৈরি করতেই বিজেপির জাতীয় সভাপতি নীতিন নবীনের বাসভবনে এই রুদ্ধদ্বার বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়। দলীয় সূত্রের খবর, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং জেপি নাড্ডা দলের সভাপতির সাথে দীর্ঘক্ষণ আলোচনা করে স্থির করেছেন যে, বিরোধীদের এই প্রচারের বিরুদ্ধে দেশজুড়ে কীভাবে পাল্টা কর্মসূচি নেওয়া হবে। বিজেপির পক্ষ থেকে সম্বিত পাত্র-সহ অন্য শীর্ষ নেতারা ইতিমধ্যেই বিরোধীদের এই অভিযোগকে “মিথ্যা প্রচারের বেলুন” বলে কটাক্ষ করেছেন। বিজেপির পাল্টা যুক্তি—যদি ভোট চুরি করেই বিজেপি জিতত, তবে লোকসভা নির্বাচনে অর্ধেকের বেশি আসনে বিরোধীরা জয়ী হতে পারত না। ভোটার তালিকা থেকে শুধুমাত্র নিয়মতান্ত্রিকভাবে ভুয়ো, মৃত বা স্থানান্তরিত ভোটারদের নাম বাদ দেওয়ার জন্যই এই SIR প্রক্রিয়া চালানো হচ্ছে। বারংবার নির্বাচনে পরাজিত হয়ে নিজেদের ব্যর্থতা ঢাকতেই কংগ্রেস দেশের সাংবিধানিক কাঠামোর ওপর আক্রমণ করছে বলে দাবি পদ্ম শিবিরের। জাতীয় রাজনীতিতে একদিকে যখন বিরোধীরা এই ভোট চুরির অভিযোগকে সামনে রেখে দেশজুড়ে আন্দোলনের সুর চড়াচ্ছে, ঠিক তখনই বিজেপির এই মধ্যরাতের রণকৌশল বৈঠক দেশের রাজনৈতিক আবহকে আরও কয়েক ডিগ্রি উত্তপ্ত করে তুলেছে।