প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-দেশের নির্বাচন কমিশনের অন্দরে তৈরি হওয়া নজিরবিহীন সংঘাতের জল এবার গড়াল সর্বোচ্চ আদালতে। বাকি দুই নির্বাচন কমিশনারের ঘোর আপত্তি ও দ্বিমতকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে একের পর এক একতরফা সিদ্ধান্ত নেওয়ার মারাত্মক অভিযোগে দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার (CEC) জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলাগুলির হাইপ্রোফাইল শুনানি আজই (সোমবার, ৫ অক্টোবর ২০২৬) সুপ্রিম কোর্টে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি ভি মোহনা-কে নিয়ে গঠিত সুপ্রিম কোর্টের তিন বিচারপতির বেঞ্চে আজ এই মেগা মামলার শুনানি নির্ধারিত রয়েছে। মামলাকারীরা পিটিশনে জ্ঞানেশ কুমারকে তার পদ থেকে অবিলম্বে সাময়িকভাবে বরখাস্ত (Suspend) করার আবেদন জানিয়েছেন।
এই আইনি লড়াইয়ের মূল ভিত্তি একটি চাঞ্চল্যকর মিডিয়া রিপোর্ট, যেখানে দাবি করা হয় যে দেশজুড়ে চলা ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন (SIR) প্রক্রিয়া চলাকালীন বিভিন্ন নিয়ম ও সফটওয়্যার পরিবর্তনের ক্ষেত্রে বাকি দুই নির্বাচন কমিশনার—সুখবীর সিং সান্ধু এবং বিবেক জোশী—কমপক্ষে ১৪ বার লিখিতভাবে আপত্তি জানিয়েছিলেন। কিন্তু তাদের সেই সমস্ত প্রাতিষ্ঠানিক প্রতিরোধ ও মতামতকে সম্পূর্ণ অগ্রাহ্য করে ইসিআই (ECI)-এর নাম ব্যবহার করে একতরফাভাবে চূড়ান্ত নির্দেশিকা কার্যকর করেছেন জ্ঞানেশ কুমার, যা বহু-সদস্যের সাংবিধানিক কাঠামোর পরিপন্থী।
পাটনার বাসিন্দা রাকেশ কুমার সিং এবং সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী শৈলেন্দ্র মণি ত্রিপাঠীর দায়ের করা এই জনস্বার্থ মামলায় খোদ নির্বাচন কমিশনের ডাটাবেস নিয়ে একাধিক বিস্ফোরক অভিযোগ আনা হয়েছে। দেশজুড়ে ‘SIR’ প্রক্রিয়ার আড়ালে প্রায় ১৩ কোটি ভোটারের নাম তালিকা থেকে মুছে ফেলার অভিযোগ উঠেছে। পশ্চিমবঙ্গে ভোটারদের নাম পুনর্বহালের বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনের নাম ব্যবহার করে প্রায় ১৬.১০ লক্ষ আপিল দায়ের করা হয়েছিল, যার বিষয়ে বাকি দুই কমিশনার বা রাজ্যের নির্বাচনী আধিকারিকরা কিছুই জানতেন না। কোনো যৌথ অনুমোদন ছাড়াই আবেদন করার মূল ‘ফর্ম-৬’ (Form 6) এবং ইসিআই-এর ডেটা সিস্টেম বদলে ফেলার মারাত্মক অভিযোগও যুক্ত রয়েছে এই পিটিশনে।
আদালতের কাছে মামলাকারীরা মূলত ৪টি বড় দাবি জানিয়েছেন। মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত সিইসি জ্ঞানেশ কুমারের কার্যনির্বাহী ক্ষমতা স্থগিত বা সাসপেন্ড করা হোক। সুপ্রিম কোর্টের একজন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতির নেতৃত্বে এবং সাইবার বিশেষজ্ঞদের সহায়তায় এই পুরো প্রক্রিয়ার একটি স্বাধীন বিচারবিভাগীয় তদন্ত বা সিট (SIT) গঠন করা হোক। বিগত ১ অক্টোবর ২০২৫ থেকে নির্বাচন কমিশনের সার্ভারে হওয়া সমস্ত অভ্যন্তরীণ তথ্যের আদান-প্রদান এবং ডিজিটাল রেকর্ড যাতে সুরক্ষিত থাকে, তার জন্য কড়া নির্দেশ জারি করা হোক। নির্বাচন বিধির ধারা ৩২ অনুযায়ী কর্তব্য গাফিলতি ও বেআইনি আচরণের জন্য দায়ী আধিকারিকদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা রুজু করা হোক। আজকের এই ঐতিহাসিক শুনানিতে দেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা এবং নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা রক্ষায় সুপ্রিম কোর্ট কী কড়া অবস্থান নেয়, সেদিকেই এখন পলকহীনভাবে তাকিয়ে রয়েছে গোটা দেশ।