প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-নন্দীগ্রাম বিধানসভা কেন্দ্রের হাইভোল্টেজ উপনির্বাচনের ঠিক আগের দিন দেশের শীর্ষ আদালতে বড়সড় ধাক্কা খেল রাজ্য প্রশাসন। নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনে কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধানের অন্তর্বর্তী জামিন বাতিলের যে আর্জি রাজ্য সরকারের তরফে জানানো হয়েছিল, তা বহাল রাখল সুপ্রিম কোর্ট। সোমবার (৫ অক্টোবর ২০২৬) সুপ্রিম কোর্টে মামলার শুনানির সময় রাজ্য পুলিশের ভূমিকা নিয়ে নজিরবিহীন এবং অত্যন্ত কঠোর মন্তব্য করেন বিচারপতি।

কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষের সিঙ্গল বেঞ্চ মিলন প্রধানকে নির্বাচনে লড়াই করার এবং প্রচার করার জন্য আগামী ২১ অক্টোবর পর্যন্ত অন্তর্বর্তী জামিন মঞ্জুর করেছিল। সেই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে তড়িঘড়ি সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিল রাজ্য। কিন্তু এদিন সুপ্রিম কোর্ট পরিষ্কার জানিয়ে দেয়, আপাতত হাইকোর্টের দেওয়া অন্তর্বর্তী জামিনের নির্দেশই বহাল থাকবে এবং মিলন প্রধান ভোটকেন্দ্রেও যেতে পারবেন।

শুনানি চলাকালীন রাজ্য পুলিশের অতিসক্রিয়তা এবং উদ্দেশ্য নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করে শীর্ষ আদালত। রাজ্যের পক্ষে সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা দাবি করেন, মিলন প্রধানের বিরুদ্ধে খুন এবং বোমা মারার মতো গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। বিপরীতে মিলনের আইনজীবী অভিষেক মনুসিংভি জানান, ভোটের প্রার্থী ঘোষণার পরেই তাঁকে হেনস্থা করতে পুরনো মামলায় গ্রেপ্তার করা হচ্ছে।‌ উভয় পক্ষের সওয়াল-জবাব শুনে প্রধান বিচারপতি রাজ্য পুলিশকে উদ্দেশ্য করে কড়া ভাষায় বলেন, “আগে শান্তিতে ভোট হতে দিন, ওঁকে লড়তে দেওয়া হোক।”

আদালতের সবচেয়ে বড় ক্ষোভ ছিল মামলার সময়সীমা নিয়ে। মিলন প্রধানের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলাগুলি ছিল ২০০৭ সালের নন্দীগ্রাম ভূমি আন্দোলনের সময়কার। এই দীর্ঘ ১৯ বছর ধরে পুলিশ কেন নীরব ছিল, তা নিয়ে ক্ষোভ উগরে দেয় দেশের শীর্ষ আদালত। বিচারপতি প্রশ্ন তোলেন, “এটি ২০০৭ সালের ঘটনা, আপনারা এতদিন কী করছিলেন? জামিন অযোগ্য ওয়ারেন্ট থাকা সত্ত্বেও যারা ১৯ বছর ধরে এই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেনি, সেই সব পুলিশ অফিসারদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।” তিনি আরও যোগ করেন, প্রশাসনিক গাফিলতির জন্য কাউকে না কাউকে তো দায়িত্ব নিতেই হবে।

এদিনের শুনানিতে প্রধান বিচারপতির বেঞ্চে উপস্থিত ছিলেন বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী। তবে ২০০৭ সালে নন্দীগ্রাম আন্দোলনের সময় তিনি আইনজীবী হিসেবে এই মামলার অভিযুক্তদের পক্ষে লড়েছিলেন। সেই কারণে ‘স্বার্থের সংঘাত’ এড়াতে বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী আজ এই মামলা থেকে সরে দাঁড়ান (Recuse করেন)। ফলে সুপ্রিম কোর্ট মামলাটির পরবর্তী শুনানি আগামী ৭ অক্টোবর পর্যন্ত মুলতুবি ঘোষণা করেছে। অর্থাৎ, আগামীকাল ৬ অক্টোবর (মঙ্গলবার) নন্দীগ্রাম উপনির্বাচন সম্পূর্ণ শেষ হওয়া পর্যন্ত মিলন প্রধানের অন্তর্বর্তী জামিন ও আইনি স্বস্তি পুরোপুরি বহাল থাকছে।