প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-ক্যামাক স্ট্রিটের বহুল চর্চিত বেআইনি বিলবোর্ডকাণ্ডে এবার তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তথা ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে চেপে ধরল পুলিশ। গত সোমবার হাজিরা এড়িয়ে অতিরিক্ত সময় চাওয়ার পর, আজ বুধবার (১৪ অক্টোবর ২০২৬) সকাল ১০টায় তাঁকে কলকাতার শেক্সপিয়র সরণি থানায় সশরীরে হাজির হওয়ার জন্য চূড়ান্ত নোটিস পাঠানো হয়েছে। পুজো শুরু হতেই তৃণমূলের শীর্ষ নেতার ওপর পুলিশের এই জোরদার তৎপরতা ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে চরম উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। রাজ্যে নতুন বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে আইন-শৃঙ্খলার প্রশ্নে কোনো আপস করা হবে না বলে যে বার্তা দেওয়া হয়েছিল, পুলিশের এই অনমনীয় অবস্থানকে তারই প্রতিফলন বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

গত রবিবার দিল্লি থেকে ফেরার পরই পুলিশ অভিষেকের কালীঘাটের বাসভবনে গিয়ে হাজিরার প্রথম নোটিস দিয়ে আসে। কিন্তু সোমবার নির্ধারিত সময়ে থানায় না গিয়ে ইমেলের মাধ্যমে তদন্তকারীদের কাছে অন্তত ৪৮ ঘণ্টা সময় চেয়ে নেন ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ। সংসদীয় ব্যস্ততা ও অত্যন্ত কম সময়ের নোটিস দেওয়ার যুক্তি খাড়া করে সেই হাজিরা এড়িয়েছিলেন তিনি। তবে পুলিশও এই হাইপ্রোফাইল মামলার তদন্তে একচুল জমি ছাড়তে নারাজ। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের মেল পাওয়ার পরপরই সোমবার রাতে শেক্সপিয়র সরণি থানার একটি বিশেষ টিম পুনরায় কালীঘাটে অভিষেকের বাড়িতে গিয়ে বুধবার সকাল ১০টায় হাজিরার নতুন নোটিস ধরিয়ে আসে।

গত ২৭ আগস্ট ক্যামাক স্ট্রিটে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের অফিসের সামনে থাকা একটি বেআইনি বিলবোর্ড বা হোর্ডিং সরানোকে কেন্দ্র করে ঘটনার সূত্রপাত। কলকাতা পুরসভা (KMC) এবং পুলিশ কর্মীরা যখন সেই বেআইনি হোর্ডিংটি সরাতে যান, তখন তৃণমূল কর্মী-সমর্থকদের তরফে প্রবল বাধা সৃষ্টি করা হয় এবং তুমুল ধস্তাধস্তি বাধে। সরকারি কর্মীদের কাজে বাধা দেওয়া, হুমকি ও এক মহিলা পুলিশ আধিকারিকের ওপর হেনস্থার অভিযোগে শেক্সপিয়র সরণি থানায় তিনটি পৃথক এফআইআর (FIR) দায়ের করা হয়। যার মধ্যে দু’টি মামলায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম সরাসরি রয়েছে। এই একই মামলায় এর আগেও অভিষেককে একবার প্রায় ৬ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ করেছিল পুলিশ।

এই বিলবোর্ড জট ও পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় কেবল অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ই নন, তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ ডেরেক ও’ব্রায়েন এবং প্রাক্তন বিধায়ক হুমায়ুন কবিরের মতো শীর্ষ নেতাদের নামও জড়িয়েছে। বিগত সরকারের জমানায় যে ধরণের ‘রাজনৈতিক প্রভাব’ খাটিয়ে পার পাওয়ার সংস্কৃতি তৈরি হয়েছিল, নতুন বিজেপি সরকারের অধীনে সেই পথ যে বন্ধ, তা স্পষ্ট করে দিয়েছে পুলিশ প্রশাসন। আজ সকাল ১০টার এই হাইপ্রোফাইল তলবে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় শেষ পর্যন্ত থানায় হাজিরা দেন নাকি আইনি রক্ষাকবচ চেয়ে আদালতের দ্বারস্থ হন, এখন সেদিকেই নজর গোটা রাজ্যের।