প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-দিল্লিতে চলমান ছাত্র আন্দোলনের ওপর পুলিশের লাঠিচার্জের ঘটনায় এবার অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বয়ান দিলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী তথা এনডিএ (NDA) শরিক লোক জনশক্তি পার্টির (রামবিলাস) প্রধান চিরাগ পাসওয়ান। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার (CEC) জ্ঞানেস কুমারের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের আচরণের কড়া সমালোচনা শোনা গেল তাঁর গলায়। কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় থেকেও তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, শিক্ষার্থীদের ওপর এই ধরনের বলপ্রয়োগের নীতিকে তিনি কোনোভাবেই সমর্থন করেন না। গণমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী চিরাগ পাসওয়ান বলেন, “শিক্ষার্থী বা অন্য যেকোনো নাগরিক—কারও ওপরই বলপ্রয়োগ বা এই ধরনের পুলিশি অ্যাকশনকে আমি সমর্থন করি না। শিক্ষার্থীদের আবেগ ও ক্ষোভের জায়গাটিকে আমি সম্মান জানাই এবং তাদের কণ্ঠস্বরকে এভাবে চেপে দেওয়া উচিত নয়।”

শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়ানোর পাশাপাশি সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দিকেও ইঙ্গিত করেছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী। তিনি যোগ করেন, “লাঠিচার্জের নিন্দা করার পাশাপাশি আমাদের পরিস্থিতিটাও বুঝতে হবে যে ঠিক কী কারণে এবং কোথায় এই ঘটনা ঘটল। অনেক সময় দেখা যায়, কিছু অসামাজিক উপাদান শিক্ষার্থীদের বা তরুণদের ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে ভিড়ের মধ্যে ঢুকে পড়ে এবং পুলিশের ওপর চড়াও হয়। আমাদের মনে রাখা উচিত, পুলিশকর্মীরাও মানুষ এবং তাদেরও পরিবার রয়েছে। তাই সহিংস আচরণ কোনো পক্ষের তরফ থেকেই বাঞ্ছনীয় নয়।”

এই সংবেদনশীল ইস্যুটিকে নিয়ে রাজনীতি করার জন্য লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীকে কড়া ভাষায় বিঁধেছেন চিরাগ পাসওয়ান। রাহুল গান্ধীর দফায় দফায় প্রেস কনফারেন্স করাকে কটাক্ষ করে তিনি বলেন, “রাহুল গান্ধী সব কিছুতেই রাজনৈতিক রং খোঁজার চেষ্টা করেন। এই আন্দোলনকে নিয়ে মাত্রাতিরিক্ত রাজনীতি করা এবং বারংবার সংবাদ সম্মেলন করা প্রমাণ করে যে ওঁর অগ্রাধিকার স্পষ্ট নয়।” সরাসরি রাহুল গান্ধীকে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়ে তিনি আরও বলেন, “যদি এই নির্বাচনী প্রক্রিয়া ও নির্বাচন কমিশনের ওপর আপনার এতই অনাস্থা থাকে, তবে আগে নিজে পদত্যাগ করুন। আপনি নিজে রায়বেরেলি থেকে এই নির্বাচনী প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই জিতেছেন। প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ওয়ানাড় থেকে জিতেছেন এবং কংগ্রেসের ৯৯ জন সংসদ সদস্যও এই একই প্রক্রিয়ায় নির্বাচিত হয়েছেন।” দিল্লির যন্তর মন্তর ও সংসদ ভবনের আশপাশে ঘটা এই ছাত্র বিক্ষোভ ও পুলিশি পদক্ষেপের পর মোদী সরকারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শরিক দলের নেতার এমন ভারসাম্যপূর্ণ ও স্পষ্ট অবস্থান জাতীয় রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।