প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-তোলাবাজির মামলায় সিআইডি (CID) তদন্তের মুখে পড়া বর্ধমান-দুর্গাপুরের তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদ তথা প্রাক্তন ক্রিকেটার কীর্তি আজাদের আইনি লড়াইয়ে বড়সড় ধাক্কা লাগল দেশের সর্বোচ্চ আদালতে। নিজের বিরুদ্ধে হওয়া এফআইআর (FIR) চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে রিট পিটিশন দায়ের করেছিলেন তিনি। কিন্তু আজ, ৩ নভেম্বর ২০২৬ (মঙ্গলবার), বিচারপতি দীপঙ্কর দত্ত এবং বিচারপতি শীল নাগুর ডিভিশন বেঞ্চ সেই মামলা শোনার আবেদন স্পষ্ট খারিজ করে দিয়েছে। শুধু মামলা খারিজই নয়, ভরা আদালতে তৃণমূল সাংসদের আইনজীবীকে তীব্র ভর্ৎসনাও করেন বিচারপতিরা।
এদিন মামলার শুনানি শুরু হতেই সুপ্রিম কোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ কীর্তি আজাদের আবেদন নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করে। বিচারপতি দীপঙ্কর দত্ত সাংসদের আইনজীবীকে স্পষ্ট জানান, সংবিধানের ৩২ নম্বর অনুচ্ছেদের অধীনে এই ধরণের আবেদন কোনোভাবেই গ্রহণ করা হবে না। আদালতের পক্ষ থেকে কড়া পর্যবেক্ষণ দিয়ে বলা হয়, “হাইকোর্ট ইতিমধ্যেই আপনাকে ৬ মাসের জন্য গ্রেফতারি থেকে অন্তর্বর্তী কালীন রক্ষাকবচ দিয়েছে। আপনি নিজেও তদন্তে সম্পূর্ণ সহযোগিতা করবেন বলে আশ্বাস দিয়েছেন। তাহলে হাইকোর্টে আবেদনটি মুলতুবি থাকা সত্ত্বেও কেন আপনি ফের সুপ্রিম কোর্টে চলে এলেন?” সর্বোচ্চ আদালতের এই চরম অনীহা ও কড়া অবস্থান দেখার পর কীর্তি আজাদের আইনজীবী সিনিয়র অ্যাডভোকেট বিকাশ সিং পিছু হঠতে বাধ্য হন এবং মামলাটি প্রত্যাহার করে নেন।
গত বছর রানিগঞ্জের এক রান্নার গ্যাস সরবরাহকারী ব্যবসায়ী তৃণমূল সাংসদ কীর্তি আজাদ ও তাঁর এক ঘনিষ্ঠ সহযোগীর বিরুদ্ধে ১৫ লক্ষ টাকা তোলা চাওয়ার এবং টাকা না দিলে ব্যবসা বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ তুলে এফআইআর দায়ের করেন। ব্যবসায়ী একটি অডিও রেকর্ডিংও পুলিশের কাছে জমা দেন। মামলাটি পরবর্তীতে রাজ্য গোয়েন্দা সংস্থা সিআইডি (CID)-র হাতে যায়। যদিও কীর্তি আজাদ শুরু থেকেই দাবি করে আসছেন যে এই অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্য প্রণোদিত। কলকাতা হাইকোর্ট গত সেপ্টেম্বর মাসে তাঁকে গ্রেফতারি থেকে ছয় মাসের অন্তর্বর্তীকালীন স্বস্তি দিয়ে ভবানী ভবনে সিআইডি জেরা-য় উপস্থিত থাকার নির্দেশ দিয়েছিল, যেখানে গিয়ে তিনি দীর্ঘ সময় জেরার মুখোমুখিও হন। তবে হাইকোর্টের সেই রক্ষাকবচ থাকা সত্ত্বেও তিনি কেন সুপ্রিম কোর্টে গেলেন, তা নিয়ে আজ সর্বোচ্চ আদালত কড়া প্রশ্ন তোলায় আইনি মহলে চরম অস্বস্তিতে পড়লেন এই তৃণমূল সাংসদ।