প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট- বিহারের মত বাংলাতেও কি ভোটার তালিকায় সংশোধন হবে? যদি সংশোধন হয়, তাহলে এই রাজ্যে অনুপ্রবেশ হয়ে যারা রয়েছেন, যারা রোহিঙ্গারা রয়েছে, যারা তৃণমূলের ভোটব্যাংক, তারা সকলেই বিতাড়িত হবেন এবং তার ফলে রাজ্যে সুষ্ঠু এবং শান্তিপূর্ণ নির্বাচন হবে এবং তৃণমূলের বিদায় নিশ্চিত হবে বলেই দাবি করছে বিরোধীরা। তাই তারাও আশাবাদী যে, নির্বাচন কমিশন বাংলাতে ভোটার তালিকায় সংশোধনী প্রক্রিয়া শুরু করবে। যদিও বা তৃণমূল এর বিরোধিতা করে বিষয়টিকে অন্য পর্যায়ে নিয়ে গিয়ে বিজেপি শাসিত রাজ্যে বাঙালিরা নিরাপদ নয় বলে আন্দোলনে নামতে শুরু করেছে। আর এসবের মধ্যেই এবার পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকা সংশোধনের জল্পনার মাঝেই রোহিঙ্গাদের বৈধতা দেওয়ার জন্য রাজ্য চেষ্টা করছে বলে বিস্ফোরক অভিযোগ করলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। এমনকি গোটা ঘটনায় দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য নির্বাচন কমিশনকে একটি চিঠিও লিখেছেন তিনি।

জানা গিয়েছে, ইতিমধ্যেই মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে একটি চিঠি লিখেছেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। আর সেই চিঠিতেই তিনি যে সমস্ত অভিযোগ করেছেন, তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। চিঠিতে ঠিক কি দাবি করেছেন শুভেন্দুবাবু? রাজ্যের বিরোধী দলনেতা লিখেছেন, “রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশকারীদের বৈধতা দেওয়ার চেষ্টা রাজ্যের। পশ্চিমবঙ্গের সীমান্তবর্তী জেলাগুলিতে উদ্বেগজনক চিত্র ধরা পড়ছে। কোচবিহার, আলিপুরদুয়ার, জলপাইগুড়ি, থেকে মালদহ, মুর্শিদাবাদ ফর্ম 6 এর জন্য গত সপ্তাহে গড়ে ৭০ হাজারেরও বেশি আবেদন পত্র জমা পড়েছে। ভোটার তালিকায় কারচুপির চেষ্টা চলছে। বাংলাদেশি এবং রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশকারীদের বৈধতা দেওয়ার চেষ্টা রাজ্য সরকারের। এটা চলতে থাকলে ২৫ জুলাইয়ের পর থেকে কোনো ডোমেসাইল সার্টিফিকেট যেন কমিশন গ্রহণ না করে।”

গেরুয়া শিবিরের দাবি, সঠিক কথাই উল্লেখ করেছেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। এই রাজ্য প্রশাসন বুঝে গিয়েছে যে, এবার রোহিঙ্গা-অনুপ্রবেশকারীদের পুশব্যাক করা হবে। আর তাতে দুধ এবং জল আলাদা হয়ে যাবে। আর তাহলেই তৃণমূলের ভোটব্যাংকে ফাটল ধরবে। তাই এবার যেভাবেই হোক, যাতে সেই রোহিঙ্গা, অনু প্রবেশকারীদের বৈধতা দেওয়া যায়, তার জন্য পেছনের দরজা দিয়ে প্রশাসনকে কাজে লাগিয়ে একটা চক্রান্ত চলছে। তবে সেই চক্রান্তকে ভেস্তে দিতেই কমিশনের সদর্থক পদক্ষেপের আবেদন জানিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী।

পর্যবেক্ষকদের মতে, শুভেন্দু অধিকারীর এই পদক্ষেপের ফলে রীতিমত চাপে পড়ে গেল রাজ্য প্রশাসন। মুখে যতই তৃণমূলের পক্ষ থেকে বলা হোক যে, তারা অনুপ্রবেশকারীদের আশ্রয় দেয় না। তবে এই রাজ্যে যে অনুপ্রবেশকারী এবং রোহিঙ্গাদের বাড়বাড়ন্ত অনেকাংশেই বৃদ্ধি পেয়েছে, তাতে নিশ্চিত বিরোধীরা। তাই এবার ভোটার তালিকায় সংশোধনের খবর পেতেই এই রাজ্যের প্রশাসন কি কাজে লাগিয়ে তৃণমূল চেষ্টা করছে, যেভাবেই হোক রোহিঙ্গাদের যাতে বৈধতা দেওয়া যায়। সেক্ষেত্রে ২৫ জুলাইয়ের পর থেকে যাতে আর কোনো ডোমেশিয়াল সার্টিফিকেট গ্রহণযোগ্য না হয়, তার জন্য একেবারে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে চিঠি লিখে রাজ্য প্রশাসন তো বটেই, স্বয়ং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেও চাপের মুখে ফেলে দিলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী বলেই মত রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের।