প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-
এই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সম্প্রতি কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা যেখানে তল্লাশি চালাচ্ছে, সেখানে পৌঁছে গিয়েছিলেন এবং তারপর বেশ কিছু নথি নিয়ে তিনি বাইরে বেরিয়ে এসেছিলেন। আর তারপর থেকেই প্রশ্ন উঠেছিল মুখ্যমন্ত্রীর ভূমিকা নিয়ে। তিনি কি এই কাজ করতে পারেন, যখন একটি সংস্থা তদন্ত করছে, তখন কি করে তিনি সেখান থেকে এইভাবে নথি নিয়ে বেরিয়ে আসতে পারেন, কেন তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, এই সমস্ত প্রশ্ন বিভিন্ন মহলে উঠতে শুরু করেছিল। ইতিমধ্যেই কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার পক্ষ থেকে সুপ্রিম কোর্টে জোড়া পিটিশন দায়ের করা হয়েছে। যেখানে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী থেকে শুরু করে ডিজি রাজীব কুমার এবং কলকাতার পুলিশ কমিশনারের বিরুদ্ধেও অভিযোগ করেছেন তারা। স্বাভাবিকভাবেই আদালত কি বলবে, সেটা আদালতের বিষয়। তবে এর মাঝেই কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা যখন মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে এভাবে তথ্য ছিনিয়ে নেওয়ার মত মারাত্মক অভিযোগ তুলে সুপ্রিম কোর্টে গিয়েছে, তখন গোটা বিষয়টিকে হাতিয়ার করে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীকে এতদিন চোর বলা হলেও, এবার থেকে ডাকাত বলা হবে বলে মন্তব্য করলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার।

সম্প্রতি এই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী আইপ্যাকের অফিসের ইডির তল্লাশি চলাকালীন সেখানে পৌঁছে যান। এমনকি প্রতীক জৈনের বাড়িতে যখন তল্লাশি চলছিল, সেই সময় সেখানে গিয়ে তিনি বেশ কিছু ফাইল নিয়ে বেরিয়ে আসেন। স্বাভাবিক ভাবেই সেই সময় থেকেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করে যে, একজন মুখ্যমন্ত্রী কিভাবে এই কাজ করতে পারেন, এটা কি তদন্তে বাধা দেওয়া নয়? যেভাবে তিনি ফাইল নিয়ে আসলেন, তাতে তিনি তো চরম অন্যায় করেছেন এবং তদন্তকারী সংস্থার তদন্তে বাধা দিয়েছেন বলেও দাবি উঠতে শুরু করেছে বিভিন্ন মহলে। আর এসবের মধ্যেই এবার ইডির পক্ষ থেকে মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধেও যে বিষয়টি সুপ্রিম কোর্টে তুলে ধরা হয়েছে, সেই ব্যাপারে রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধানকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করলেন সুকান্ত মজুমদার।

এদিন সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার। আর সেখানেই তিনি বলেন, “এটা তো আইনের ভাষায় ডাকাতি বলে। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীকে এতদিন সবাই চোর, চোর বলতো। এবার প্রমোশন হয়েছে। আমরা ডাকাতরানী মাঝেমধ্যে বলতাম। কিন্তু অনেকেই বলতেন যে, এটা বলা ঠিক নয়। কিন্তু আজ ভারতবর্ষের একটি সংস্থাই বলছে যে, মুখ্যমন্ত্রী ডাকাত। কোর্টে যাচ্ছে বিষয়টা। কোর্ট পুরোটা দেখবে। আমাদের মহামান্য আদালতের ওপর পুরো ভরসা রয়েছে।”