প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-
যে তৃণমূল কংগ্রেস দাবি করে যে, রাজ্যের প্রত্যেকটি বিধানসভা কেন্দ্রে তাদের প্রার্থী হচ্ছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, তাই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে দেখে সকলে ভোট দিন, সেই তৃণমূল কংগ্রেস ২০২১ এ রীতিমত লজ্জায় পড়ে গিয়েছিল। যেখানে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নন্দীগ্রামে নিজে দাঁড়ালেও তাকে পরাজিত হতে হয়েছে শুভেন্দু অধিকারীর কাছে। আর তারপর থেকে প্রত্যেকটি সভা থেকেই তার কাছে হেরে কম্পার্টমেন্টাল চিফ মিনিস্টার হয়েছেন বলে কটাক্ষ করেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। সামনেই বিধানসভা নির্বাচন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবার যে ভবানীপুর কেন্দ্র থেকে লড়াই করবেন, সেই সম্পর্কে মোটামুটি একটা খবর পাওয়া যাচ্ছে। আর যদি ভবানীপুর কেন্দ্রের মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় লড়াই করেন, তাহলে নন্দীগ্রামে যেমন তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে পরাজিত করেছেন, ঠিক তেমনভাবেই ভবানীপুরেও তাকে এবার পরাজিত করবেন বলে দাবি করছেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা। গতকাল চন্দ্রকোনার সভা থেকেও সেই একই দাবি করেন তিনি।
তৃণমূল দলের শেষ কথা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় হতেই পারেন। কিন্তু তার রাজনৈতিক কৌশল এবং তার রাজনৈতিক প্রভাবের কাছে যে শুভেন্দু অধিকারীর রাজনৈতিক কৌশল অনেক উচ্চমানের, তা তো গত বিধানসভা নির্বাচনে স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে। যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে দেখে গোটা তৃণমূল কংগ্রেস ভোটের ময়দানে নামে, সেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেই নন্দীগ্রামে পরাজিত করে দেখিয়ে দিয়েছেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। আর এবার বিজেপি শেষ লড়াইটা দিতে চাইছে। ২০২৬ এর বিধানসভা নির্বাচনে তারা পরিবর্তনের জন্য কোমর বেঁধে ময়দানে নেমেছে। প্রত্যেকটি সভা থেকেই শুভেন্দুবাবু দাবি করছেন, এবার তিনি ভবানীপুরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে হারিয়ে দেখিয়ে দেবেন।
এদিন চন্দ্রকোণায় বিজেপির পক্ষ থেকে একটি প্রতিবাদ সভা সংগঠিত করা হয়। আর সেখানেই বক্তব্য রাখতে গিয়ে রাজ্যে পরিবর্তন হলে সুদে-আসলে যে সমস্ত হিসেব নেওয়া হবে, সেই কথা জানিয়ে দেন শুভেন্দু অধিকারী। শুধু তাই নয়, রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, “চিন্তা করবেন না। আমি সোজা করা লোক। মমতাকে নন্দীগ্রামে হারিয়েছি। ভবানীপুরেও হারাবো। ভবানীপুরেও হারাবো।” আর শুভেন্দুবাবুর এই বক্তব্যের মধ্যে দিয়েই স্পষ্ট হয়ে যাচ্ছে যে, তিনি একেবারে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ হয়ে রয়েছেন, এবার রাজ্য থেকে এই সরকারকে উৎখাতের ব্যাপারে। আর এই সরকারের যিনি নেতৃত্ব দিচ্ছেন, তাকে যেমন নন্দীগ্রামে তিনি পরাজিত করেছেন, ঠিক তেমনই এবার যে ভবানীপুরেও তিনি তাকে পরাজিত করবেন, সেই বিষয়টি উল্লেখ করে যত নির্বাচনের দিন এগিয়ে আসছে, ততই বিজেপি কর্মীদের উন্মাদনা বাড়িয়ে তৃণমূলের রাতের ঘুম কেড়ে নিচ্ছেন শুভেন্দু অধিকারী বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।