প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-
এসআইআরের শুনানি চলাকালীন গতকাল ফারাক্কার পর আজ চাকুলিয়ায় বিডিও অফিসে যেভাবে তাণ্ডব হয়েছে, তা দেখে সকলেই শিউরে উঠছেন। কোথায় প্রশাসন, কেন এই সমস্ত বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে না, তা নিয়ে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠছে। তবে যে দুটি জায়গায় পরপর দুদিন এই অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতি তৈরি হলো, এর পেছনে রাজনৈতিক কারণ যাই থাক না কেন, একটা বড় অংক এবং গল্প যে রয়েছে, তা অনেকেই বুঝতে পারছেন। তবে এবার শুধুমাত্র তা বুঝে থাকা নয়, প্রকাশ্যে সংবাদমাধ্যমের সামনে এর প্রকৃত কারণ ফাঁস করে দিলেন রাজ্য বিজেপির প্রাক্তন সভাপতি তথা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার। গতকাল ফারাক্কার পর আজ চাকুলিয়ায় এসআইআরের শুনানির জায়গায় গিয়ে যে তাণ্ডব চালানো হয়েছে, তাতে ডেমোগ্রাফি পরিবর্তন করাই মূল উদ্দেশ্য এবং সেই উদ্দেশ্যকে সাধন করতেই কিছু মানুষ এই কাজ করছেন বলে দাবি করলেন তিনি।
রাজ্যে এসআইআরের প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার পর থেকেই তৃণমূল তার বিরোধিতা করছে। সকলেই খুব ভালো মতই বুঝতে পারছেন যে, অবৈধ ভোটারদের কারসাজি এখন প্রায় শেষের মুখে। যারা অবৈধ অনুপ্রবেশকারী হিসেবে পশ্চিমবঙ্গের মাটিতে ছিলেন, এবার তাদের দিন শেষ হয়ে এসেছে। আর সেই সমস্ত ব্যক্তিদের যখন চিহ্নিতকরণের কাজ চলছে, যখন এসআইআর প্রক্রিয়ায় শুনানি শুরু হয়েছে, যখন বিভিন্ন মানুষকে নোটিশ দেওয়া হচ্ছে, তখন বেছে বেছে কয়েকটি জায়গায় বিক্ষোভ হতে দেখা যাচ্ছে। আর যে সমস্ত জায়গায় এই বিক্ষোভ হচ্ছে, সেই সমস্ত জায়গায় একটি নির্দিষ্ট সম্প্রদায়ের মানুষদের বেশি বাস। আর তারা নিজেদের আধিক্য বাড়ানোর জন্য অনুপ্রবেশকারীদের রেখে দিয়ে ডেমোগ্রাফি পরিবর্তনের চেষ্টা করছে বলেই দাবি করলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার।
গতকাল ফারাক্কার পর আজ চাকুলিয়ায় বিডিও অফিসে যেভাবে এসআইআরের শুনানির প্রক্রিয়ায় ডাকার জন্য কিছু মানুষ বিক্ষোভ দেখিয়েছেন এবং ভাঙচুর চালিয়েছেন, তা নিয়ে সুকান্তবাবুকে প্রশ্ন করেন সাংবাদিকরা। আর সেই ব্যাপারে প্রতিক্রিয়া দিতে গিয়ে রাজ্য বিজেপির প্রাক্তন সভাপতি বলেন, “গতদিন ফারাক্কায় হয়েছিল, আর আজ ভাঙচুর হয়েছে চাকুলিয়ায়। এই দুই জায়গায় যদি ডেমোগ্রাফি দেখেন, অর্থাৎ জনসংখ্যার হিন্দু এবং মুসলিমদের সংখ্যা দেখেন, তাহলেই বুঝতে পারবেন, কারণটা কি। সে চাকুলিয়ার বিধায়ক হোক কিংবা ফারাক্কার বিধায়ক, তাদের উদ্দেশ্য একটাই। তারা তৃণমূল কংগ্রেস, কংগ্রেস, বিজেপি কিচ্ছু বোঝে না। তাদের একটাই কাজ, বাংলাদেশ থেকে আসা মুসলিম অনুপ্রবেশকারীদের নাগরিকত্ব দেওয়ার ব্যবস্থা করা। পশ্চিমবঙ্গের ডেমোগ্রাফি পরিবর্তন করা এবং পশ্চিমবঙ্গকে ইসলামিক জঙ্গিবাদের পীঠস্থানে পরিণত করা। ভারতীয় জনতা পার্টি এর বিরুদ্ধে লড়ছে। আগামী দিনেও আমরা লড়বো।”