প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পরে তৃণমূল দলে যিনি সর্বেসর্বা হয়ে উঠেছেন, যার কথা এখন তৃণমূলের কাছে কার্যত শেষ কথা হয়ে দাঁড়িয়েছে, সেই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক যোগ্যতা নিয়েই এবার বড় প্রশ্ন তুলে দিলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার। এতদিন বিজেপি নেতারা “ভাইপো” বলে সম্বোধন করে তার রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা নিয়ে বিভিন্ন বক্তব্য রাখতেন। এমনকি শুভেন্দু অধিকারী প্রতিনিয়ত প্রত্যেকটি সভাতেই দাবি করেন যে, তিনি পিসির আলোকে আলোকিত। ২০১১ সালের আগে তাকে খুঁজে পাওয়া যায়নি। ক্ষমতায় আসার পর তিনি প্যারাসুট করে এসে দলের শীর্ষ পদ পেয়েছেন। আর যারা দুর্দিনে তৃণমূলকে ক্ষমতায় এনেছিল, এই ভাইপোকে ক্ষমতা দিয়ে তাদের বঞ্চিত করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেও অভিযোগ করেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা। যার ফলে তিনি এই লিমিটেড কোম্পানি ছেড়ে বিজেপিতে আসতে বাধ্য হয়েছেন বলেও তার মুখ থেকে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন কথা শোনা যায়। তবে যে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এখন তৃণমূলের সর্বেসর্বা হয়ে উঠেছেন, তাকে বিজেপি নাকি বুথ সভাপতিরও দায়িত্ব দিত না। ঘুরিয়ে ভাইপো শব্দ প্রয়োগ করে সেই মন্তব্যই করলেন রাজ্য বিজেপির প্রাক্তন সভাপতি।
বর্তমানে ভোটের দামামা না বাজলেও জেলায় জেলায় প্রচার শুরু করে দিয়েছেন তৃণমূলের অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। বিভিন্ন জেলায় গিয়ে বিজেপিকে শূন্য করার হুঙ্কার দিচ্ছেন তিনি। তবে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই সমস্ত বক্তব্যের যে বিজেপির কাছে কোনো গুরুত্ব নেই, তা আজ রায়গঞ্জের সভা থেকে স্পষ্ট করে দিলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার। পাশাপাশি ভাইপো বলে আক্রমণ করে বিজেপিতে থাকলে তিনি যে কোনো দায়িত্ব পেতেন না, এমনকি এমন রাজনৈতিক অনভিজ্ঞ ব্যক্তিকে যে বিজেপি কোনো কাজে লাগাতো না, সেই কথাও বুঝিয়ে দিলেন বালুরঘাটের বিজেপি সাংসদ।
এদিন রায়গঞ্জে বিজেপির পরিবর্তন সংকল্প সভায় যোগ দেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার। আর সেখানেই তিনি বলেন, “অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের যদি অতই দম থাকতো, তাহলে পিসির সাপোর্ট নিয়ে রাজনীতিতে আসতে হতো না। আমাদের যাদের দেখতে পাচ্ছেন, আমাদের মা, বাবা, পিসি, কেউ কোনোদিন রাজনীতি করেনি। আমরা নিজের দমে প্রতিষ্ঠিত। যদি পিসির ভাইপো না হতো, ও ভারতীয় জনতা পার্টিতে থাকলে ওকে আমরা বুথ সভাপতি করতাম না।”