প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-পশ্চিমবঙ্গের প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি মামলার তদন্তে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED)-এর তলবে সাড়া দিলেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তথা ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সোমবার নির্ধারিত সময় বেলা ১১টার সামান্য আগেই সল্টলেকের সিজিও (CGO) কমপ্লেক্সে ইডির দপ্তরে হাজিরা দেন তিনি। তদন্তকারী আধিকারিকদের একটি বিশেষ দল তাঁর বয়ান রেকর্ড এবং নথিপত্র যাচাইয়ের প্রক্রিয়া শুরু করেছে।
আজ দক্ষিণ কলকাতার কালীঘাটের পটুয়াপাড়ার নিজস্ব বাসভবন থেকে কড়া নিরাপত্তার মধ্যে বের হন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। নির্ধারিত সময়ের ৪ মিনিট আগেই সল্টলেকের সিজিও কমপ্লেক্সে পৌঁছায় তাঁর গাড়ি। সিজিও কমপ্লেক্সের ৭ম তলায় ইডি দপ্তরে প্রবেশ করেন তিনি। দপ্তরে ঢোকার সময় অপেক্ষারত সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে তিনি কোনো মন্তব্য করেননি।
কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সূত্রে দাবি, প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি মামলার আর্থিক লেনদেনের উৎস (Money Trail) এবং অপরাধের লভ্যাংশ খতিয়ে দেখতেই এই জিজ্ঞাসাবাদ। মূলত ৩টি বিষয়ে আলোকপাত করা হচ্ছে বলে জানা গেছে। এই সংস্থার আর্থিক লেনদেন এবং ব্যাংকিং নথির ফরেনসিক রিপোর্টের সূত্র ধরে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে, কারণ অভিষেক এই সংস্থার অন্যতম শীর্ষ পদে ছিলেন। এর আগের জিজ্ঞাসাবাদে জমা দেওয়া নথির সঙ্গে সাম্প্রতিক তদন্তে উঠে আসা ডিজিটাল ও ব্যাংক নথির কোনো অমিল রয়েছে কি না, তা মেলানো হচ্ছে। এই মামলায় ধৃত বা যুক্ত অন্যান্য ব্যক্তিদের বয়ানের পরিপ্রক্ষিতে তথ্য যাচাই করা হচ্ছে।
আইনি ও রাজনৈতিক মহলের মতে, তৃণমূলের সেকেন্ড-ইন-কমান্ডের উপর আইনি চাপ ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে, কারণ তিনি পরপর ৩ দিন ৩টি পৃথক মামলার তদন্তের বৃত্তে রয়েছেন। রবিবার (১৪ জুন): বিধানসভায় সই-জালিয়াতি সংক্রান্ত একটি মামলায় রাজ্য সিআইডি (CID) ভবানী ভবনে তাঁকে দীর্ঘক্ষণ জিজ্ঞাসাবাদ করে। আজ সোমবার (১৫ জুন) প্রাথমিকে নিয়োগ দুর্নীতির আর্থিক তছরুপের মামলায় সিজিও কমপ্লেক্সে ইডির জেরা চলছে। আগামীকাল মঙ্গলবার (১৬ জুন) অন্য একটি মামলায় সিআইডি (CID)-র পক্ষ থেকে তাঁকে পুনরায় তলব করা হয়েছে বলে রাজনৈতিক মহলে জল্পনা রয়েছে।
বিগত সময়ের তুলনায় এবার সিজিও কমপ্লেক্স চত্বরে তৃণমূল কর্মী-সমর্থকদের ভিড় বা কোনো বড় রাজনৈতিক জমায়েত চোখে পড়েনি। আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে সিজিও কমপ্লেক্সের চারপাশে স্বাভাবিক নিরাপত্তা বজায় রাখা হয়েছে। এই তলব প্রসঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেসের দাবি, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবেই কেন্দ্রীয় সংস্থাকে ব্যবহার করে হেনস্থা করা হচ্ছে। অন্যদিকে, বিজেপি সহ বিরোধী শিবিরের বক্তব্য, কোটি কোটি টাকার নিয়োগ দুর্নীতির সঠিক তদন্তের স্বার্থে এবং বঞ্চিত যোগ্য চাকরিপ্রার্থীদের ন্যায়বিচারের জন্য এই আইনি প্রক্রিয়া অত্যন্ত প্রয়োজনীয়।