প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-শেষ মুহূর্তের চরম উৎকণ্ঠার অবসান। সমস্ত জল্পনা এবং আইনি টানাপোড়েনের পর অবশেষে কলকাতার সিআইডি সদর দফতর ভবানী ভবনে হাজিরা দিলেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। কলকাতা হাইকোর্টের বেঁধে দেওয়া বিকেল ৬টার ডেডলাইন পার হওয়ার ঠিক কয়েক মিনিট আগেই দিল্লি থেকে উড়ে এসে সোজা সিআইডি দফতরে ঢোকেন হেভিওয়েট এই নেতা। বিধানসভায় সই জালিয়াতির মতো অত্যন্ত সংবেদনশীল মামলার তদন্তে আজ তাঁকে মুখোমুখি হতে হচ্ছে গোয়েন্দাদের বিশেষ দলের (SIT)।

আইনি লড়াইয়ের মঞ্চে আজ দিনভর চলেছে টানটান উত্তেজনা। বিচারপতি কৌশিক চন্দের একক বেঞ্চ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে সাফ জানিয়ে দেয়, আজ বিকেল ৬টার মধ্যেই তদন্তকারীদের সামনে হাজিরা দিতে হবে। তবে রাজনৈতিকভাবে এই মেগা জিজ্ঞাসাবাদ ঘিরে যখন উত্তাপ তুঙ্গে, ঠিক তখনই আদালত অভিষেককে আগামী ৩ সপ্তাহের জন্য একটি অন্তর্বর্তীকালীন আইনি রক্ষাকবচও দিয়েছে। যার অর্থ, এই ৩ সপ্তাহ সিআইডি তাঁর বিরুদ্ধে কোনো কড়া পদক্ষেপ বা গ্রেফতারির মতো পথে হাঁটতে পারবে না। আইনি বিশেষজ্ঞদের মতে, এই রক্ষাকবচ অভিষেক শিবিরের জন্য সাময়িক স্বস্তি হলেও, আজ ভবানী ভবনে হাজিরা এড়ানোর কোনো রাস্তা তাঁর সামনে খোলা ছিল না।

এর আগে সিআইডি-র পাঠানো পরপর তিনটি সমন এড়িয়ে গিয়েছিলেন তৃণমূলের এই শীর্ষ নেতা। কখনো শারীরিক অসুস্থতা, আবার কখনো দিল্লির রাজনৈতিক কর্মসূচির কারণ দেখিয়ে ভবানী ভবনে যাননি তিনি। গোয়েন্দারাও পাল্টা চাপ বাড়িয়ে ক্যামাক স্ট্রিটের অফিস এবং কালীঘাটের দলীয় কার্যালয়ে ম্যারাথন তল্লাশি চালায়। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, আজ যদি অভিষেক হাজিরা না দিতেন, তবে আদালতের চরম রোষের মুখে পড়তে হতো তাঁকে। আর সেই কারণেই দিল্লির সমস্ত কর্মসূচি কাটছাঁট করে আজ কলকাতায় নামতে বাধ্য হন তিনি।

সূত্রের খবর, এবার আর পাঁচটা সাধারণ জিজ্ঞাসাবাদের মতো মৌখিক প্রশ্নোত্তর পর্বে সীমাবদ্ধ থাকছে না সিআইডি। রাজনৈতিক জলঘোলা এবং পরবর্তীতে বয়ান বদলের বিতর্ক এড়াতে তদন্তকারীরা এক অভিনব কৌশল নিয়েছেন। গোয়েন্দারা আগে থেকেই একটি বিশেষ প্রশ্নমালা তৈরি করে রেখেছেন। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে সেই প্রশ্নগুলির উত্তর মুখে বললে হবে না, নিজের হাতে লিখে এবং নিচে সই করে জমা দিতে হবে। যেহেতু মামলাটি সই জালিয়াতি সংক্রান্ত, তাই এই ‘হ্যান্ডরাইটিং’ বা হাতের লেখাই পরবর্তীতে ফরেনসিক পরীক্ষার ক্ষেত্রে তদন্তের সবচেয়ে বড় হাতিয়ার হতে পারে বলে মনে করছেন দুঁদে গোয়েন্দারা।

মামলার প্রেক্ষাপটটি অত্যন্ত চাঞ্চল্যকর। বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা হিসেবে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের নাম প্রস্তাব করার একটি চিঠিতে তৃণমূলেরই একাধিক বিধায়কের সই জাল করার অভিযোগ ওঠে। দলেরই দুই বিক্ষুব্ধ বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সন্দীপন সাহার বিস্ফোরক অভিযোগের ভিত্তিতে প্রথমে হেয়ার স্ট্রিট থানায় এফআইআর দায়ের হয়। মামলার গুরুত্ব বুঝে পরবর্তীতে রাজ্য পুলিশের ডিরেক্টরেট সিআইডি এই তদন্তের দায়িত্ব নেয় এবং একটি স্পেশাল ইনভেস্টিগেশন টিম (SIT) গঠন করে।আজকের এই হাজিরা রাজ্যের রাজনীতিতে এক নতুন মোড় এনে দিল। একদিকে আদালতের রক্ষাকবচ, অন্যদিকে সিআইডি-র লিখিত জবাবের ফাঁদ— ভবানী ভবনের ভেতরে চলা এই হাইভোল্টেজ জিজ্ঞাসাবাদের জল শেষ পর্যন্ত কোন দিকে গড়ায়, এখন সেদিকেই তাকিয়ে গোটা রাজ্য।