প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-ওবিসি (OBC) সংশোধনী বিল পাসের দিনে বিধানসভায় তীব্র ফাটল দেখা দিল ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন ‘বিদ্রোহী’ তৃণমূল শিবিরে। আইএসএফ (ISF) বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকির আনা ভোটাভুটির দাবিতে ঋতব্রতর নেতৃত্বে একদল বিধায়ক যখন নাটকীয়ভাবে ওয়াকআউট বা কক্ষত্যাগ করছেন, ঠিক তখনই দলের নির্দেশ উড়িয়ে বিধানসভার অধিবেশন কক্ষের ভেতরেই বসে রইলেন ৫ বিধায়ক। এই ৫ বিধায়ক হলেন ক্যানিং পূর্বের বিধায়ক বাহারুল ইসলাম, হাসনের কাজল শেখ, বসিরহাট উত্তরের তৌফিকুর (তৌসিফুর) রহমান, সাগরদিঘির বায়রন বিশ্বাস এবং মুরারইয়ের বিধায়ক ডা: মোশারফ হোসেন।
বিধানসভা সূত্রে জানা গেছে, স্পিকার রথীন্দ্র বসু যখন ওবিসি বিল নিয়ে ভোটাভুটির (ডিভিশন) নির্দেশ দেন, তখন ওয়াকআউট করা নিয়ে ঋতব্রত শিবিরের অন্দরে কোনো স্পষ্ট সমন্বয় ছিল না। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়, সন্দীপন সাহা বা শিউলি সাহারা তড়িঘড়ি বেরিয়ে গেলেও এই ৫ বিধায়ক কক্ষের ভেতরেই আটকে পড়েন। তাঁদের দাবি, ঠিক কী কারণে বিধানসভা কক্ষ ছেড়ে হঠাৎ বেরোতে হবে, তা তাঁরা সময়মতো বুঝতেই পারেননি। নির্দিষ্ট সময় পেরিয়ে যাওয়ায় নিয়ম মেনে তাঁদের বাইরে বেরোতেও বাধা দেওয়া হয়।
ওয়াকআউট না করে হাউজের ভেতরে থেকে যাওয়ার পরই এক নজিরবিহীন রাজনৈতিক দৃশ্যের সাক্ষী হয় বিধানসভা। অধিবেশন কক্ষে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী উপস্থিত হতেই এই বিধায়কেরা তড়িঘড়ি মুখ্যমন্ত্রীর আসনের দিকে এগিয়ে যান এবং তাঁর সঙ্গে বেশ কিছুক্ষণ কথা বলেন। এরপর তাঁরা নিজেদের আসনে ফিরে যান। ঋতব্রত শিবিরের এই সিদ্ধান্তহীনতার মাঝেই তড়িঘড়ি মাঠে নামে ‘কালীঘাটপন্থী’ তৃণমূল। বেলেঘাটের বিধায়ক কুণাল ঘোষ সরাসরি ওই ৫ বিধায়কের আসনে গিয়ে তাঁদের অভিনন্দন জানান। কুণাল ঘোষকে বলতে শোনা যায়, “আপনারা ভেতরে থেকে একদম ঠিক কাজ করেছেন, ওরা (ঋতব্রতরা) বেরিয়ে গিয়েছে যাক!”
বিধানসভা কক্ষে থেকে গেলেও রাজনৈতিক ভারসাম্য বজায় রেখেছেন এই পাঁচ বিধায়ক। শেষ পর্যন্ত বিলের পক্ষে ১৮৬টি এবং বিপক্ষে ১৭টি ভোট পড়লেও, এই ৫ জন কিন্তু ভোটাভুটিতে অংশ নেননি, তাঁরা ভোটদান থেকে বিরত থাকেন। তবে রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, ওবিসি বিলের মতো একটি স্পর্শকাতর বিষয়ে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের ওয়াকআউটের সিদ্ধান্তকে যেভাবে দলেরই এই বিধায়কেরা মানলেন না, তা আগামী দিনে এই নতুন বিদ্রোহী শিবিরের অভ্যন্তরীণ ফাটলকে আরও বাড়িয়ে তুলবে।