প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-বারুইপুরে নাবালিকা গণধর্ষণ ও খুন মামলার অন্যতম প্রধান অভিযুক্ত প্রভাস মণ্ডলের পুলিশি এনকাউন্টারে মৃত্যুর ঘটনা ঘিরে এই মুহূর্তে উত্তাল রাজ্যের রাজনীতি। তৃণমূল কংগ্রেস এই ঘটনাকে “উত্তরপ্রদেশ মডেল” আখ্যা দিয়ে তীব্র সমালোচনা করার পর, পাল্টা কড়া ভাষায় জবাব দিলেন রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। সরাসরি তৃণমূলকে কাঠগড়ায় তুলে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, অপরাধীদের প্রতি সরকারের নীতি ‘জিরো টলারেন্স’।
তৃণমূলের এনকাউন্টার বিরোধিতার কড়া সমালোচনা করে বুধবার মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল প্রশ্ন তোলেন, “বাচ্চা মেয়েটিকে কী নির্মম যন্ত্রণা দিয়ে মারা হয়েছে। তৃণমূল কি এই ধরনের অত্যাচারকে সমর্থন করছে?” বিগত সরকারের ভূমিকার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি আরও বলেন, “অবশ্য গত ১৫ বছরে তো তৃণমূল এটাই সমর্থন করেছে। আমাদের মা-বোনেদের অপমান করা হয়েছে, নির্যাতিতাদের চরিত্র নিয়ে কাটাছেঁড়া করা হয়েছে। ধর্ষণের ঘটনার ক্ষেত্রেও ‘রেট বেঁধে দেওয়া’ হয়েছে ক্ষতিপূরণ দিয়ে মুখ বন্ধ করার জন্য। বাংলার মানুষ ইভিএমে এর জবাব দিয়েছে।”
নতুন সরকারের কড়া মনোভাব স্পষ্ট করে নারী ও শিশুদের সুরক্ষায় অপরাধীদের উদ্দেশ্যে কড়া বার্তা দিয়েছেন অগ্নিমিত্রা পাল। তিনি বলেন, “মাত্র ৫০ দিনের মধ্যেই আমাদের সরকার জিরো টলারেন্স নীতির নমুনা দেখিয়ে দিয়েছে। মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী কড়া বার্তা দিয়েছেন। যাঁরা এখনও ভাবছেন মহিলাদের হেনস্থা করবেন বা পার পেয়ে যাবেন, তাঁরা সতর্ক হয়ে যান। দিদিভাই হিসেবে আমি দুষ্টু ভাইদের পরামর্শ দেব, সোজা রাস্তায় চলুন, অপরাধ করলে আপনাদের বাঁচানোর মতো কেউ থাকবে না।”
গত ৪ঠা জুলাই নিখোঁজ হওয়ার পর বারুইপুরের সূর্যপুরের একটি পুকুর থেকে ১২ বছরের এক নাবালিকার মৃতদেহ উদ্ধার হয়। তাকে গণধর্ষণ ও খুন করা হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে, যা ঘিরে রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় গোটা এলাকা। ঘটনার তদন্তে পুলিশ মূল অভিযুক্ত প্রভাস মণ্ডলসহ চারজনকে গ্রেফতার করে।মঙ্গলবার গভীর রাতে পুলিশ অভিযুক্ত প্রভাস মণ্ডলকে নিয়ে ঘটনার পুনর্নির্মাণের জন্য ক্রাইম সিনের উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। পুলিশের দাবি, সেই সময় আচমকাই প্রভাস এক পুলিশকর্মীর আগ্নেয়াস্ত্র ছিনিয়ে নিয়ে পালানোর চেষ্টা করে এবং গুলি চালায়। আত্মরক্ষার্থে পুলিশ পাল্টা গুলি চালালে ঘটনাস্থলেই প্রভাস মণ্ডলের মৃত্যু হয়। এই এনকাউন্টার নিয়ে বিরোধীরা সুপরিকল্পিত চিত্রনাট্যের অভিযোগ তুললেও, রাজ্য সরকার এবং বিজেপি নেতৃত্ব স্পষ্ট করে দিয়েছে যে অপরাধীদের বিরুদ্ধে প্রশাসন কোনো রকম আপস করবে না। মন্ত্রীর এই মন্তব্যের পর রাজ্য রাজনীতিতে বাগযুদ্ধ আরও তীব্র রূপ নিয়েছে।