প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-একদিনের ঝোড়ো অভিযানেই ওলটপালট হয়ে গেল সমস্ত হিসেবনিকেশ। ২৪ ঘণ্টাও কাটেনি, তার মধ্যেই বিপুল অঙ্কের টাকা চলে গেল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার নিয়ন্ত্রণে। পাঁচটি আলাদা ঠিকানায় ম্যারাথন তল্লাশি চালানোর পর, এবার এক ধাক্কায় প্রায় ৪৪০ কোটি টাকার তহবিল সম্পূর্ণ নিষ্ক্রিয় বা ফ্রিজ করে দিল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED)।
তদন্তকারী সূত্রের খবর, একটি নামী বেসরকারি ব্যাঙ্কের তিনটি নির্দিষ্ট অ্যাকাউন্টের ওপর জারি করা হয়েছে এই নিষেধাজ্ঞা। আর্থিক তছরুপ প্রতিরোধ আইন (PMLA)-এর ধারা মেনে এই কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। ইডির দাবি, সংশ্লিষ্ট অ্যাকাউন্টগুলির মাধ্যমে যে সমস্ত আর্থিক লেনদেন হয়েছে, তার গতিপ্রকৃতি অত্যন্ত জটিল এবং সন্দেহজনক।
গতকাল অর্থাৎ মঙ্গলবার থেকেই শহরের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ডেরায় তল্লাশি শুরু করেন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দারা। সূত্র মারফত পাওয়া কিছু সুনির্দিষ্ট তথ্যের ওপর ভিত্তি করেই এই ঝোড়ো অভিযান চালানো হয়। দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদের পর ব্যাঙ্কিং নথিতে বেশ কিছু অসঙ্গতি ধরা পড়ে। এর পরেই ওই ৩টি অ্যাকাউন্টে থাকা ৪৪০ কোটি টাকার সমস্ত রকম লেনদেন বা ‘ডেবিট’ প্রক্রিয়া স্তব্ধ করে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয় ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষকে। যার অর্থ, আপাতত এই বিপুল তহবিল থেকে একটি টাকাও তুলতে বা অন্য কোথাও সরাতে পারবে না দল।
তহবিলের এই কোটি কোটি টাকার উৎস কী? কারা এই বিপুল অঙ্ক জমা করেছিলেন, আর সেই টাকাই বা কোন কোন খাতে ব্যবহার করার পরিকল্পনা ছিল— এখন তা জানতেই বাকি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টগুলির দিকেও নজর রাখছেন গোয়েন্দারা। এই মেগা অ্যাকশনের পর স্বাভাবিকভাবেই তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে সংশ্লিষ্ট মহলে। এখন দেখার, এই ৪৪০ কোটির ‘টাকা-রহস্যের’ জল আগামী দিনে কতদূর গড়ায়।