প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট- আজ ২৩ এপ্রিল, ২০২৬। পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফার ভোটগ্রহণকে কেন্দ্র করে সাতসকালেই রাজ্যজুড়ে উত্তেজনার পারদ তুঙ্গে। উত্তরের পাহাড় থেকে দক্ষিণের উপকূল—সব মিলিয়ে আজ রাজ্যের ১৬টি জেলার ১৫২টি আসনে চলছে হাইভোল্টেজ ভোটযুদ্ধ। ঠিক এই সন্ধিক্ষণে সরাসরি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভোটারদের উদ্দেশে বড় বার্তা দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।
আজ সকালে নিজের সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেলে প্রধানমন্ত্রী পশ্চিমবঙ্গের জনগণকে ‘গণতন্ত্রের উৎসবে’ সামিল হওয়ার ডাক দেন। তিনি বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন নতুন প্রজন্মের ভোটার এবং মহিলাদের ওপর। প্রধানমন্ত্রী লিখেছেন, “আমি বিশেষভাবে আমার তরুণ বন্ধুদের এবং পশ্চিমবঙ্গের মহিলাদের বিপুল সংখ্যায় ভোট দেওয়ার জন্য অনুরোধ করছি”। ভোটদানকে একটি পবিত্র গণতান্ত্রিক কর্তব্য হিসেবে অভিহিত করে রেকর্ড সংখ্যক মানুষকে বুথমুখী হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
আজ রাজ্যের কোচবিহার, আলিপুরদুয়ার, জলপাইগুড়ি, দার্জিলিং, কালিম্পং থেকে শুরু করে দুই দিনাজপুর, মালদা, মুর্শিদাবাদ, বীরভূম এবং দুই মেদিনীপুরের একাধিক কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ চলছে। প্রথম দফার এই নির্বাচনে প্রায় ৩.৬০ কোটি ভোটার তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করছেন। মোট ভোটারদের মধ্যে ১.৮৪ কোটি পুরুষ এবং ১.৭৫ কোটি মহিলা ভোটার রয়েছেন। রাজ্যজুড়ে ৪৪,৩৭৬টিরও বেশি পোলিং বুথ স্থাপন করা হয়েছে।
ভোট অবাধ ও শান্তিপূর্ণ করতে কড়া ব্যবস্থা নিয়েছে নির্বাচন কমিশন। মোতায়েন করা হয়েছে প্রায় ২,৪০৭ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী (CAPF) এবং ২.৪ লক্ষেরও বেশি নিরাপত্তা কর্মী। এছাড়াও ৮,০০০-এর বেশি বুথকে ‘সুপার সেনসিটিভ’ হিসেবে চিহ্নিত করে বিশেষ নজরদারি চালানো হচ্ছে।
আজকের দফায় রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী (নন্দীগ্রাম), দিলীপ ঘোষ (খড়্গপুর সদর), নিশীথ প্রামাণিক, এবং উদয়ন গুহর মত ওজনদার প্রার্থীদের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নির্ধারিত হচ্ছে।
নির্বাচন কমিশনের নতুন নিয়ম এবং বিশেষ নিবিড় সংশোধনীর (SIR) পর এটিই রাজ্যের প্রথম বড় পরীক্ষা। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, উত্তরবঙ্গের ৫৪টি আসন এবং দক্ষিণবঙ্গের গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি জেলা আজকের দফায় থাকায় জয়-পরাজয়ের সমীকরণ পাল্টে যেতে পারে মুহূর্তের মধ্যেই। প্রধানমন্ত্রীর আজকের এই সরাসরি আবেদন সেই উত্তেজনায় নতুন মাত্রা যোগ করল বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। আজকের এই দফায় মানুষের ব্যাপক অংশগ্রহণই বলে দেবে আগামী ৪ মে ফলাফলের দিনে নবান্নের দখল কার হাতে যাচ্ছে।