প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-বাংলার রাজনীতিতে আজ এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দিন। ১৬টি জেলার ১৫২ টি বিধানসভা আসনে শুরু হয়েছে ২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফার ভোটগ্রহণ। এই আবহে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের একটি সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। যেখানে তিনি সরাসরি বাংলার ‘ডেমোগ্রাফি পরিবর্তন’, ‘অনুপ্রবেশ’ এবং ‘সিন্ডিকেট রাজ’ নিয়ে মুখ খুলেছেন।

অমিত শাহ তার পোস্টে স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, এই নির্বাচন কেবল বর্তমানের নয়, বরং বাংলার ভবিষ্যতের জন্য এক সন্ধিক্ষণ। তিনি অভিযোগ করেন, বছরের পর বছর ধরে রাজ্যে চলা অনুপ্রবেশ বাংলার জনবিন্যাস বা ডেমোগ্রাফি বদলে দিচ্ছে। তার দাবি, একমাত্র একটি শক্তিশালী নেতৃত্বের সরকারই পারে বাংলাকে অনুপ্রবেশকারী, সিন্ডিকেট এবং ‘কাটমানি’ সংস্কৃতি থেকে মুক্ত করতে।

প্রথম দফায় উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গের মোট ১৫২টি আসনে ভোটগ্রহণ চলছে। প্রায় ৩.৬০ কোটি ভোটার আজ তাদের রায়দান করছেন। অবাধ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন সুনিশ্চিত করতে নির্বাচন কমিশন রেকর্ড ২,৪৫০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী (প্রায় ২.৫ লক্ষ জওয়ান) মোতায়েন করেছে।
সকাল ৭টা থেকে শুরু হয়ে ভোটগ্রহণ চলবে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, অমিত শাহ এই পোস্টের মাধ্যমে ভোটারদের কাছে তিনটি প্রধান ইস্যুকে সামনে এনেছেন। বিজেপি বরাবরই অভিযোগ করে আসছে যে সীমান্ত পেরিয়ে আসা অনুপ্রবেশকারীরা বাংলার সুরক্ষার জন্য বড় হুমকি। শাহ আজ ফের সেই তাসই খেলেছেন। ‘কাটমানি’ এবং সিন্ডিকেট রাজকে কেন্দ্র করে রাজ্যের সাধারণ মানুষের মধ্যে যে অসন্তোষ রয়েছে, ভোট চলাকালীন সেই ক্ষোভকে উসকে দিতে চেয়েছেন তিনি। শাহ তার বার্তায় বাংলার ‘মা ও মেয়েদের’ জন্য নিরাপদ পরিবেশ গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

অন্যদিকে, রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস এই অভিযোগগুলিকে ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছে। তাদের দাবি, কেন্দ্রীয় সংস্থা ও বাহিনীকে ব্যবহার করে ভোটারদের প্রভাবিত করার চেষ্টা করছে বিজেপি। তবে প্রথম দফার এই ভোট শেষ পর্যন্ত কার দিকে পাল্লা ভারি করবে, তা জানা যাবে আগামী ৪ মে ফলাফল ঘোষণার পর।