প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-
সম্প্রতি কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার তল্লাশি চলাকালীন সেখানে যেভাবে মুখ্যমন্ত্রী পৌঁছে গিয়েছিলেন এবং আইপ্যাকের অফিস ও প্রতীক জৈনের বাড়ি থেকে তিনি বেশ কিছু ফাইলপত্র নিয়ে বেরিয়ে এসেছিলেন, তা নিয়ে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠেছে। পরবর্তীতে গোটা বিষয়টি নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী সহ একাধিক প্রশাসনিক কর্তাদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে আদালতের শরণাপন্ন হয়েছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ইডি। পাল্টা তৃণমূলের পক্ষ থেকেও মামলা দায়ের করা হয়েছিল। গত শুক্রবার এই মামলার শুনানি ছিলো। কিন্তু শুনানি শুরু হতে না হতেই ব্যাপক হট্টগোল এজলাসে শুরু হয়। প্রচুর মানুষ সেখানে ভিড় জমিয়ে ফেলেন। যার ফলে সেই শুনানি পিছিয়ে দেওয়ার কথা ঘোষণা করেন বিচারপতি। অবশেষে আজ সেই মামলার শুনানি রয়েছে কলকাতা হাইকোর্টে। তবে এবার আগেভাগেই বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করে কড়া বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে আদালত।

প্রসঙ্গত, গত শুক্রবার যখন ইডি এবং তৃণমূল, দুজনেরই করা মামলার শুনানির দিকে তাকিয়ে ছিল রাজ্যবাসী, তখন হঠাৎ করেই সেই শুনানি পিছিয়ে দেওয়ার কথা ঘোষণা করেন বিচারপতি শুভ্রা ঘোষ। কারণ হিসেবে জানানো হয় যে, এজলাসে প্রচুর পরিমাণে ভিড় হয়েছে এবং বিচারপতি বারবার করে তা সামলানোর চেষ্টা করলেও, শেষ পর্যন্ত তিনি ব্যর্থ হন। যার ফলে সেই শুনানি পিছিয়ে দেওয়ার কথা জানিয়ে দেন বিচারপতি। পরবর্তীতে বিভিন্ন মহল থেকে আবার এই গুঞ্জন রটতে শুরু করে যে, তৃণমূলের আইনজীবী সেলের পক্ষ থেকে সেদিন যাতে মামলার শুনানি না হয়, তার জন্য পরিকল্পনামাফিক এজলাসে ভিড় করে এই বিশৃঙ্খলা তৈরি করার চেষ্টা হয়েছিল। যে বিষয়টি নিয়েও বিভিন্ন মহলে চর্চা হচ্ছে। তবে আজ অবশেষে ইডি এবং তৃণমূল, দুজনেরই দায়ের করা মামলার শুনানি হতে চলেছে কলকাতা হাইকোর্টে। তবে এবারে শুনানির ক্ষেত্রে যাতে কোনোরকম বিশৃঙ্খলা না হয়, তার জন্য আগেভাগেই পদক্ষেপ নিয়েছে আদালত।

সূত্রের খবর, ইতিমধ্যেই কলকাতা হাইকোর্টের প্রশাসনিক স্তর থেকে একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে। যেখানে জানানো হয়েছে যে, ইডি এবং তৃণমূল, দুজনেরই দায়ের করা এই মামলার শুনানিতে শুধুমাত্র সেই মামলার সঙ্গে যে সমস্ত আইনজীবীরা যুক্ত, তারাই উপস্থিত থাকতে পারবেন। এক্ষেত্রে রুদ্ধদ্বার শুনানি হবে বলেই জানা যাচ্ছে। তবে এজলাসে শান্তিপূর্ণভাবে শুনানির ক্ষেত্রে এই সিদ্ধান্ত না হলেও লাইভ স্ট্রিমিংয়ে সকলেই গোটা শুনানি দেখতে পারবেন বলেই খবর পাওয়া গিয়েছে। সব মিলিয়ে শেষ পর্যন্ত আজকের শুনানিতে কি উঠে আসে, কি নির্দেশ দেয় কলকাতা হাইকোর্ট, সেদিকেই নজর থাকবে সকলের।