প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-একুশে জুলাইয়ের মেগা সমাবেশের ঠিক মুখেই জোর ধাক্কা খেল কালীঘাট শিবির। দলের ভাঙনের পর কারা ‘আসল তৃণমূল কংগ্রেস’—তা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে চলা জল্পনা ও আইনি লড়াইয়ের অবসান ঘটল। দলীয় কর্মীদের দায়ের করা একটি মামলার ঐতিহাসিক রায় ঘোষণা করে আলিপুর আদালত সাফ জানিয়ে দিল, ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন শিবিরটিই হল ‘আসল তৃণমূল’। অরূপ রায়কে সর্বভারতীয় চেয়ারপার্সন করে যে মূল কমিটি গঠিত হয়েছিল, আইনি পরিভাষায় সেটিই দলের প্রকৃত পরিচয়।

তৃণমূলের অন্দরে আড়াআড়ি বিভাজনের পর সাধারণ কর্মী ও নিচুতলার সমর্থকদের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছিল যে তাঁরা ঠিক কোন শিবিরকে আসল দল হিসেবে মেনে এগোবেন। এই আইনি জটিলতার স্থায়ী ফয়সালা চেয়ে ঘাসফুল শিবিরের কর্মীরাই আদালতের দ্বারস্থ হন। আজ এই মামলাতেই বড় রায় দেয় আলিপুর আদালত। এক সাংবাদিক বৈঠকে স্বয়ং ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় এই রায় পাওয়ার খবর সামনে এনেছেন। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, আদালতের এই রায়ের সার্টিফাইড কপি হাতে পেলেই তাঁরা পরবর্তী পদক্ষেপের জন্য নির্বাচন কমিশনের (ECI) কাছে দ্বারস্থ হবেন।

কাকতালীয়ভাবে, একদিকে লালবাজারের তরফ থেকে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের গোষ্ঠীকে গান্ধী মূর্তির পাদদেশে ২১শে জুলাইয়ের শহিদ সভা করার আনুষ্ঠানিক অনুমতি দেওয়া হয়েছে। তার ওপর এই আলিপুর আদালতের ‘আসল তৃণমূল’ তকমা পাওয়ার রায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কালীঘাট শিবিরের অস্বস্তি বহুগুণ বাড়িয়ে দিল। উল্লেখ্য, কালীঘাট তৃণমূল এখনও ২১শে জুলাইয়ের সভার অনুমতি না পেয়ে কলকাতা হাইকোর্টের দরজায় কড়া নাড়ছে। আদালতের এই জোড়া ধাক্কা সমাবেশের প্রাক্কালে বাংলার ক্ষমতা দখলের লড়াইয়ে ঋতব্রতদের কয়েক কদম এগিয়ে দিল বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।