প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-উৎসবের মরশুম শেষ হতেই বঙ্গে বেজে গিয়েছে পুরভোটের দামামা। কলকাতা ও হাওড়া পুরসভার নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক দলগুলির প্রার্থী চয়ন ও কৌশল নির্ধারণ যখন তুঙ্গে, ঠিক তখনই জোট জল্পনা নিয়ে অত্যন্ত কড়া ও চূড়ান্ত অবস্থান স্পষ্ট করল গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেস (DTC)। গতকাল, ২৩ অক্টোবর ২০২৬ (শুক্রবার) বাইপাসের ধারের তৃণমূল অফিসে আয়োজিত এক হাইপ্রোফাইল সাংগঠনিক বৈঠক শেষে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে দলের চেয়ারম্যান তথা বিধায়ক অরূপ রায় সাফ জানিয়ে দিলেন, পুরভোটে তাঁরা সম্পূর্ণ একক শক্তিতে লড়াই করবেন। কালীঘাট শিবির অর্থাৎ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস (MAITC) এবং মুখপাত্র কুণাল ঘোষের পক্ষ থেকে জল্পনা ছড়ানো হয়েছিল যে, ন্যাশনালিস্ট সিটিজেন্স পার্টি অফ ইন্ডিয়া (NCPI) বা সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন শিবিরের সঙ্গে অরূপ রায়দের তলে তলে যোগাযোগ রয়েছে। সেই জল্পনা সম্পূর্ণ খারিজ করে দিয়ে অরূপ রায় বলেন— “NCPI-এর সঙ্গে আমাদের কোনও সম্পর্ক নেই। NCPI আলাদা পার্টি। তারা BJP-এর সঙ্গে জোট করেছে (মার্জ করেছে)। আমাদের সঙ্গে কোনও সম্পর্ক নেই…। আমরা একাই লড়ব।”
কয়েকদিন আগেই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী দাবি করেছিলেন, বিধানসভায় আস্থা ভোট হলে ৬৪ জন বিক্ষুব্ধ বিধায়ক তাঁকে সমর্থন করবেন। এই প্রেক্ষাপটে অরূপ রায়কে প্রশ্ন করা হয়, তাঁরা বিজেপির সঙ্গে কোনও সমঝোতায় যাচ্ছেন কি না। জবাবে অরূপ রায় অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “ব্যক্তিগতভাবে কার মনের মধ্যে কী রয়েছে জানি না, কিন্তু আমি ব্যক্তিগতভাবে কখনওই না। আমরাই অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস। আমরাই আসল তৃণমূল কংগ্রেস।”
শুক্রবার তৃণমূল ভবনে আয়োজিত এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে অরূপ রায় ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন ববি হাকিম ও মদন মিত্রের মত শীর্ষস্থানীয় বিক্ষুব্ধ নেতারা। তবে রণকৌশল নিয়ে দলের অভ্যন্তরে কিছুটা ভিন্ন সুরও দেখা গিয়েছে। কামারহাটির বিধায়ক মদন মিত্র বিজেপির একাধিপত্য রুখতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মূল শিবিরের সঙ্গে একজোট হয়ে লড়াইয়ের পক্ষে সওয়াল করেছেন। মদন মিত্র বলেন, “সবাই একসঙ্গে লড়াই করলে কলকাতা পুরসভায় বিজেপিকে হারানো সহজ হবে। আলাদা লড়লে ভোট ভাগ হয়ে যাবে।” যদিও চেয়ারম্যান অরূপ রায় স্পষ্ট করেছেন, কলকাতা ও হাওড়ার সমস্ত আসনেই তাঁরা এককভাবে প্রার্থী দেওয়ার জন্য প্রস্তুত হচ্ছেন এবং আগামী ৩০ অক্টোবর প্রতীক সংক্রান্ত বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তের পরই চূড়ান্ত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।