প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-রাজ্য রাজনীতিতে ফের চাঞ্চল্য। এবার প্রতারণা ও ক্ষমতার অপব্যবহার করে কোটি টাকার সম্পত্তি জবরদখলের মারাত্মক অভিযোগে আইনি জালে জড়ালেন কলকাতা পুরসভার প্রাক্তন ডেপুটি মেয়র ও হেভিওয়েট নেতা অতীন ঘোষ. শুধু তিনিই নন, এই মামলায় নাম জড়িয়েছে তাঁর কন্যা প্রিয়দর্শিনী ঘোষ এবং জামাই শান বাওয়ারও। জমি ও বাড়ি জালিয়াতির এই ঘটনায় তাঁর বিরুদ্ধে বিধাননগর উত্তর থানায় একটি এফআইআর (FIR) দায়ের করা হয়েছে। তদন্তের স্বার্থে আগামী ২৬ জুন অতীন ঘোষসহ তাঁর পরিবারকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করেছে পুলিশ।
সল্টলেকের বাসিন্দা এবং ‘দি শোভরাণী’ হোটেলের মালিক এক ব্যবসায়ী পরিবারের পক্ষ থেকে কমলিনী পাল এই লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০১৭ সালে অতীন ঘোষ যখন কলকাতা পুরসভার ডেপুটি মেয়র পদে আসীন ছিলেন, তখন তিনি পদের প্রভাব খাটিয়ে ইএম বাইপাস লাগোয়া মেট্রোপলিটন এলাকার একটি মূল্যবান তিনতলা বাংলো বাড়ি জবরদখল করেন। প্রায় ৪ কোটি টাকা বাজারমূল্যের ওই সম্পত্তিটি ভয় দেখিয়ে এবং লাগাতার রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টি করে মাত্র ৫০ লক্ষ টাকায় (২৫ লক্ষ টাকার দুটি চেক) লিখিয়ে নেওয়া হয় বলে অভিযোগকারিণীর দাবি। পরবর্তীতে ওই ব্যবসায়ী পরিবারটি সুদসহ সমস্ত টাকা ফেরত দিয়ে নিজেদের বাড়ি ফিরে পেতে চাইলে তাঁদের অ্যাকাউন্ট ব্লক করে দেওয়া হয় এবং প্রাণনাশের হুমকি পর্যন্ত দেওয়া হয় বলে এফআইআর-এ উল্লেখ রয়েছে।
অভিযোগ পাওয়ার পরই তৎপরতা বাড়িয়েছে বিধাননগর উত্তর থানার পুলিশ। প্রতারণা, ভয় দেখানো, হুমকি ও অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রসহ মোট ৬টি জামিন অযোগ্য ধারায় মামলা রুজু হয়েছে। ইতিমধ্যেই ঘটনার আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত সমস্ত ব্যাঙ্কিং নথি এবং রেজিস্ট্রি অফিসের কাগজপত্র খতিয়ে দেখতে শুরু করেছেন তদন্তকারীরা। আগামী ২৬ জুন অতীন ঘোষ, প্রিয়দর্শিনী ও তাঁর জামাইকে সশরীরে থানায় হাজির হওয়ার জন্য নোটিস পাঠানো হয়েছে।
পশ্চিমবঙ্গের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর থেকেই পূর্বতন শাসকদলের একাধিক হেভিওয়েট নেতার বিরুদ্ধে দুর্নীতি, তোলাবাজি ও সিন্ডিকেট রাজের অভিযোগে একের পর এক আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। ২০২১ সালের নির্বাচনে কাশীপুর-বেলগাছিয়া কেন্দ্র থেকে তৃণমূলের টিকিটে জিতলেও, ২০২৬-এর নির্বাচনে বিজেপির রীতেশ তিওয়ারির কাছে পরাজিত হন অতীন ঘোষ। এরপর শীর্ষ নেতৃত্বের একাংশের বিরুদ্ধে তাঁর কিছু মন্তব্য দলের অন্দরেও বিতর্ক তৈরি করেছিল। এই রাজনৈতিক ডামাডোলের মধ্যেই এই কোটি টাকার সম্পত্তি কেলেঙ্কারির অভিযোগ তাঁর রাজনৈতিক ভাবমূর্তিকে এক বড়সড় সংকটের মুখে দাঁড় করিয়ে দিল বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
নিজের বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগ অবশ্য সম্পূর্ণ উড়িয়ে দিয়েছেন এই বর্ষীয়ান নেতা। তিনি সংবাদমাধ্যমকে জানান, “যিনি অভিযোগ করেছেন, তাঁকে আমি চিনিই না। আমার মেয়ে সম্পূর্ণ আইনি প্রক্রিয়া মেনে এবং বৈধ নথির মাধ্যমে ওই সম্পত্তি কিনেছিল। ৫০ বছরের রাজনৈতিক জীবনে কেউ আমার সততা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে পারেনি। তবে তদন্তের স্বার্থে পুলিশ ডাকলে আমি সবরকম সহযোগিতা করতে প্রস্তুত।” অন্যদিকে, তাঁর কন্যা প্রিয়দর্শিনী ঘোষ এই অভিযোগকে ‘ভিত্তিহীন ও কাল্পনিক’ বলে দাবি করে উলটে অভিযোগকারী পরিবারের বিরুদ্ধে মানহানির মামলা করার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।